বিশ বছর আগে হারিয়েছে অপুর সংসারের চিত্রনাট্যও: সন্দীপ রায়

Update: December 9, 2012 20:57 IST

শুধু পথের পাঁচালী নয়। সত্যজিত রায়ের আরও এক কালজয়ী চলচ্চিত্র অপুর সংসারের চিত্রনাট্যটিও খোয়া গিয়েছে, তাও বিশ বছর আগে। এমনই জানিয়েছেন খোদ সত্যজিৎ পুত্র পরিচালক সন্দীপ রায়। পৃথিবীর বৃহত্তম চলচ্চিত্র আর্কাইভ প্যারিসের সিনেমাটিক ফ্রান্সিসেই রাখা ছিল মূল্যবান অপুর সংসারের চিত্রনাট্য। দু`দিন আগেই পথের পাঁচালীর চিত্রনাট্যর প্রথম কপি ও সত্যজিত রায়ের নিজের হাতে আঁকা কিছু ছবি প্যারিস থেকে খোয়া যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অপুর সংসারের চিত্রনাট্য খোয়া যাওয়ার খবরে পশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিদেশি ওই সংগ্রহশালার ঔদাসীন্য নিয়ে। সেইসঙ্গে আরও গুরুতর হতে শুরু করেছে বিতর্ক।

সন্দীপ রায়ের কথায় প্রায় দু`দশক আগে পথের পাঁচালীর প্রথম চিত্রনাট্যের প্রথম কপির সঙ্গেই হারিয়ে যায় অপুর সংসারের চিত্রনাট্যটি। সন্দীপ রায় জানিয়েছেন, "আমরা বিশ্বাসই করতে পারিনি। সিনেমাটিক ফ্রান্সিসেতে থেকে শুধু পথের পাঁচালীর চিত্রনাট্যই নয়, অপুর সংসারের দ্বিতীয় চিত্রনাট্যটিও খোয়া যায়।" কীভাবে সন্দীপ এই দুঃসংবাদটি পেয়েছিলেন, সেকথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন,"২০ বছর আগে আমি বাবার চিত্রনাট্যগুলি সম্পর্কে সিনেমাটিক ফ্রান্সিসের কাছে জানতে চাই। আমাকে জানানো হয় পথের পাঁচালী ও অপুর সংসারের চিত্রনাট্য দুটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।" তবে কি এই ঘটনা ওই বিদেশি সংগ্রহশালার তরফে তাঁকে জানানোর প্রয়োজন মনে করা হয়নি? সন্দীপের দাবি, তিনি চিঠি না লিখলে মূল্যবান নথি দুটি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানাই যেত না। "সেই সময় আমি তাঁদের ঔদাসীন্য বুঝতে পারিনি। এখনও বাবার ছিবিগুলি সেদেশের মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ওনার কাজ সম্পর্কে তাঁরা কীভাবে এতটা অনুভূতিহীন হতে পারেন?" প্রশ্ন তুলেছেন সন্দীপ রায়।

সন্দীপ যে সময়ের কথা বলছেন, সত্যজিত রায় তখনও জীবিত। পথের পাঁচালী ও অপুর সংসারের মতো ছবির চিত্রনাট্য হারিয়ে যাওয়ার কথাটা পরিচালক সত্যজিতকে জানানোর সাহস করে উঠতে পারেননি সন্দীপ। তাঁর কথায়,"আমাদের সাহস ছিল না। বিষয়টি তাঁকে না জানানোই ভাল বলে ঠিক করি আমরা।" একথা অনস্বীকার্য, খবরটি কানে পৌছলে তিনি মর্মাহত হতেন। সেকথা স্বীকারও করে নিয়েছেন সন্দীপ।









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।