• print
  • Update: Update: October 10, 2012 21:35 IST
story-img হেঁইয়ো মা দুগ্গা!

খুশির শিউলিফুল ভোর। দেরি করে মা আসছেন বলেই মেঘের ছমছমে ভাব উধাও। মহালয়া আসছে। পুজো মানে অনেক কিছু। সঙ্গে বাঙালির বাংলা পরীক্ষা শুরু। বানানে কেমন পাণিনি, সেটা আকাশ-বাতাসে দুলতে থাকা হোর্ডিং দেখলেই হৃদয়ঙ্গম হয়। দুর্গা নামের বদলে দেদার দূর্গা চলে, কেউ কিছু মনে করে না। পূজার বদলে পুজা, পুজোর বদলে পূজো, দুর্গাপুজা, দূর্গাপুজা.. কত যে পারমুটেশন-কম্বিনেশন! সত্যি, বাঙালি কি বিষম ভ্যারিয়েশন-ভক্ত..

আগে সরস্বতী পুজোর চাঁদা চাইবার আগে বানানটা জেনে যাওয়া দস্তুর ছিল। অনাদায়ে কানমলা খেতে হত কিনা। আজকাল ছাত্রদের আবার কান মলে দেওয়া নিষেধ। মাস্টারমশাইদের ঠ্যাঙানোটাই রীতি। তাই মার খাওয়ার ভয়ে বোধকরি ভুল বানানেও লাল ঢ্যারা দেন না স্যরেরা। অগত্যা... অত্যাচার সহ্য করা ছাড়া উপায় দেখি না। বালোক সংঘ, জুবক শমিতি-রাও চলছে-চলবে রোয়াব নিয়ে দূর্গাপুজা ইত্যাদি করে চলেছেন। এই সেদিন এক টিভি চ্যানেলের অ্যাঙ্কর দিব্যি এক ঘণ্টা ধরে দুর্গোপুজো-দুর্গোপুজো করেই গেলেন, কেউ টুঁ শব্দটি করল না।

দেবী দুর্গতিনাশিনী এখন গ্লোবাল। আন্টার্কটিকা বাদ দিয়ে সব মহাদেশে ধুন্ধুমার পুজোপার্বণ হয়। বিলেত থেকে পিলপিল করে লোক আসে বলে টুরিজম বুস্ট হয়, তার ওপর থিমপুজোর সাড়ম্বর ষোড়শোপচারের মাঝখানে অমন দুয়েকটা ছোট্ট ভুল মা ক্ষমাঘেন্না করেই দেন বোধহয়। গত সাত দিন আমার চোখের পরিধির মধ্যে যতগুলো পুজোর ব্যানার দেখেছি, কেউ কারওর চেয়ে কম যায় না!

নিন্দে করব না। বাংলার বহর এবং কলেবর দেখলে অবশ্য বোঝা যায় বানানে ‘একটু’ কমা হলে কী হবে, বাঙালির দুর্গাপূজার বিজ্ঞাপনে ব্যঞ্জনায় শব্দঝংকারসৃষ্টির চেষ্টা দেখলে ডি. এল রায়ের আত্মাও প্রেত হয়ে নেমে আসবেন! জল বানানটাও যেন ‘জ্জ্বল’ হয়ে জ্বলে ওঠে বাঙালীর পুজো-কলমে! কথা কম বলে শুধু পোস্টার দেখে যাই-- মহাপুজায় মহাদুর্গ্গার মহাপ্যানডেলে মহানন্দে মহাসুখে আসুন। মাত্রিপুজোর আরাধনায় দলে দলে শামিল হোন। বালিগ়জ্ঞ সাব্বজনিন মহাদূর্গাপূজোর সারদিয় সুভেচ্চা। মহিশ্বশুরমরদীনী পালা এবার দেখুন একমাত্র কলাতলা শ্রাবন সংঘোয়। মহাসারদীয়ার প্রিতি ও শুভেচ্ছা গ্রহন করুন, আমাদের ক্যাকটাস-মন্ডোপ দর্শণ করুন, দেখে গায়ে কাঁটা দেবে)...আমরা প্রতিযোগীতায় বিশ্বাসী নই/ এবার পূজোয় নতূন চাই/ সিডির মম্ডোপ দেখুন ভাই। দাঁত বিজড়ে অক্ষয়কুমার বলছেন, সপোরিবারে ডলার আন্ডি পরে মন্ডপ পরিদর্শণ করুন। শরত্ তোমার ওরুন আলোর অঞ্জলি। এসএমএস-এ চন্ডিপাঠ। সন্ধীপূজোর মহাযঞ্জ। মা আসছেন @ মর্ত্য.কম...

