রং, ন্যাচারাল মানে হার্বাল

Last Updated: Thursday, March 21, 2013 - 21:52

বাজার চলতি রঙে প্রচুর ভারী ধাতু, অ্যাসিড, ক্ষারজাতীয় পদার্থ, কাঁচের গুঁড়ো মেশানো থাকে যার ফলে ত্বকের ক্ষতি তো হয়ই, শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকী এইসব রং তৈরি করতেও প্রচুর ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। অনেক গুঁড়ো রঙে চকের গুঁড়ো বা সিলিকাও মেশানো হয়। মেলানো থাকে অ্যাসবেসটসও। যার সামান্য পরিমান শরীরে গেলেও ক্যান্সার পর্যন্তও হতে পারে। অনেক তরল রঙে মেশানো থাকে ক্ষতিকারক ইঞ্জিন অয়েল বা নিম্নমানের তেল যার ফলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে। এমনকী সাময়িক ভাবে অন্ধও হয়ে যেতে পারে মানুষ।
১. কাল রঙে মেশানো হয় লেড অক্সাইড। যার থেকে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. সবুজ রঙে মেশানো হয় কপার সালফেট। চোখে অ্যালার্জি, চোখ ফুলে যাওয়া, এমনকী সাময়িকভাবে মানুষ অন্ধও হতে যেতে পারে মানুষ।
৩. রুপোলি রঙে মেশানো হয় অ্যালুমিনিয়াম ব্রোমাইড। বেশি মাত্রায় শরীরে গেলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
৪. নীল রঙে মেশানো হয় প্রুসিয়ান ব্লু। এর থেকে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
৫. লাল রঙে মেশানো হয় মারকিউরি সালফেট। এর থেকে ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।

হার্বাল রং কী?
লাল- গাঢ় লাল চন্দন লাল আবির হিসেবে খুব ভাল। রংও যেরকম সুন্দর, সেরকমই ত্বকের পক্ষেও ভাল। এছাড়াও শুকনো জবা ফুলের গুঁড়োর সঙ্গে যেকোনও হার্বাল পাউডার মিশিয়েও তৈরি করা যায় অরগ্যানিক লাল রং। শুকনো বেদানার খোলা গুঁড়ো দিয়েও বানানো যায় লাল রং।
হলুদ- দুই চা চামচ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে দ্বিগুণ পরিমান বেসন ও অল্প মুলতানি মাটির গুঁড়ো মিশিয়ে তৈরি করা যায় ন্যাচারাল হলুদ রং। শুকনো গাঁদা ফুল, হলুদ ক্রিসানথেমাম ফুলের গুঁড়ো থেকেই পাওয়া যায় বিভিন্ন রকমের হলুদ রং। এইসব ফুলের শুকনো পাঁপড়ি গুঁড়ো করে, তার সঙ্গে বেসন মিশিয়ে তৈরি হলুদ রং ত্বকের পক্ষে খুব ভাল। কমলা গাঁদা ফুলের শুকনো পাঁপড়ির গুঁড়োর সঙ্গে কম বেশি অন্য হলুদ রং মিশিয়ে তৈরি করা যায় কমল রং।
নীল- নীল গুলমোহর ফুল, জংলি বাদাম ফুল বা নীল জবার শুকনো পাঁপড়ি গুঁড়ো করে যেকোনও হার্বাল পাউডার বা ময়দা মিশিয়ে বানানো যায় নীল রং। ফুলের পাঁপডির সঙ্গে হেনা গুঁড়ো মেশালে মিলবে অন্য ধরনের কালচে নীল রং। পাবেন বেগুনিও।
সবুজ- সবুজ গুলমোহর ফুলের শুকনো পাঁপড়ির গুঁড়ো, শুকনো পালক পাতা গুঁড়ো, হেনা পাতা গুঁড়ো, পুদিনা পাতা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়োর সঙ্গে পাউডার বা ময়দা মিশিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবুজ রং তৈরি করা যায়। বিভিন্ন ধরনের সবুজ মিশিয়ে পাওয়া যেতে পারে বিভিন্ন রকমের সবুজ আবির।

কীভাবে চিনবেন?
অনেক সময়ই রং ভাল না খারাপ তা দেখে চেনার উপায় থাকে না। তাই রং কেনার সময় ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। চোখ, কান একটু খোলা রাখলেই ঠকার হাতে থেকে নিজেকে বাঁচানো যায় অনেকটাই-
১. বাজার চলতি রঙে চকচকে ভাব আনার জন্য ক্ষতিকারক অভ্র ও কাঁচ গুঁড়ো মেশানো থাকে। দিনের বেলা রঙ কেনার চেষ্টা করুন। রাতে বাতির আলোয় সবরংই চকচক করে। দিনে রোদ পড়ে চকচক করে এরকম রং এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
২. রং কেনার সময় হাতে ধরে দেখুন। যদি দেখেন খসখসে ও ঝেড়ে ফেলার পরও হাতে দানা দানা লেগে রয়েছে, তবে সেই রং না কেনাই ভাল। হার্বাল রং অনেক মিহি হয় এবং ঝেড়ে ফেললে হাত থেকে ঝড়ে পড়ে যায়।
৩. একদম লুজ সস্তা রং না কিনে একটু দাম দিয়ে প্যাকেজ করা রং কিনুন। প্যাকেট খুলে সন্দেহ হলে সেই রং ব্যবহার করবেন না।
৪. রং কেনার সময় শুঁকে দেখুন। অনেক সময় রঙে মেশানো ক্ষতিকারক পদার্থের গন্ধ রঙে থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আবার সেইসব গন্ধ কাটাতে সিন্থেটিক গন্ধ যোগ করা হয়। হার্বাল রঙের স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ থাকে বা গন্ধহীন হয়।
৫. ভাল করে খোঁজ নিয়ে জানুন কোথায় হার্বাল রং কিনতে পাওয়া যায়। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্রছাত্রীরা হার্বাল রং তৈরি করেন। দোলের একমাস আগে থেকে এই রং কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়াও আরও বেশ কিছু জায়গায় হার্বাল রং পাওয়া যায়।
৬. অনেক সময় হার্বাল রঙের নামে প্রচুর খারাপ রং প্যাকেজ করে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। রং কেনার সময় এই ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
তবে শুধু রং বেছে কেনাই নয়, দোল খেলার সময়ও কিছু কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত। দূর থেকে মুখে আবীর না ছুঁড়ে কাছে নিয়ে মাখালে আনন্দ একটুও কমবে না। কিন্তু ছুঁড়লে চোখে, নাকে বেকাদায় রং ঢুকে মজা মাটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই। সেরকমই পিছন থেকে চেপে ধরে নয়, রং মাখান সামনে থেকে।



First Published: Thursday, March 21, 2013 - 21:52


comments powered by Disqus