ফলকনামায় উদ্ধার বিস্ফোরক, দৃঢ় হচ্ছে মাওবাদী যোগের সম্ভাবনা

এরাজ্যে নাশকতার জন্যই কী ফলকনামায় বিস্ফোরক আনছিল মাওবাদীরা?  প্রাথমিক তদন্তের পর জোরালো হচ্ছে তেমনই সন্দেহ। তদন্তকারীদের মতে, হাওড়া থেকে উদ্ধার হওয়া IED রাজ্য মাও শক্তিবৃদ্ধির জোরালো ইঙ্গিত।

Updated By: Sep 23, 2015, 10:23 PM IST
ফলকনামায় উদ্ধার বিস্ফোরক, দৃঢ় হচ্ছে মাওবাদী যোগের সম্ভাবনা

ব্যুরো: এরাজ্যে নাশকতার জন্যই কী ফলকনামায় বিস্ফোরক আনছিল মাওবাদীরা?  প্রাথমিক তদন্তের পর জোরালো হচ্ছে তেমনই সন্দেহ। তদন্তকারীদের মতে, হাওড়া থেকে উদ্ধার হওয়া IED রাজ্য মাও শক্তিবৃদ্ধির জোরালো ইঙ্গিত।

হাওড়ায় উদ্ধার বিস্ফোরক।  আট ইঞ্চি লম্বা লোহার পাইপ। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে সুরকি বা মোরাম দিয়ে ভরাট করা। হাওড়া স্টেশন থেকে উদ্ধার হয়েছে  এমনই পাঁচটি IED।   তদন্তকারীদের দাবি, মোরামের মতো দেখতে জিনিসটিই দেখতে আদতে বিস্ফোরক পটাসিয়াম ক্লোরেট। IED তৈরিতে মাওবাদীরা যা নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে। 

হাওড়া থেকে উদ্ধার  সিলিন্ড্রিকাল এই আইইডির সঙ্গে বিস্তর মিল রয়েছে মাওবাদীদের ব্যবহার করা IED-র। এরাজ্যের জঙ্গলমহলে দীর্ঘদিন কাজ করা গোয়েন্দাকর্তাদের দাবি, হাওড়ায় উদ্ধার হওয়া IED লালগড়ের ব্যবহৃত ডিরেকশনাল মাইনেরই  নয়া অবতার

২০০৮-এ এরকমই একটি ডিরেকশনাল মাইনের নিশানা ছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়। অন্য কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী এধরণের IED ব্যবহার করে না। 

ফলকনামা এক্সপ্রেস অন্ধ্রপ্রদেশ -ওড়িশার  যে এলাকা দিয়ে আসে তার বেশকিছু অংশ মাওবাদীদের শক্তঘাঁটি বলে পরিচিত।

প্রায় ৪ বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর গত কয়েকমাসে এরাজ্যে ফের সক্রিয় হয়েছে মাওবাদীরা

মূলত পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকায় ঘাঁটি গেঁড়ে  প্রভাব বাড়াচ্ছে মাও বিগ্রেড। ঝাড়খণ্ড-পশ্চিমবঙ্গ সীমানার খুব কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় ফলকনামা এক্সপ্রেস

এইসব খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা অনেকটাই নিশ্চিত, ফলকনামায় উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক মাওবাদীরাই আনছিল। বাংলা-ওড়িশা সীমানার কোনও জায়গায় নামানোর পর তা পৌছে যেত মাও ঘাঁটিতে। তারপর জঙ্গলের পথ ধরে বিস্ফোরক ওই ঢুকে  পড়ত এরাজ্যেরই কোনও অংশে। কারণ

বৃহস্পতিবার ঘাটশিলার জঙ্গলে একটি মাওবাদী ক্যাম্পে হানা দিয়েছিল যৌথ বাহিনী। ক্যাম্পে ছিল এরাজ্যের শীর্ষ মাওনেতা আকাশ, রঞ্জিত পাল ও মদন মাহাত

ক্যাম্প থেকে উদ্ধার হওয়া নথি থেকে স্পষ্ট,এরাজ্যের পুলিসের ওপর বড়সড় হামলার ছক কষছিল মাওবাদীরা। 

ঠিক একসপ্তাহের মাথায় ফলমনামা থেকে উদ্ধার হওয়া IED মাও যোগাযোগই আরও স্পষ্ট করছে। আর চিন্তার ভাঁজ পড়ছে এরাজ্যের পুলিস প্রশাসনের কপালে।

.