• print
  • Update: Update: September 8, 2012 20:04 IST
story-img সেলাম, স্যালুট এবং সাষ্টাঙ্গ প্রণাম

ডেঙ্গি এসেছে, বঙ্গ ফেঁসেছে। তখনও পেটের ভেতর ভাইরাসের গিজগিজানি টের পাচ্ছি। বাসে উঠতে গেলে মাথাটা বোঁ করে ঘুরে যাচ্ছে। নীলদার নির্দেশ, অনন্য সম্মানের আগে উঠে দাঁড়াতেই হবে, যেভাবেই হোক। গুচ্ছের কাজ ফেলে রেখে মাঝপথেই আমি বিছানা নিয়েছিলাম। এন এস ওয়ান পজিটিভ। ম্যাক ইলাইজা টেস্ট-ও। সাক্ষাত্ ডেঙ্গিদর্শন। অনন্য সম্মান নিয়েই লিখতে চাইছি, কিন্তু ডেঙ্গি হওয়া পরে আমার মাথার ঘিলুটা খানিক এঙ্গিপেঙ্গি হয়ে গিয়েছে। তার ওপর, অনন্য সম্মান সচক্ষে দেখার পর থেকে চিন্তাভাবনা গুলোও কেমন যেন জট পাকিয়ে গিয়েছে।

লেখার আগে খানিক ফ্ল্যাশব্যাকে যাই। গত পাঁচ-ছ বছর ধরে চাকরিসূত্রে আমি পূর্বভারতের এক বিখ্যাত অ্যাওয়ার্ড ফাংশনের নানা ধরনের দায়িত্বে ছিলাম। সেইসব ব্যক্তিত্বরাই সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন, যাঁদের পোশাকি নাম সেলিব্রিটি, যাঁরা সর্বদা আলো আর ছাতার তলায় থাকতে ব্যাকুল আর অন্ধকারকে যাঁরা বোলতাজ্ঞানে ঘৃণা করেন। সামনের সিটে বসতে না দিলে অনুষ্ঠানে আসেন না। এবং অন্ধের মতো ক্যামেরার চোখে পড়ার চেষ্টা করেন। মূলত এঁদেরকে ডেকেই আয়োজন করা হত এই সম্মান অনুষ্ঠানের। একবার যা মুশকিলে পড়েছিলাম কী বলব! ক'বছরে মান খানিক পড়ে যাচ্ছে বলে, যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে সেবার প্রথম কান-স্টাইলে (কান= Cannes) রেড কার্পেট ইন্ট্রোডিউস করা হল। সেলিব্রিটিরা যাতে মা লক্ষ্মী মা দুর্গা কার্তিকের মতো না সেজে খানিক অঙ্গশোভা প্রদর্শন করে হেঁটে যেতে পারেন। জোলি কিংবা জে লোর মতো স্মার্ট হয়ে। কিন্তু সেলিব্রিটির ওজন কিলোদরে মাপা হয়। ভারী-কম ভারী-হালকা। তার ওপর মুম্বই থেকে 'মণ'-ওজনের সেলিব্রিটিরা আসবেন। সব্বাই যদি রেড কার্পেট দিয়ে হেঁটে যান তবে তো মুড়ি মিছরি সমদর। রেড কার্পেটের কোনও ইয়ে থাকে না। অতএব বাছাইপর্ব। আমর মতো উলুখাগড়াদের ওপর গুরুদায়িত্ব- যাঁদের নাম বাদপড়ল তাঁদের কায়দা করে অন্য গেট দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে হবে, যাতে তাঁদের আত্মাভিমান চোট না পায়, আর আত্মীয়তাও বজায় থাকে। ডিনার কার্ড-ও হরির লুঠের বাতাসার মতো বিলি হবে না। বাজেট টাইট। অপ্রত্যাশিত অতিথি নির্মমভাবে পরিত্যাজ্য। মুখ চেনা না হলে ঢোকা বন্ধ। ঢোকার আগে কাঁচের বয়ামে ডিনার কার্ড ফেলা মাস্ট।

