• print
  • Update: Update: October 5, 2012 16:10 IST
story-img শেষ নাহি যে

শেষ! এই শব্দটার মধ্যে একটা মায়া আছে। একটা কান্নাও আছে বোধহয়। শেষ বলে কি কিছু হয়? আবার অন্য ভাবে ভাবলে শেষ তো হয়ই। জন্ম শব্দের মধ্যেই তো তার অস্তিত্বহীনতার কথা বলা আছে! জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে। ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষ মানে পূর্ণ ছেদ। এরপর আর কিছু নেই।

শেষ বললেই শূন্যতাবোধ জাগে। সব হারানোর বেদনাবোধ জাগে। এই শূন্যতা বা বেদনাবোধ মনকে ভারাক্রান্ত করতে পারে, কিন্তু মলিন করে না। অনেকটা বিরহের মতো। বেদনাবোধ যেখানে সকালের নরম আলোয় মাটিতে বিছিয়ে থাকা শিউলির মতো। এই শূন্যতাবোধকে আমরা এড়াতে চাই না, বরং জড়াতে চাই। ইচ্ছে করে, না মিলতে পারার তীব্র বেদনাবোধকে সঙ্গী করে রাখতে। তাই শেষ বললেও শেষ আর হয় না!   
 
কিন্তু সত্যিই কি তাই? মানবজন্মের কথাই ধরা যাক। যিনি চলে গেলেন, তিনি এই পার্থিব জগত থেকে চলে গেলেন ঠিকই, কিন্তু অজস্র ডালপালার মতো ছড়িয়ে রেখে গেছেন তাঁর সংসার, তাঁর বৃহত্‍ জগত। যাঁরা রয়ে গেলেন তাঁদের কাছে তিনি শেষ হবেন কীভাবে! এইখানেই তো তাঁর তিলতিল করে গড়ে তোলা সংসার, অনাবিল হাসিতে ভরে ওঠা দিনগুলি-রাতগুলি, কত গোপন কান্নাকাটি! একজনের মৃত্যুতে কীভাবে শেষ হয়ে যায় এইসব! সবই তো ধরা আছে তাঁর উত্তরসূরিতে, তাঁর স্বজনে, তাঁর পারিপার্শ্বিকে!   

সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তো তাই! যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সে যা-ই হোক, তার নিজস্ব একটা বৈশিষ্ট্য আছে। প্রতিটি সম্পর্কেই নানা Shades আছে, কত বাঁক আছে!  সেই সম্পর্ক তো তার নিজের জোরেই বলীয়ান। সেই সম্পর্ক তখন অন্য কোনও সম্পর্কের থেকে ন্যূন নয়। দাম্পত্যের কথাই ধরা যাক! বিবাহ বিচ্ছেদ কোনওদিনই বিরল ঘটনা ছিল না। আমরা দেখেছি বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনে দুটি মানুষই প্রান্তিক হয়ে গেছেন, পরস্পরের প্রতি নিরাসক্ত। আমরা দেখেছি বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনে একে অপরের প্রতি তীব্র ঘৃণা নিয়ে বেঁচে আছেন। আমরা দেখেছি বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোনও তার কোনওদিন ছিঁড়ে গিয়েছিল বোধহয়, সেকারণেই আলাদা থাকা মাত্র! সব রকমই তো হয়! কিন্তু এই বিচ্ছেদ মানেই কি সেই সম্পর্ক শেষ! বোধহয় না। যে মানুষটি এই সেইদিনও এই বারান্দায় বসে অন্যমনস্ক ভাবে সিগারেট খাচ্ছিল, বা যে মেয়েটির নিজের হাতে বোনা সোয়েটার আজও ঝুলছে আলমারিতে তারা তো প্রবল ভাবেই একে অপরের মধ্যে আছে! কীভাবে শেষ হয়ে যায় সেই সম্পর্ক! শুধু পৃথক ঠিকানা কি শেষ করে দিতে পারে এতদিনের একসঙ্গে পথ চলার ইতিহাসকে! 
 
তবুও শেষ হয়তো হয় আমাদের অনুভূতির। আমাদের রাগ, ক্রোধ, অভিমান- এসবই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়। একদিন ঝরেও যায়। জীবনের যা কিছু অশুভ তাকে মনে রাখতে চাই না আমরা। সচেতনভাবেই তাকে আমরা আড়াল করি। ফিরে যেতে চাই অদীন ভুবনে। যেখানে ভালবাসা আছে, সেইখানে। কেননা আমরা জানি যেখানে ভালবাসা আছে, তার কোনও শেষ নেই। অন্ত নেই। রবীন্দ্রনাথ তো সেই কথাই বলে গিয়েছিলেন, শেষ নাহি যে শেষ কথা কে বলবে?/ আঘাত হয়ে দেখা দিল, আগুন হয়ে জ্বলবে। /সাঙ্গ হলে মেঘের পালা, শুরু হবে বৃষ্টি ঢালা/ বরফ জমা শেষ হলে নদী হয়ে গলবে!