আজ সকালে হোর্ডিংটা দেখে হেঁচকি উঠল। ‘দলে দলে প্যান্ডেলে আসুন/ মাতৃময়ী দুর্গামাতার রমণীয় রূপ রমণ করুন’...

এক মিনিট, রম্ ধাতু অর্থে ‘রতিক্রীড়া’, -ণ (স্ত্রী)। রমণ ক্রিয়াপদ। রতিরতরাগিণীরমণবসন্ত রাধা। (প্র: বঙ্গীয় শব্দকোষ, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পা)

এরপরও কী বলবেন আপনি ইংরেজিতে ভাল? আমি কিছু বলব না। বললে বলবে বলছে!

যাই হোক, বানানে আমার কী যায় আসে! এবার পুজোয় মুম্বইয়ে থাকব। সেলেব-পুজো কভার করতে। আমার ডালিমকুমার কলকাতায় থাকবে। মাঝে মাঝেই চোখ ভিজে যাচ্ছে। শিউলিফুল, আগমনী, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, থিমপুজো সব জল-রং হয়ে ধুয়ে যাচ্ছে। ডালিমকুমার আমার চেয়ে বেশি ফ্যাশন-কনশাস। আমার জন্য আগে থেকেই তিনটে হালফ্যাশনের সালওয়ার-সুট কিনে আলমারিতে গুছিয়ে রেখেছে। আজ সকালে দেখে ফেললাম।

ফ্যাশনের কথাই যখন উঠল, এবার পুজোয় যেমন-খুশি-সাজো ইন থিং। লালপেড়ে শাড়ির সঙ্গে ক্যাঁটক্যাঁটে কেডস বেশ চলছে। শ্রীমান পৃত্থীরাজরা কাঁখে করে বউকে তুলে নিয়ে স্টাইলবাজি করছেন। কেউ বা হাঁসজারুর মতো দিব্যি জেব্রাঘোড়া বানিয়ে ফেলছেন। যাকগে, সবাই জানি চাঁদার ইংরেজি সাবস্ক্রিপশন। পুজোর মরশুমে এক নতুন চাঁদা-তোলাবাজি শুরু হয়েছে। মাঝেমাঝেই ল্যান্ডলাইনটা ট্রিং-ট্রিং বেজে ওঠে। ম্যা়ডাম আপনি কি এ--র সাবস্ক্রিপশন ফর্ম ফিল-আপ করেছেন?

না।

কেন ম্যাম?

কেন, করাটা কম্পালসারি বুঝি?

না না ম্যাম, আপনার বাংলা আর ইংরিজি কাগজের সঙ্গে কম্বো প্যাকেজে এক টাকারও কমে দিচ্ছি, এর পর আর পাবেন না...

থ্যাঙ্কস, আমি এ---টা নেব না, এ---টা নেব ঠিক করেছি।

ওকে আচ্ছা ঠিক আছে..

আবার ট্রিং ট্রিং।

ম্যাডাম, আপনি কি কাগজে গাঁজাখুরি পড়তে পড়তে বিরক্ত? ট্যাবলয়েড ছেড়ে নতুন বাংলা কাগজ সাবস্ক্রাইব করুন। এক টাকারও...

নামদুটো ইন্টারচেঞ্জ বলি, আমি এ---টা নয়, এ---টা নেব ঠিক করেছি।

আসল কথা, ডালিমকুমার কিছুতেই বাড়িতে উঠতে দেবে না ওই কাগজ। নব্বই টাকাও ইয়ার্কি না। টাকা আর বিদ্যা (বালান নয়) এক নয়। দান করলে বাড়ে না। কাজেই দাম্পত্যকলহ না বাড়িয়ে বেলাবেলি হকারের কাছ থেকেই দুটাকা দিয়ে কিনে ফেললাম। ওঃ মা, ট্যাবলয়েড না বড় ভাইয়ের ছোট ভাই? চমক-ঠমক কই? কোথায় ভেবেছিলাম জন্মেই এমন ট্যাঁ করে চিত্কার দেবে যে, সব বড়রা চুপ করে যাবে। কোথায় কী! গচ্ছা বলে গচ্ছা! অবশ্য আগেই বিজ্ঞাপনে ডিফেন্স খেলেছে। বলেই দিয়েছে ওরা ওদের মতো। কী করে পারেন মশায়, একই খবর, একই ভাষা, একই জ্ঞান একটাকারও কমে অফার করতে? কয়েন দিয়েও আজকাল ব্লেড তৈরি হচ্ছে। মাগনা নয়। অবেলায় ভাত খেয়ে বিশ্রী বদহজম হয়ে গেল। ঠোঙাওয়ালার কাছে রিটার্ন ভ্যালু নেওয়ার এই তো সময়! কানাঘুষো শুনছি, মহালয়ার আগেই নাকি দুঃসময় দূর হয়ে যাবে। সময়ের স-কে ঘিরে লাল সূর্য দেখা যাচ্ছে। বলছে তো ওদেরটা নাকি আরও বড়!