এইবারে বুঝলাম কেমন শাঁখের করাত! রেড কার্পেটে লেখা অ্যাডমিট টু। মানে সস্বামী/সস্ত্রীক আমন্ত্রণ। কিন্তু ডিনার কার্ড বরাদ্দ হল একটি। কেন? না, অমুক সেলিব্রিটির স্ত্রী/স্বামী পরিচিত মুখ নন। ডিনারে নট অ্যালাউড। অডিটোরিয়াম ভরানোর জন্য বসতে পারেন। আমার কপালটাও এমন, বন্ধুপ্রতিম এক মেজ-ওজনের সেলিব্রিটি হঠাত্‍ তেড়ে বাঙালিসুলভ ইংরেজিতে চিত্‍কার চ্যাঁচামেচি শুরু করলেন, এভাবে অপমান করলি কেন? সামনের সিটে বসাবি বলে ডাকলি আর পাঁচ নম্বরে বসতে দিয়েছিস! একটা ডিনার কার্ড দিয়েছিস আবার চেক করছিস। এর মানেটা কী? আমি ডিনার করব আর আমার ওয়াইফ কি গাড়িতে বসে মশার কামড় খাবে? রেখে দে তোদের ডিনার। আমি চললাম। দৌড়ে গেলাম বসের কাছে। কী উপায়! নো উপায়। নিয়ম নিয়ম। ওরকম দু-চারটে মুখ বাদ পড়লে স্পনসরের কিছু না। মার্ক করে রাখো। ছবি ছোট করে দিও।

পণ্ডিত শিবকুমার শর্মাকে সামনের সারির সোফায় বসিয়ে হাঁফ ছেড়েছি! সেই সেলিব্রিটিকে দেখলাম জনসমুদ্রে। বিবেকানন্দের মতো জোড়কনুই হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এককোণে। অনন্য সম্মানের অনুষ্ঠানে আলো হয়ে আছে মঞ্চ। আইটিসির পালায় গিজগিজে ভিড়। ফার্স্ট-কাম-ফার্স্ট-সার্ভড বেসিসে সিট ভরে গিয়েছে। দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় সমসংখ্যক দর্শক। আমি ইশারায় বললাম, তুই দাঁড়িয়ে যে! সিট ব্যবস্থা করছি। আমায় হাসিমুখে হাত তুলে আশ্বস্ত করলেন তিনি। চাপ নিস না, আমি ঠিক আছি। পাশাপাশি আরও কয়েকটি হাতও উঠল, যাঁদের মুখগুলো প্রাতঃস্মরণীয়। প্রায় রোজ সকালেই দেখা যায় খবর কাগজে...


সারি সারি মানুষের মাথার মধ্যেই এদিক ওদিক থেকে দেখা যাচ্ছে সুপরিচিত মুখ। শুধু আমার পরিচিত নন, এঁদের চেনে দেশবিদেশের মানুষ। তাঁরা এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছেন না তাঁদের এভাবে কেউ দেখে ফেলছে কিনা, কিংবা একটু-বেশি বেশি করে দেখছে কিনা তাঁরা এই মুহূর্তে ধরাছোঁয়ার মধ্যে বলে। অন্য সব দর্শকের মতোই তাঁদের চোখ স্থির মঞ্চের দিকে। বিত্তহীন মহানায়ক-মহানায়িকারা তখন একে একে মঞ্চ আলো করে আসছেন। সূতির কাপড়ে। সস্তার সাবানে চটা রং, একমাত্র না-ছেঁড়া শার্ট পরে। কিংবা গেল-বারের পুজোয় পাওয়া সালোয়ার কামিজ পরে। আবহসঙ্গীতের মূর্ছনা, স্পটলাইটের গোল আলো তখন সেলিব্রিটি ছেড়ে তাঁদের মাথার ওপরে।


