পুজোর মমতা

Updated By: Sep 27, 2016, 08:28 PM IST
পুজোর মমতা

কমলিকা সেনগুপ্ত

ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি পার্ক সার্কাস ময়দানে পুজো প্যান্ডেলের কাছে সিপিআইএম স্টল দিত। বাম জমানার নেতা-মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে পূজো নিয়ে কোনো দিন মাতামাতি করতেন না। কারণ পার্টিতে থেকে তা করা যাবে না। পুজো বা উৎসব যে জনসংযোগের কত বড় মাধ্যম তা সুভাষ চক্রবর্তী বুঝেছিলেন, তাই সল্টলেক এবং লেকটাউনের বহু পুজোতেই তার নিশব্দ উপস্থিতি বোঝা যেত। সে নিয়েও পার্টিতে সমালোচনা শুনতে হত তাঁকে।

মমতা বন্দোপাধ্যায় পুজোকেই জনসংযোগের হাতিয়ার মনে করেছেন। তার দলের সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলা যেতে পারে এই জনসংযোগকে বহুদিন আগেই হাতিয়ার করেছেন বালিগঞ্জে তার বিখ্যাত পুজো একডালিয়া এভারগ্রিনের মাধ্যমে। মমতা বন্দোপাধ্যায় সাংসদ থাকাকালীন বিভিন্ন পুজো প্যান্ডেলে যেতেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন। রেলমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পূজো প্যন্ডেলে গিয়ে উদ্বোধন করার সংখ্যা বাড়িয়ে দেন তিনি।

২০১১ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মহালয়ার দিন থেকেই পুজো উদ্বোধন করা শুরু করেন তিনি। গত ৬ বছর ধরে ১০০র বেশি পুজো প্যান্ডেল তিনি নিজে গিয়ে উদ্বোধন করেন প্রতি বছর। একবার মনে আছে ঢাকুরিয়ার বাবুবাগানে পুজো উদ্বোধনে মমতা বন্দোপাধ্যায় আসবেন। গোটা পাড়ায় সাজোসাজো রব আমি তখন সেই পাড়াতেই থাকি। আমার সেদিন ছুটি ছিল। মুখ্যমন্ত্রী আসার সময় আমি ও জানলায় গিয়ে দাঁড়ালাম। মুখ্যমন্ত্রী সোজা বাবুবাগান গেলেন না বাসস্ট্যান্ডে হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে সোজা চলে গেলেন অপেক্ষাকৃত ছোটো একটি পুজোয় যা ওই পথেই পরে। ভেতরে ঢুকে সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তার সঙ্গে থাকা এক মন্ত্রীকে নির্দেশ দেন যেন ওই পুজো কিছু আর্থিক সাহায্য পায়। মুখ্যমন্ত্রী তাদের পুজোয় নিজে থেকে এলেন সবার সঙ্গে কথা বললেন সেই নাম না জানা ক্লাবের লোকেরা তো অভীভূত‌। এটাই connect .Connect With The Common Men.

গত তিন বছর ধরে পুজো ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে সমন্বয় বৈঠকও করছেন তিনি। সাংবাদিক হিসেবে এই বৈঠকে গিয়ে দেখেছি এই পুজো উদ্যোগতাদের সঙ্গে কি অসম্ভব connect তার। উত্তর থেকে দ‌‌ক্ষিণ যেন সব পুজো তিনিই বাড়ির বড়র মত দায়িত্ব নিয়ে করাচ্ছেন। শুধু তাই নয় নিজের মন্ত্রীদের মন্ত্র থেকে নির্দেশ দেন তারা যেন ছোটপুজোও মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত সাহায্য করে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু মন্ত্রী শহরের নামি পুজো করে আর তা ছাড়াও দলের নির্দেশ রয়েছে প্রত্যেককে পুজো উৎসবের সঙ্গে থাকতে হবে কারণ জনসংযোগ।

২০১৬তেও কলকাতা পুরসভাএবং পুলিসের তরফ থেকে ছোটপুজোও মহিলাদের পুজোয় সাহায্য করার ঘোষণা করা হয়েছে। এবার সেরা পুজোগুলোকে Red Road e procession করিয়ে বিসর্জন দিতে নিয়ে যাওয়া হবে। বাঙালী মননের সঙ্গী পুজো আর সেই উৎসবের প্রতিটি আঙ্গিকে দলকে জড়িয়ে নিয়ে যে কি অনায়াসে মানুষের সমর্থন পাওয়া যাওয়া এও মমতা বন্দোপাধ্যায়ই পারেন।

শুধু পুজো নয় সব উৎসব। মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ায় এটাও রাজনীতি করার ক্ষেত্রে করা দরকার সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য। মমতা বন্দোপাধ্যায় এটা উপলব্ধি করে তাকে জেলা গিয়েছেন যা বামফ্রন্ট কোনো দিন করতে পারেনি চেষ্টাও করেনি, পার্টি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে থাকতে পারবে না সেই দোহাই দিয়ে। কিন্তু রথযাত্রা থেকে ঈদ আজ যে সব উৎসবে তারাও অভিনন্দন পাঠায় তবে কি তারা পরে বুঝল যে এটা ধর্মের বিষয় নয় উৎসবে মানুষের সঙ্গে থাকার বিষয়। কারণ তাদের ভাষাতেই বলতে হয়, মানুষই শেষ কথা বলে।

.