মহালয়ায় মা দুর্গার চোখদুটি আঁকা হলেই হাড্ডাহাড্ডি রগড়টা সচক্ষে দেখতে পাবেন!

ফুলকলি

Post Your Comment

Total Comments:0
staff-blog
ক'ফোঁটা চোখের জল ফেলেছো যে..

(মাসে দুটো করে লিখব বলে দু'মাস কেটে গেল। মে মাসের এক তারিখে লিখব বলে হয়ে গেল ছাব্বিশ। কবিগুরুর জন্মদিন পেরিয়ে হাতে রইল পেনসিল। তবু, বেটার লেট দ্যান নেভার..)

staff-blog
staff-blog
ফুলকলি, আয় দোল খেলি

দোলনায় দুলতে রাজি আছি, কিন্তু দোল না! স্কিনে মেলানিন বেড়ে যাবে, কমপ্লেকশনের বারোটা বেজে যাবে, চুলের টেক্সচারের বারোটা বেজে যাবে। বিরিবিরি আবির ভরা মাথা ইঃ, দাঁতমুখে কালি ছিঃ, কনট্যাক্ট লেন্সে বালি.. এ কি ভদ্রমহিলাদের খেলা! বিশেষ করে আমার মতো সুন্দরীরা দোল খেলে না। যবে থেকে আয়নায় সেল্ফ-অ্যাডমিরেশন শুরু করেছি, তবে থেকেই দোলের দিন প্রচুর অমিতাভ বচ্চনের ছবি আর এফ এম শুনি, সেফ সাইডে থেকে। জিজ্ঞেস করলেই সোজা হিসেব দিই, সবাই যদি রং-বালতি-পিচকিরি নিয়ে নেমে যায়, তবে দেখবে কে?

staff-blog
staff-blog
একটি তিন পাতার ইন্টারভিউয়ের পর..

নতুন প্রফেশন। সাংবাদিকতায় সূর্যোদয়ে সবই আজব ঠেকে। অফিসে এইটুকু হয়ে থাকি। সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের ট্যাঁশগরু আর ঢ্যাঁড়শদের দাবড়ানির চোটে। অফিস পার্টিতে গোটা টলিউডই হাজির। চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে আছি। সবে এমএ পাশ করে ইউনিভার্সিটি-সাম্রাজ্যের গন্ডি পেরিয়েছি। আমি এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিভার লিলিফুল হয়ে ফুটে থাকব, আমাকে সবাই চিনে নেবে। এই মোটো নিয়েই দাঁড়িয়ে আছি। এগিয়ে যাচ্ছি না কারুর দিকে। ঝকমকি ড্রেস-শাড়ি, পরচুলো আর ওয়াইন গ্লাসে-ভিজে ঠোঁট, কাঁচভাঙার-মতো-আওয়াজ-করা হাসির ভিড়ে দেখতে পেয়ে গেলাম পদ্মপাঁপড়ি-চোখ, টিয়াপাখি-নাক।

staff-blog
staff-blog
লে রেপপ্লে গেম অন...