পাঠকেরা চোখ বুজুন। ভাবুন, আপনার বাড়িতে ঠিকে কাজ করেন যিনি, তাঁকে হঠাত্‍ দেখলেন, মঞ্চে সারাজীবনের অবদানের জন্য পাচ্ছেন আস্ত একটা ট্রোফি, চেক আর সম্মানপত্র। দর্শকাসন থেকে শর্বরী দত্ত, মমতা শঙ্কর, গার্গী রায়চৌধুরী, দোলন রায়, অনুপম রায় উঠে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন! হাততালির আওয়াজে কানের পরদা ফেটে যাচ্ছে। কষ্টকল্পনা নয়, সচক্ষে দেখলাম অনন্য সম্মানের মঞ্চে। চার ফুটের একটু বেশি উচ্চতার এই হিম্মতওয়ালি। অন্তরের সৌন্দর্যে বলীয়ান। তিন টাকা চার আনা মাসমাইনেতে বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন যখন, তিন-তিনটে বাচ্চার পেট সামলেও তিল তিল করে এক লক্ষ টাকা জমিয়ে জমিটি কিনেছিলেন হাসপাতাল বানানোর জন্য। ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে ডাক্তার করেছেন। মাইক্রোফোনে বললেন সুভাষিণী মিস্ত্রি, কারু কাছ থেকে এক বস্তা সিমেন্ট কারু কাচ থেকে ইঁট বাঁশ এই দিয়ে একটা হাসপাতাল তৈরি করিচি... মনে হল, আমরা যারা বাংলা জানি বলে কুঁকড়ে থাকি, ইংরিজি জানি বলে গর্ব করি তাঁদের তিনি অন্য একটা ভাষা শেখাচ্ছেন। রপ্ত করা বড় কঠিন। আমরা যারা লক্ষ টাকা পেলেই রাজারহাটের ফ্ল্যাট কিংবা শেভ্রোলের স্বপ্ন দেখি, তাদের বিবেকে হাতুড়ির ঘা পড়ছে যেন। স্বপ্নকে এমন তাড়া করার বুকের পাটা! কার আছে বলুন তো? আমরা যারা খবর করি, কোটিপতিরা কেমন শূন্য থেকে শুরু করেছেন, সেইসব বানানো মশলাদার স্টোরিগুলো কেমন গ্যাসবেলুনের মতো উড়ে যাচ্ছে!


সোনার মেডেল পাওয়া হয়ে গিয়েছে। এশিয়াডেও আশাতীত সাফল্য। একটা চাকরি জুটিয়ে নিতে পারলে আর বাড়ি বাড়ি কাজ করতে হবে না। জানতেন কী ইনিই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মহিলা? যে শক্তির ইংরিজি প্রতিশব্দ বোল্ড নয়। স্ট্রং। মঞ্জুরী ভাস্কর। ভারোত্তোলনে চ্যাম্পিয়ন এই মেয়ে এখনও সংসারের ভার বয়ে চলেছে ঐ কাজ করে। স্পনসরদের কাছে এমন ব্রাত্য একটি খেলা, আবার ভাগ্যও কেমন খেল খেলে রেখেছেন! এই মেয়েটিও স্টেজ আলো করে পেল অনন্য সাধারণ সম্মান। এবারেও কী জুটবে, পোল্যান্ড ইউ এস এ তে আরও বড় প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য সহৃদয় স্পনসর? আর কত পরীক্ষা দিলে আর ঘর মোছা, বাসন মাজার কাজ? আর কত সম্মান পেলে তবে পাওয়া যাবে একটা সম্মানের চাকরি?
রাস্তার হঠাত্‍ রক্তাক্ত মানুষ দেখলে আমরা কজন তাঁকে উঠিয়ে নিই নিজের গাড়িতে? সামনের হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য। মাথা খারাপ? সিটে রক্ত লেগে যাবে না? তার ওপর কী না কী ছোঁয়াচে রোগ থাকতে পারে। ঝামেলায় জড়িয়ে লাভ কী! দিনভর, ভরা ট্রেনে হকারি করে একটা বাইক কিনেছিলেন বিশ্বজিত্‍ বিশ্বাস। সারাদিনে কটাই বা বিক্রি গলা চিরে বিজ্ঞাপন করে? তবু বাইকের পেছনে লাগিয়ে দিলেন স্টিকার- Free ambulance। গ্রামগঞ্জের মুমূর্ষু রোগীকে দূরদূরান্ত থেকে পৌঁছে দেন হাসপাতালে। প্রাণ হাতে করে বাইক ছোটান প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে। পাশে সর্বক্ষণের সঙ্গী তাঁর স্ত্রী। তিনিও পেশায় হকার।


