staff-blog
সাদ্দামের মা

সাদ্দামের মা এখন কোথায় আছেন কে জানে? মাস খানেক আগে শেষবার দেখেছিলাম। হেমন্তের দুপুরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে প্রতিদিনের মত বসে একই ভঙ্গিমায় ভিক্ষে চাইছেন। মুখে কোনও সাড়া শব্দ নেই। আওয়াজ নেই। শরীর স্থির। পাথরের মত। তেলচিটে শতচ্ছিন্ন বোরখা। মুখের সামনে জাল ঘেরা একটা পর্দা। তার ভেতর আড়াল করা আছে সাদ্দামের মায়ের চোখ। সেই চোখের দৃষ্টি কোন পথ বা পথিকের দিকে, তা বোঝা যায় না। ফুটপাথে রাখা এনামেলের বাটি। কিছু রেজগি পড়ে। সাদ্দামের মায়ের শীর্ণ, শিরা বের করা, দড়ির মত পাকিয়ে যাওয়া হাত, হাতের তালু আকাশের নীচে পেতে রাখা। সেই করতলে ছুটে চলেছে গঙ্গা, যমুনা, ঝিলম, কৃষ্ণা, কাবেরী, গোদাবরী। দু-পাশের তীরবর্তী রেখায় কত সভ্যতা, কত নগর, কত গাঁও-গেরস্থালি। বণিকের তরণিসম্ভার। ধোবিঘাটের রোদ্দুরে পেতে রাখা অনন্ত ধবল পোশাক।

staff-blog
staff-blog
এক থা টাইগার
একটি আঁতেল ছবি

দৃশ্য-১ সিনেমা শুরু হতেই দেখা যায় ক্লাসরুমে বাঘের চেয়ার ফাঁকা পড়ে আছে। ক্যামেরা জুম চার্জ করে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে পেরিয়ে যাওয়া ট্রেনের শব্দ। খানিক নিস্তব্ধতা। এরপর গুলি ছোঁড়ার পরপর ঠিস্স্ ঠিস্স্ আওয়াজ ও বাঘের আর্তনাদ, গর্জন।

staff-blog
staff-blog
দেশ

সাদাপাতার সামনে একসময় নিয়ম করে বসতাম। কিছুই লিখতাম হয়ত। কিন্তু কথা হত। এখন যেমন হচ্ছে। নিভৃতের আলাপচারিতা। দু-এক ফোঁটা জল লেগে থাকত পাতার শরীরে। দেখতাম থেমে যাওয়া ঘড়ি দিনে দু-বার সঠিক সময় দিচ্ছে। ছায়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আচমকা বিদ্যুত্ চমকের মত মাথায় আসত দু-একটি লাইন। প্রথমে একটি ঢেউ, তারপর নিরবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের ঘাত প্রতিআঘাত। যেন চারিদিকে সবুজ গাছগাছালি ঝুঁকে থাকা শান্ত নিস্তরঙ্গ পুকুর। ফাঁকা দুপুরে কী এক বাতাস বইছে। ছোট্ট পাথর এখানে ওখানে ধাক্কা খেতে খেতে গড়িয়ে পড়ল জলে। সাদা পাতা জানত এসব কথা।

staff-blog
staff-blog
দেশ

আমি লিখতে চেয়েছিলাম বেশ কয়েকটি মৃত্যুর কথা। মৃতেরা প্রত্যেকেই আমাদের দেশের সন্তান। ধূপকাঠি বিক্রেতা, স্টেশনের অন্ধ ভিখারি, দৌড়বাজ পার্টনার, রেডিওর জিঙ্গল গায়ক, উড়ালপুলের নীচে ফাই ফরমাশ খাটিয়ে আট বছরের টগর, তাকে লক্ষ্য রাখা মালিক, প্রত্যেকেই যেমন আমাদের দেশের সন্তান।

staff-blog
staff-blog
হৃদয়ের সব কথা ঝরে পড়ে নিমের পাতায়

নিমের ডালপালা ছুঁয়ে তেরচা রোদ এসে পড়েছে ঘরের মেঝেতে। কিছুটা বিছানাতেও মাখামাখি হয়ে কুকুরকুণ্ডলীর মতো পা গুটিয়ে পড়ে আছে। দুপুরবেলা কী একটা অজানা পাখি ডাকছে। সেই ডাক শুনে মা এসে দাঁড়াল জানলায়। জানলার ঠিক বাইরেই অতিকায় ঝাঁকড়া নিমগাছ।

staff-blog
apnar-rai
blog-img

বারাসতের কামদানি মোড় কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। মাটি ভিজে। ভেজা পাতায় জংলা গন্ধ। কনে দেখা আলোয় বাড়ি ফিরছিল অনামী অঙ্গনা। ভেড়ির গায়ে বড় পাঁচিল লুকিয়ে আছে ওরা। আর একটু...। তারপরেই ঝাঁপিয়ে পড়বে। ছিঁড়ে, খুঁড়ে খাবে শরীরটাকে।

blog-img

-লিঙ্কটা কোথায় পাঠালে, পেলাম না তো ভাই?...
-পাঠিয়েছি ঋতুদা। মেলটা একবার ভালভাবে চেক করুন।
-আমার ব্ল্যাকবেরি থেকে শুধু ছবি দেখা যাচ্ছে গো। লেখাটা আইপ্যাড থেকে দেখে নিয়ে তোমাকে জানাচ্ছি, কেমন?
চিত্রাঙ্গদা ফিল্মের রিভিউ লিখেছিলাম আমাদের ওয়েবসাইটে। তার পর দিনই মেলবক্স খুলতেই প্রথম মেলটা ওঁর।

blog-img

(মাসে দুটো করে লিখব বলে দু'মাস কেটে গেল। মে মাসের এক তারিখে লিখব বলে হয়ে গেল ছাব্বিশ। কবিগুরুর জন্মদিন পেরিয়ে হাতে রইল পেনসিল। তবু, বেটার লেট দ্যান নেভার..)

blog-img

আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।

  • কুশল মিশ্র

  • ফুলকলি

  • সৌরভ গুহ

  • সুদীপ্ত সেনগুপ্ত

  • সোমশুভ্র মুখোপাধ্যায়

  • অমৃতাংশু ভট্টাচার্য

  • রাহুল পুরকায়স্থ

  • মৌপিয়া নন্দী

  • সাম্যব্রত জোয়ারদার