মোদ্দা কথা, আমরা গেমটা হেরে গেছি দাদা। সবংশে হেরে গেছি। ফেসবুকে ঘুরছে মৃত্যুমুখী সুন্দরীর মুখ। এ ঘুমোনো মেয়ে পৃথিবীর। এরে লয় শুষে- দেবতা, গন্ধর্ব, নাগ, পশু ও মানুষে। ততোধিক সুন্দর তার কোটরে বসে যাওয়া রক্তচোখ, পচে যাওয়া নাড়িভুঁড়ি, লোহার রডের আদরে বিকল হতে থাকা শরীরযন্ত্র। সারা দেশ জুড়ে এই অনাম্নী অঙ্গনার জন্য প্রতিবাদে সোচ্চার, বিদ্রোহে উত্তাল জনগণ। মোমবাতির নৈঃশব্দে সরব তারকারা। ধর্ষকের শাস্তি চাই। প্রকাশ্য রাস্তায় ফাঁসি চাই। ন্যাংটো করে প্যারেড করাতে চাই, ইঁট ছুড়ে ছুড়ে মারতে চাই, চাই চাই... পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। এমন শাস্তি চাই যেন নিদর্শন হয়ে থাকে। ওই তো শুয়োরের বাচ্চারা... ওরাই তো রেপ করেছিল না? ধরে আন ব্যাটাদের। আইন আইনে থাকুক। আমরা ওদের জবাই করি। ওদের মধ্যে নাকি একটা নেহাত গোঁফ-ওঠা ছোকরা? তাতে কী... পুরুষ পুরুষ। ওদের অত শ্রেণিবিভাগ হয় না। নরম ছিদ্রে গাড়ির পার্টস ঢুকিয়ে মজা মারতে সবাই সমান। ভাবনা, রাগ, দুঃখ আর ঘেন্না মনের মধ্যে এমন কিলবিল করছে যে উগরে না দেওয়া অবধি স্বস্তি নেই। বড় দেরি হয়ে গেল কলম তুলতে। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালেই জীবনযুদ্ধ শেষ। থার্টিফার্স্ট নাইট পেরিয়ে নিউ ইয়ার এসে গিয়েছে। কাঁদো দেশ কাঁদো। কেঁদে তোমাদের আবেগের নদীতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডগুলো ফেলে দাও। ধর্ষণ আর হেডলাইন নেই। সাইডলাইনে চলে এসেছে। এক কলমে সেরে দেওয়া হয়েছে। ইস্যু বদলে গেছে। নেতায়-নেতায় ইয়ে হচ্ছে, জীবন বয়ে যাচ্ছে। ধর্ষিতারা পুলিসে কমপ্লেন করতে গিয়ে ফের হেনস্থা হচ্ছে। মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের কিচ্ছুটি প্রমাণ মিলছে না। গায়ে একটি আঁচড়ও দেখা যাচ্ছে না আতশকাঁচে। 'প্রেক্ষিত' পাল্টে যাচ্ছে, কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। এমনই শোকেসে সাজানো ঘটনা হয়ে যাচ্ছে... বাড়ির বাচ্চা প্লাস্টিকের ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে ধোনি-ধোনি খেলতে খেলতে মাকে শুধোচ্ছে, মা, মা ধর্ষণ কী করে খায়?

staff-blog
staff-blog
১২১ নট আউট

সেদিনের উলট-পুরাণ সিনেমার মতো মনে আছে। আল্টিমেটলি সেই নায়িকা সেদিন অপেক্ষা করে ভোগ সার্ভ না করেই বাড়ি ফিরেছিলেন, তাঁকে ঘিরে মিডিয়া ছিল না বলে। আজ অবধি নিজের শহরে এত ইউনিটি দেখিনি। এখনও এখানে প্রেস কনফারেন্সে তারকাকে ঘিরে হুড়োহুড়ি আর এক্সক্লুসিভের জন্য এক কোণে পিআরের সঙ্গে পেয়ারের গুজগুজ ফিসফাস করা দেখলে সত্যিই আরও বেশি করে মনে পড়ে ঘটনাটা। বাইট-এর জন্য অবাস্তব খেয়োখেয়ি, প্রায় সারার্থহীন ইন্টারভিউয়ের জন্য এমন উল্লাস... এই আনতাবড়ি সাংবাদিকোচিত উন্মাদনাকে ক্যাচ করেই মিডলম্যানেরা দলে ভারী হয়ে গেল।

staff-blog
blog-img

বারাসতের কামদানি মোড় কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। মাটি ভিজে। ভেজা পাতায় জংলা গন্ধ। কনে দেখা আলোয় বাড়ি ফিরছিল অনামী অঙ্গনা। ভেড়ির গায়ে বড় পাঁচিল লুকিয়ে আছে ওরা। আর একটু...। তারপরেই ঝাঁপিয়ে পড়বে। ছিঁড়ে, খুঁড়ে খাবে শরীরটাকে।

blog-img

-লিঙ্কটা কোথায় পাঠালে, পেলাম না তো ভাই?...
-পাঠিয়েছি ঋতুদা। মেলটা একবার ভালভাবে চেক করুন।
-আমার ব্ল্যাকবেরি থেকে শুধু ছবি দেখা যাচ্ছে গো। লেখাটা আইপ্যাড থেকে দেখে নিয়ে তোমাকে জানাচ্ছি, কেমন?
চিত্রাঙ্গদা ফিল্মের রিভিউ লিখেছিলাম আমাদের ওয়েবসাইটে। তার পর দিনই মেলবক্স খুলতেই প্রথম মেলটা ওঁর।

blog-img

(মাসে দুটো করে লিখব বলে দু'মাস কেটে গেল। মে মাসের এক তারিখে লিখব বলে হয়ে গেল ছাব্বিশ। কবিগুরুর জন্মদিন পেরিয়ে হাতে রইল পেনসিল। তবু, বেটার লেট দ্যান নেভার..)

blog-img

আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।