আরও কত বলব? এতটুকু বলেই আমার ডেঙ্গির আফটার-এফেক্ট বোতল-খোলা পারফিউমের মতো উবে গিয়েছে। কনফিডেন্সের পারদটা এমন চড়ে গিয়েছে যে এখুনি গিয়ে ফুটবল অ্যাকাডেমিতে নাম লেখাতে ইচ্ছে করছে। প্রবল করতালি সহযোগে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, বদ্রু বন্দ্যোপাধ্যায়, পন্ডিত শিবকুমার শর্মা এবং সবশেষে মান্না দে। উজ্জ্বল তারকাখচিত এক অ্যাওয়ার্ড ফাংশন শেষ হল একটিও নাচগান ছাড়াই! তবু একটিও দর্শক মাঝপথে উঠে যাননি।


বাকি ছিল আরও। ককটেল ডিনার। আমার একান্ত নিজস্ব পরিভাষায়, ককটেল প্লাস ল্যাভিশ ডিনার উইথ ইল্যাবরেট ডেজার্ট! কিন্তু এ কী কান্ড! কাতারে কাতারে লোক। পিলপিল করে সবাই ডিনার-মুখী! মেস হয়ে যাবে তো! দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। নাঃ, ভয়ের কিচ্ছু নেই। অতিথিরা কেউ অভুক্ত থাকবেন না। আহা, সে কী দৃশ্য একই ডিনার স্প্রেড থেকে হাতায় করে পাতে নিচ্ছেন বিরিয়ানি, মুর্গ মুসল্লম, মাটন রোগানজোশ। হুজ হু-র পাশে হা-ঘরে। ডিজাইনারওয়্যারের পাশে শস্তার হাট থেকে কেনা শার্ট। সবাই আস্বাদ নিচ্ছেন পেট ভরে। টেলিভিশন অভিনেত্রীর ঠিক পাশেই বসে ভাইয়ের সঙ্গে ম্যাঙ্গো পুডিং ভাগ করে নিচ্ছে এক রোগা-সোগা ছেলে। জিভের প্রথম স্বাদ একসাথে দুজনের। শুভঙ্কর বিশ্বাস। চিনতে পারলেন না? আরে এ-ই তো একট্রেন যাত্রীকে বাঁচিয়েছিল। ফিশপ্লেট খোলা ছিল দেখে মায়ের লাল শাড়িটা উড়িয়েছিল। হ্যান্ডশেক করে নিন দাদা। পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ছবি তুলে রেখে নিন। এদের দেখা সহজে পাওয়া যায় না!

স্বর্গীয় অনুভূতির আরও বাকি ছিল। শিবকুমার শর্মার সন্তুর আমাদের এক ঘন্টার জন্য পৌছে দিয়েছিল স্বর্গে। জীবনে প্রথমবার। কলকাতার এক স্বনামধন্য শিল্পী বললেন, যদি নাও ডাকো, অনন্য সম্মান দেখতে আসব। প্রতি বছর।

পুনঃ "মানি ইজ নট এভরিথিং। আ ডে উইল কাম হোয়েন ইউ উড নট নিড ইট এনি মোর।" সঙ্গীত, বলিউড, জীবন ও অনন্য সম্মান নিয়ে অনেক আলোচনার পর বললেন পন্ডিত শিবকুমার শর্মা।

রাজারহাটের রাস্তা দিয়ে ছুটছে গাড়ি। এয়ারপোর্টের দিকে। মুম্বইয়ের ফ্লাইট ধরতে হবে।

আমি বললাম, "সত্যি। কাল অনন্য সম্মান দেখে আরও বেশি মনে হল।"

"লোকে বড়াই করে বলে, আমার সেভেন বেডরুম ফ্ল্যাট আছে। সিক্স বেডরুম বাংলো আছে। সত্যিটা হল, মানুয যখন ঘুমোয়, তখন একটাই বেডরুম, একটাই বেড লাগে। সাতটা বেডরুম তো একসঙ্গে ভোগ করতে পারে না। থেকে কী লাভ!" জানলার বাইরে চোখ রেখে বললেন তিনি।

মন্তব্যটা চেষ্টা করেও ভুলতে পারব না!

