প্রযুক্তির মহানায়ক

By সুদীপ্ত সেনগুপ্ত | Last Updated: Saturday, October 8, 2011 - 09:00
 
সুদীপ্ত সেনগুপ্ত  

দশমীর সকালে কম্পিউটার খুলেই গুগলের হোম পেজে লেখাটা দেখা গেল: স্টিভ জোবস, ১৯৫৫-২০১১। জোবস বলেছিলেন, মৃত্যু সম্ভবত জীবনের শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন। একজন উদ্ভাবক তথা শিল্পপতির পক্ষে এটাই বিরল সম্মানের যে তাঁর মৃ্ত্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক শ্রদ্ধা জানালেন। কিন্তু তার চেয়ে আমাদের কাছে বেশি উল্লেখযোগ্য মনে হয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট, এমনকি ‌অ্যাপলের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী সামসুং যেভাবে স্টিভ জোবসকে বিদায়ী প্রণাম জানিয়েছে সেটা। জোবস প্রমাণ করলেন যে, গলা কাটা প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক জগতেও যে এক আধ জন নিজের কর্মের দ্বারা ব্যতিক্রম হয়ে উঠতে পারেন। সকলেই জানেন, ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল কম্পিউটার বলতে আজ আমরা যা বুঝি তাকে বর্তমান চেহারায় নিয়ে আসার পিছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদেরই সর্বাগ্রগণ্য স্টিভ জোবস। প্রযুক্তির ইতিহাসে কত বেশি সংখ্যক মানুষের জীবনে সরাসরি গুণগত পরিবর্তন এনেছে - এই বিচারে পার্সোনাল কম্পিউটার নিশ্চয়ই একেবারে প্রথম সারিতে থাকবে।
জোবসকে বিল গেটস এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের অন্য মহারথীরা যে অকুণ্ঠ বিদায় অভিনন্দন জানালেন, তার থেকে আর একটা জিনিসও প্রমাণ হল। আমরা সাধারণ মানুষরা যতই জগতকে শুধুই প্রতিযোগিতাময় হিসাবে দেখি না কেন এবং ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের কম্পিটিশনের সাধনা শেখাই না কেন, সকলে তা মনে করেন না। কর্ম এবং ভাবনার উচ্চতম স্তরে সহযোগিতার মূল্যও কিছু কম নয়। হার্ডওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম আর সার্চ ইঞ্জিনের ত্রিফলাই তথ্যপ্রযুক্তির শক্তি। কোনও এক জন বা এমনকি একটি সংস্থার পক্ষেও তিনটি ধারাতেই উচ্চতম উত্কর্ষ অর্জন সম্ভব নয়। পরস্পরের শক্তি একত্রিত করতে পারলেই উপভোক্তার লাভ। অতএব সকলেরই লাভ। বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রকৃতিতে যৌন মিলনের ফলে বিবর্তন দ্রুত অগ্রসর হয়েছে, জীবজগতে বিপুল বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। একই মানুষের ভাবনার জগতেও বিভিন্ন আইডিয়ার মিলনের ফলে দ্রুত সভ্যতা এগিয়েছে, এসেছে নতুন নতুন উদ্ভাবন, মানুষের জীবনে উন্নতি। স্টিভ জোবস, বিল গেটসরা এটা জানেন, বোঝেন তাই প্রতিযোগীকেও এক অর্থ সহযোগীর মর্যাদা দেন। আমার নিজের মনে হয়েছে এর মধ্যে শিক্ষার উপাদান আছে।



First Published: Saturday, October 8, 2011 - 09:00
TAGS:


comments powered by Disqus