রাজেশ খান্না: কীভাবে দেখতেন তাঁর নায়িকারা?

Update: July 19, 2012 20:36 IST

প্রথম সুপারস্টার হিসেবে হোক বা রোম্যান্টিক অভিনেতা হিসেবে। রাজেশ খান্নার বর্ণময় জীবন ছিল স্বপ্নের মতো। তাঁর শেষ যাত্রাও ছিল ঠিক ততটাই বর্ণময়। বলিউডের প্রায় সব বড় তারকা অগনিত ভক্তের চোখের জলে ভিলেপার্লেতে শেষ হল সেই যাত্রা। সারা দেশ যখন তাঁর প্রয়াণে শোকাহত, কীভাবে তাঁর স্মৃতিচরণা করলেন তাঁর নায়িকারা?

শর্মিলা ঠাকুর- রাজেশ খান্না যে শুধুমাত্র প্রথম সুপারস্টার ছিলেন তা নয়। অন্য কোনও অভিনেতা কোনদিন তাঁর জনপ্রিয়তায় পৌঁছতে পারেননি। সব বয়সের মহিলাদের মধ্যেই তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। কম ছিল না তাঁর পুরুষ ভক্তের সংখ্যাও। তাঁর অভিনয়ের দক্ষতা বা গলার স্বর ছিল অনবদ্য। ওনার সঙ্গে প্রচুর ছবিতে প্রচুর ভাল স্মৃতি রয়েছে আমার। যা আমার সারাজীবনের সম্পদ।

আশা পারেখ- আমাদের প্রথম ছবি `বাহারো কে সাপ্নে`র সময় রাজেশ খান্নার জনপ্রিয়তা এতটা ছিল না। সেইটা দ্বিতীয় ছবি ছিল ওনার। রাজেশ খান্না তখন খুবই লাজুক স্বভাবের ছিলেন। তবে আমাদের দ্বিতীয় ছবি `কাটি পতঙ্গ`-এর সময় রাজেশ খান্নার জনপ্রিয়তা ছিল চরমে। তাঁর বাড়ির সামনে সেইসময় প্রচুর মহিলারা দাঁড়িয়ে থাকতেন তাঁর দেখা পাওয়ার জন্য।

হেমা মালিনী- রাজেশ খান্নার প্রয়াণ আমি মেনেই নিতে পারছি না। আমাদের প্রথম ছবি `আন্দাজ` এর গান `জিন্দেগি এক সফর` আমার পছন্দের তালিকায় সর্বদা প্রথম স্থানে থাকবে। অসামান্য অভিনেতা ছিলেন রাজেশজি। খুব তাড়াতাড়ি শট বুঝে অনায়াসেই কাজ করতেন তিনি। রোম্যান্টিক হিরোর মেজাজী স্বভাবে সবসময়ে অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। সেটেও অনেকসময় দেরিতে আসতেন। তবে লাইমলাইট থেকে সরে যাওয়ার পর তিনি একাই থাকতেন। আমাদের অনেক সিনেমায় এক সাথে কাজ করার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। যদিও আমার সঙ্গে ওনার বিগত কয়েক বছর যোগাযোগ ছিল না, ওনার স্মৃতি আমার কাছে সবসময়ই সুরক্ষিত থাকবে।

শাবানা আজমি- রাজেশ খান্নার মতো জনপ্রিয় অভিনেতা আমি আর দেখিনি। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করা 'নাসিহাত' ছবি আমার জীবনের সম্পদ। আমাকে রাজেশজি নিজের 'লাকি ম্যাসকট' বলে মনে করতেন। তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা শুনলেও আমি নিজের চোখে কিছুই দেখিনি। তবে মহিলাদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। একজন মহিলা একদিন ওনাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যায়। ওনার নিজের চরিত্রও ছেলেমানুষিতে তে ভরা ছিল। কোন সুপারস্টার যে এত কাছের মানুষ হতে পারেন তা অভাবনীয়।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।