ফুলকলি

Post Your Comment

Total Comments:9

sory, i donot agree with people who blame judicial system for rizwanur episode. i rather blame riznwanur for commiting suicide.he should have faith in his love & move to the court alongwith priyanka.if both had loved each other could have gone to the court.they did not seek court`s protection so pls do not blame judicial system.moreover why not priyanka caome forward and apeal to the court for probe.if it was both sided love then priyanka should have come forward.if priyanka keeps silent then probably the love was not as thick as it is said to be

shame on indian judicial system who could not provide justice to rizwanur reheman who was mercilessly and brutually murdered by the todi family, for loving and legally marrying priyanka todi the todi family daughter. isn`t this ridiculous and shameful for the largest democracy of the world.. i appeal to the civil society of the country to wake up the judicial system of our country through mass appeal again.. please answer where is priynka todi, why has the case not started even after 5 years?

osadharon laglo, aro a dhoroner lekha dekte chai...

portey ese jeno onusthantai dekhlam....

khub sundar lekha.... valo laglo....

vison emotional hoye porechilam program ta dekhe. 24 ghontar pokhhei somvob emon program korar. hats off to you all. sotti e ei manush rai sotti karer manush. amader kache taka thakte pare, mon ta oneker e nei. vison valo apnader ei chesta.

khub bhalol lekha o bhabna.

like.... dilam.. ...some celebrity were weeping....

i mr s.d. bhar residing at 7/32/6/1,barada basak st, a scenior citizen. an illegal construction is going on next to my house without any plan sanction & not maintaining. after lodging complaints to baranagar municipality, it has been investigated and stop order has been issued. in spite of that the illegal construction is continuing the incidence is now controlled by political party. i & my family members have received several threats. i & my family members want to bring this unfair incidence to the public through media. how you can help us regarding please let me know.

staff-blog
একটি তিন পাতার ইন্টারভিউয়ের পর..

নতুন প্রফেশন। সাংবাদিকতায় সূর্যোদয়ে সবই আজব ঠেকে। অফিসে এইটুকু হয়ে থাকি। সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের ট্যাঁশগরু আর ঢ্যাঁড়শদের দাবড়ানির চোটে। অফিস পার্টিতে গোটা টলিউডই হাজির। চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে আছি। সবে এমএ পাশ করে ইউনিভার্সিটি-সাম্রাজ্যের গন্ডি পেরিয়েছি। আমি এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিভার লিলিফুল হয়ে ফুটে থাকব, আমাকে সবাই চিনে নেবে। এই মোটো নিয়েই দাঁড়িয়ে আছি। এগিয়ে যাচ্ছি না কারুর দিকে। ঝকমকি ড্রেস-শাড়ি, পরচুলো আর ওয়াইন গ্লাসে-ভিজে ঠোঁট, কাঁচভাঙার-মতো-আওয়াজ-করা হাসির ভিড়ে দেখতে পেয়ে গেলাম পদ্মপাঁপড়ি-চোখ, টিয়াপাখি-নাক।

staff-blog
staff-blog
লে রেপপ্লে গেম অন...

