হেব্বি লাগছে

বছর শেষে একেবারে রগরগে উত্তেজনা। এরমধ্যেই বাংলায় নব্যযুগের নবনায়কের আর্বিভাব। একেবারে আজ কি অর্জুন। একতিরিশে ডিসেম্বরের শরীর হিট করা রাত। দোঘোটের কেরামতিতে মঞ্চে আমরা সবাই রাজা। তিনি মঞ্চে এলেন। পাশে এলি বেলি-দোলানো চেড়ি ড্যান্স। দাদা নাচছেন। ভাই নাচছেন। খইয়ের মতো উড়ছে টাকা। হেব্বি লাগছে তো? দাদার প্রশ্ন। প্রতিষ্ঠাতা দিবস বলে কথা। বীরের এ রক্ত স্রোত মাতার এ অশ্রুধারা তাতে কী চোনা দেওয়া যায়। কত স্বপ্নের বিনিময়ে এই ইজ্জতের পরিবর্তন। বছর শেষে তাঁর স্মরণে যদি একটু ট্যাঙ্গো ড্যান্স না হয় তাইলে চলে। ফুলটুস মস্তি চাই। শহীদ দিবসে পাগলু ড্যান্স দিয়ে বীর সেনানিদের শ্রদ্ধার্ঘ। পথ দেখিয়েছেন দিদি। সেই পথেই তো চলেছে ভাইয়েরা। আপনারা না বড় ইয়ে আছেন। কথায় কথায় সিল্প, সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মানে আমাদের সংস্কিতির জেঠুরা। আরে সংস্কিতি কী শুধু তোমরাই বোঝ? আসলে হিংসা। মনে শখ ষোল আনা, বুকে শুধু লাজ। এস ভাই ময়দানে নাম। দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে। এতো কবিগুরুই বলে গেছেন। তবে আর লজ্জা কী। তার সঙ্গে তিনি এও বলেছেন যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো। তাই আমরা চলি সমুখ পানে। কে আমাদের রুখবে ভাই। হেব্বি লাগছে...

জাগো দলপ্রহরণধারিনী...

গত কয়েকদিন প্রায় পাগল পাগল অবস্থা। রাতে স্বপ্ন দেখলুম জানেন। মানে দুঃস্বপ্ন। গান তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আঁকশি নিয়ে এগিয়ে আসছে। অক্টোপাসের আট-দাঁড়া নিয়ে মাথার চুল খামচে ধরছে। কানে গমগম করে বাজছে জেগে ওঠার গান। যেদিকে তাকাই সোনার আলোর মত। যে দিকে ছুটি সেদিকেই জেগে ওঠার গান। জাগো, তুমি জাগো, জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিনী... ভোর রাতে 'জাগো'র গান, খটখটে রোদ্দুরে 'জাগো'র গান, পড়ন্ত বিকেলে 'জাগো'র গান, বেজেই চলেছে মহালয়া। মহালয়া নয়, একেবারে মহাপ্রলয়া। স্বপ্নের মধ্যেই কাছা তুলে দৌড় লাগালাম। পিচকালো রাস্তার এক মোড় পেরিয়ে নতুন মোড়। হাঁফাচ্ছি। দম নেওয়ার চেষ্টা করছি। ব্যাস আবার শুরু হল। জাগো তুমি জাগো, জাগো দশপ্রহরণধারিনী...