সোমশুভ্র মুখার্জি
(অ্যাসাইনমেন্ট কো-অর্ডিনেটর)

Post Your Comment

Total Comments:0
staff-blog
বৃত্ত

বৃত্তটি রচনা করি নিজে। এ সেই বৃত্ত যা আক্ষরিক অর্থেই আমাদের অন্তরমহল। আমি ও আমার পারিপার্শ্বিক। একা এবং কয়েকজন। এই কয়েকজন 'যাকে আমি গ্রহণ করেছি দুহাতের কম্পিত নৌকায়'। এই বৃত্ত আমাদের স্বরচিত। আমার নিজস্ব। যেখানে আমি অকপট, আমি অবিরল। ছোট্ট সে গণ্ডি। মাত্র কয়েকজন সেই বৃত্তের অন্তর্গত। সপ্তদশ শতকের ইংরেজ কবি জন ডান এইরকম এক বৃত্তভাবনার কথা বলে গিয়েছিলেন। আমরা যেভাবে গণিতে বৃত্ত আঁকতে কম্পাস ব্যবহার করি, তিনিও সেইভাবে বৃত্ত রচনা করেছিলেন।

staff-blog
staff-blog
শেষ নাহি যে

শেষ! এই শব্দটার মধ্যে একটা মায়া আছে। একটা কান্নাও আছে বোধহয়। শেষ বলে কি কিছু হয়? আবার অন্য ভাবে ভাবলে শেষ তো হয়ই। জন্ম শব্দের মধ্যেই তো তার অস্তিত্বহীনতার কথা বলা আছে! জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে। ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষ মানে পূর্ণ ছেদ। এরপর আর কিছু নেই।

staff-blog
staff-blog
আমার নিজের মুদ্রাদোষে

আজ আমাদের যেকোনও আড্ডায় হামেশাই বলি কাউকে না কাউকে, কী রে, কী হল? এত aloof কেন? কোনও প্রবলেম? কথাটা যেহেতু প্রায়ই বলি, তাই এই aloofness নিয়ে আমরা খুব একটা মাথা ঘামাই না, তার প্রবলেম নিয়েও বিশেষ উদ্বিগ্ন হই না। এই aloofness-ই তো একধরনের alienation! যে alienation ব্রেখটের নাটকে পেয়েছি আমরা অসাধারণভাবে।

staff-blog
staff-blog
ভয় দূর হল কই?

০১০ সাল থেকে বিশিষ্ট কয়েকজনের মুখ দিয়ে কলকাতা মুড়ে ফেলা হয়েছিল পরিবর্তনের স্লোগানে। এক বছর হয়ে গেল নতুন শাসন ব্যবস্থাও এসে গেছে এ রাজ্যে। কিন্তু স্কুলে, কলেজে, পার্ক স্ট্রিটে, বর্ধমানে, নোনাডাঙায়, পাহাড়ে, জঙ্গলে পাল্টালো কি ছবিটা? যার তৃণমূল নেই, সিপিআইএম নেই, কংগ্রেস নেই, বিজেপি নেই-সে কী করবে? তাকেও তো বলতে দিতে হবে, আমি ভয় পাই না কাউকে। না কি তাকে সারাজীবন শুনে যেতে হবে, 'আপনি কিছুই দেখেননি মাস্টারমশাই'!

staff-blog
staff-blog
ধন্যি ছেলের অধ্যবসায়!

রচনার শিরোনাম দেখে অনিবার্যভাবে মনে পড়ে যাবে সুকুমার রায়কে। মনে পড়ে যাবে গঙ্গারামকে। কিন্তু আমাদের ছেলেটি কোনওদিন ফেল করেনি। সে বরাবরই ফার্স্ট বয়। সে 'পাঁচ জনের একজন নয়, একেবারে পঞ্চম'। তার সময়ে সে-ই ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। তার ব্যাটিং দেখলে আট বছরের বালকের চোখে রোদ্দুর খেলা করে। সে ক্লান্ত করনিকের সেরা বিনোদন, অশীতিপর বৃদ্ধের বাঁচার অক্সিজেন। আক্ষরিক অর্থেই গত দু'দশক ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের অভিভাকের নাম সচিন তেন্ডুলকর। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত নামও সে।

staff-blog
blog-img

আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।

blog-img

বর্তমান রাজ্য সরকার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই রকম বর্বর হামলা এখন হয় না, সাত আট শো বছর আগে হত। বিশ্বমানের শিক্ষাবিদরা গবেষণাগারে বর্শা এবং লোহার রডের আস্ফালন দেখতে অভ্যস্ত নন। বিশ্বমানের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসের মধ্যে বাইরের গুন্ডাদের থেকে ধর্ষণের হুমকি শোনেন না এবং ছাত্ররা ক্লাসের মধ্যে গুন্ডাদের মারে রক্তাক্ত হন না। ১০ এপ্রিলের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রেসিডেন্সির পুনরুজ্জীবন উদ্যোগে বাধা পড়তে বাধ্য।

blog-img

দোলনায় দুলতে রাজি আছি, কিন্তু দোল না! স্কিনে মেলানিন বেড়ে যাবে, কমপ্লেকশনের বারোটা বেজে যাবে, চুলের টেক্সচারের বারোটা বেজে যাবে। বিরিবিরি আবির ভরা মাথা ইঃ, দাঁতমুখে কালি ছিঃ, কনট্যাক্ট লেন্সে বালি.. এ কি ভদ্রমহিলাদের খেলা! বিশেষ করে আমার মতো সুন্দরীরা দোল খেলে না। যবে থেকে আয়নায় সেল্ফ-অ্যাডমিরেশন শুরু করেছি, তবে থেকেই দোলের দিন প্রচুর অমিতাভ বচ্চনের ছবি আর এফ এম শুনি, সেফ সাইডে থেকে। জিজ্ঞেস করলেই সোজা হিসেব দিই, সবাই যদি রং-বালতি-পিচকিরি নিয়ে নেমে যায়, তবে দেখবে কে?

blog-img

এই তো সেদিন, গ্রীষ্মের এক দীর্ঘ দুপুরে পাঁচ সন্তানকে স্থবির করে চলে গেলেন মা। তীব্র কান্নায় খানখান হাসপাতাল। দূরে বিমূঢ় জিজ্ঞাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে পিতা। অর্ধশতাব্দীরও আগে তিনি এসেছিলেন। পুতুল খেলার পর্ব পেরিয়ে তখন সদ্য চু-কিতকিতে ওস্তাদি চলছে।