মোদ্দা কথা, আমরা গেমটা হেরে গেছি দাদা। সবংশে হেরে গেছি। ফেসবুকে ঘুরছে মৃত্যুমুখী সুন্দরীর মুখ। এ ঘুমোনো মেয়ে পৃথিবীর। এরে লয় শুষে- দেবতা, গন্ধর্ব, নাগ, পশু ও মানুষে। ততোধিক সুন্দর তার কোটরে বসে যাওয়া রক্তচোখ, পচে যাওয়া নাড়িভুঁড়ি, লোহার রডের আদরে বিকল হতে থাকা শরীরযন্ত্র। সারা দেশ জুড়ে এই অনাম্নী অঙ্গনার জন্য প্রতিবাদে সোচ্চার, বিদ্রোহে উত্তাল জনগণ। মোমবাতির নৈঃশব্দে সরব তারকারা। ধর্ষকের শাস্তি চাই। প্রকাশ্য রাস্তায় ফাঁসি চাই। ন্যাংটো করে প্যারেড করাতে চাই, ইঁট ছুড়ে ছুড়ে মারতে চাই, চাই চাই... পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। এমন শাস্তি চাই যেন নিদর্শন হয়ে থাকে। ওই তো শুয়োরের বাচ্চারা... ওরাই তো রেপ করেছিল না? ধরে আন ব্যাটাদের। আইন আইনে থাকুক। আমরা ওদের জবাই করি। ওদের মধ্যে নাকি একটা নেহাত গোঁফ-ওঠা ছোকরা? তাতে কী... পুরুষ পুরুষ। ওদের অত শ্রেণিবিভাগ হয় না। নরম ছিদ্রে গাড়ির পার্টস ঢুকিয়ে মজা মারতে সবাই সমান। ভাবনা, রাগ, দুঃখ আর ঘেন্না মনের মধ্যে এমন কিলবিল করছে যে উগরে না দেওয়া অবধি স্বস্তি নেই। বড় দেরি হয়ে গেল কলম তুলতে। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালেই জীবনযুদ্ধ শেষ। থার্টিফার্স্ট নাইট পেরিয়ে নিউ ইয়ার এসে গিয়েছে। কাঁদো দেশ কাঁদো। কেঁদে তোমাদের আবেগের নদীতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডগুলো ফেলে দাও। ধর্ষণ আর হেডলাইন নেই। সাইডলাইনে চলে এসেছে। এক কলমে সেরে দেওয়া হয়েছে। ইস্যু বদলে গেছে। নেতায়-নেতায় ইয়ে হচ্ছে, জীবন বয়ে যাচ্ছে। ধর্ষিতারা পুলিসে কমপ্লেন করতে গিয়ে ফের হেনস্থা হচ্ছে। মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের কিচ্ছুটি প্রমাণ মিলছে না। গায়ে একটি আঁচড়ও দেখা যাচ্ছে না আতশকাঁচে। 'প্রেক্ষিত' পাল্টে যাচ্ছে, কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। এমনই শোকেসে সাজানো ঘটনা হয়ে যাচ্ছে... বাড়ির বাচ্চা প্লাস্টিকের ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে ধোনি-ধোনি খেলতে খেলতে মাকে শুধোচ্ছে, মা, মা ধর্ষণ কী করে খায়?

staff-blog
staff-blog
১২১ নট আউট

সেদিনের উলট-পুরাণ সিনেমার মতো মনে আছে। আল্টিমেটলি সেই নায়িকা সেদিন অপেক্ষা করে ভোগ সার্ভ না করেই বাড়ি ফিরেছিলেন, তাঁকে ঘিরে মিডিয়া ছিল না বলে। আজ অবধি নিজের শহরে এত ইউনিটি দেখিনি। এখনও এখানে প্রেস কনফারেন্সে তারকাকে ঘিরে হুড়োহুড়ি আর এক্সক্লুসিভের জন্য এক কোণে পিআরের সঙ্গে পেয়ারের গুজগুজ ফিসফাস করা দেখলে সত্যিই আরও বেশি করে মনে পড়ে ঘটনাটা। বাইট-এর জন্য অবাস্তব খেয়োখেয়ি, প্রায় সারার্থহীন ইন্টারভিউয়ের জন্য এমন উল্লাস... এই আনতাবড়ি সাংবাদিকোচিত উন্মাদনাকে ক্যাচ করেই মিডলম্যানেরা দলে ভারী হয়ে গেল।

staff-blog
staff-blog
জন্নত মন্নত হন্যত

মুম্বইয়ের এন্টারটেনমেন্ট জার্নালিজমে একটা কাহাবত আছে, দমদার সাংবাদিক বলা হবে তখনই, যদি সে শাহরুখ খানের মন্নত-এ এন্ট্রি নিয়ে শাহরুখের ইন্টারভিউ নিয়ে আসেন। ইন শর্ট, মন্নতই সাংবাদিকদের জন্নত। কথাটা যতই নির্লজ্জ হ্যাংলার মতো শোনাক, যা রটে তার কিছু তো বটে। মনে হয় ডালে-ডালে খবরটা কিং খানের কানে গিয়ে পৌছছিল কোনও এক সময়ে। কাজেই এর একখান যোগ্য মুচকি হাসি হেসেছিলেন শাহরুখ। গত কয়েক বছর ধরে ওই দিনটিতে, আশা করি দোসরা নভেম্বরের তাত্পর্য আর বুঝিয়ে বলতে হবে না, মুম্বইদের সকল সাংবাদিকদের ওপেন নেমন্তন্ন থাকে শাহরুখের বাংলোয়। ইয়াবড় নরম-তাজা পেস্ট্রি কাটেন শাহরুখ। ক্রিমের কারুকাজ, হ্যাপি বার্থ়ডে শাহরুখ। কাউকে নিজে হাতে খাইয়ে দেন, কাউকে খুরপি দিয়ে তুলে দেন প্লেটে। বিজ্ঞান থেকে জি কে, যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেন। কেউ ম্নানমুখে ফিরে যান না। ফুড কাউন্টারে থাকে অঢেল ভূরিভোজ এবং ভুঁড়িভোজের ব্যবস্থা..

staff-blog
staff-blog
হেঁইয়ো মা দুগ্গা!

খুশির শিউলিফুল ভোর। দেরি করে মা আসছেন বলেই মেঘের ছমছমে ভাব উধাও। মহালয়া আসছে। পুজো মানে অনেক কিছু। সঙ্গে বাঙালির বাংলা পরীক্ষা শুরু। বানানে কেমন পাণিনি, সেটা আকাশ-বাতাসে দুলতে থাকা হোর্ডিং দেখলেই হৃদয়ঙ্গম হয়।

staff-blog
blog-img

আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।

blog-img

বর্তমান রাজ্য সরকার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই রকম বর্বর হামলা এখন হয় না, সাত আট শো বছর আগে হত। বিশ্বমানের শিক্ষাবিদরা গবেষণাগারে বর্শা এবং লোহার রডের আস্ফালন দেখতে অভ্যস্ত নন। বিশ্বমানের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসের মধ্যে বাইরের গুন্ডাদের থেকে ধর্ষণের হুমকি শোনেন না এবং ছাত্ররা ক্লাসের মধ্যে গুন্ডাদের মারে রক্তাক্ত হন না। ১০ এপ্রিলের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রেসিডেন্সির পুনরুজ্জীবন উদ্যোগে বাধা পড়তে বাধ্য।

blog-img

দোলনায় দুলতে রাজি আছি, কিন্তু দোল না! স্কিনে মেলানিন বেড়ে যাবে, কমপ্লেকশনের বারোটা বেজে যাবে, চুলের টেক্সচারের বারোটা বেজে যাবে। বিরিবিরি আবির ভরা মাথা ইঃ, দাঁতমুখে কালি ছিঃ, কনট্যাক্ট লেন্সে বালি.. এ কি ভদ্রমহিলাদের খেলা! বিশেষ করে আমার মতো সুন্দরীরা দোল খেলে না। যবে থেকে আয়নায় সেল্ফ-অ্যাডমিরেশন শুরু করেছি, তবে থেকেই দোলের দিন প্রচুর অমিতাভ বচ্চনের ছবি আর এফ এম শুনি, সেফ সাইডে থেকে। জিজ্ঞেস করলেই সোজা হিসেব দিই, সবাই যদি রং-বালতি-পিচকিরি নিয়ে নেমে যায়, তবে দেখবে কে?

blog-img

এই তো সেদিন, গ্রীষ্মের এক দীর্ঘ দুপুরে পাঁচ সন্তানকে স্থবির করে চলে গেলেন মা। তীব্র কান্নায় খানখান হাসপাতাল। দূরে বিমূঢ় জিজ্ঞাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে পিতা। অর্ধশতাব্দীরও আগে তিনি এসেছিলেন। পুতুল খেলার পর্ব পেরিয়ে তখন সদ্য চু-কিতকিতে ওস্তাদি চলছে।