দিওয়ালির রকেটে চড়ে বলিউড

দিওয়ালির সঙ্গে সারা দেশের সম্পর্কটা আলো, বাজি আর দেদার খাওয়া-দাওয়ার হলেও বলিউডের সঙ্গে কিন্তু এর সমীকরণটা একেবারেই আলাদা। দিওয়ালিতে বরাবরই লক্ষ্মীদেবী তাঁর প্রসন্ন হাত রেখে এসেছেন বক্সঅফিসের মাথায়। দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষাতেই সারা বছর তীর্থের কাকের মতো বসে থাকে বহু বিগ বাজেটের ছবি। আর বছরের শেষে দেখাও যায় দিওয়ালি রিলিজই হয়ে যায় সেই বছরের সবথেকে লাভজনক ছবি।

Updated: Nov 13, 2012, 08:33 PM IST

দিওয়ালির সঙ্গে সারা দেশের সম্পর্কটা আলো, বাজি আর দেদার খাওয়া-দাওয়ার হলেও বলিউডের সঙ্গে কিন্তু এর সমীকরণটা একেবারেই আলাদা। দিওয়ালিতে বরাবরই লক্ষ্মীদেবী তাঁর প্রসন্ন হাত রেখে এসেছেন বক্সঅফিসের মাথায়। দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষাতেই সারা বছর তীর্থের কাকের মতো বসে থাকে বহু বিগ বাজেটের ছবি। আর বছরের শেষে দেখাও যায় দিওয়ালি রিলিজই হয়ে যায় সেই বছরের সবথেকে লাভজনক ছবি। বিগত ২০ বছর ধরে এই ট্রেন্ডই চলে আসছে বলিউডে। জব তক হ্যায় জান নাকি সন অফ সর্দার, শেষ হাসিটি কে আসবে তা সময়ই বলবে। আমরা বরং তার মধ্যে একটু স্মৃতি হাতড়ে নিই।
বলিউডে দিওয়ালিতে মুক্তিপ্রাপ্ত সেরা দশ সিনেমা (কাউন্টডাউনের ধাঁচে শেষ থেকে শুরু করা হল)-

১০. ওম শান্তি ওম- মুক্তি: ৭ নভেম্বর ২০০৭। বাজেট: ৩০ কোটি। বক্সঅফিস আয়: ১৪৯ কোটি।

ড্রিমজ আনলিমিটেডের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর শাহরুখের রেড চিলি এন্টারটেনমেন্টসের প্রথম ছবি। অভিনেতা শাহরুখকে কিং খান বানানোর পিছনে বড় অবদান আছে দিওয়ালির। আর প্রশোজক শাহরুখকে উজাড় করে দিল সেই দিওয়ালি। সমালোচকরা যতই ভুরু কোঁচকান বক্সঅফিস বলছে ওম শান্তি ওম দিওয়ালির রসায়ন জমে ক্ষীর।
৯. গোলমাল রিটার্নস- মুক্তি: ২৯ অক্টোবর ২০০৮। বাজেট: ২৪ কোটি। বক্সঅফিস আয়: ৮৩.২০ কোটি।
রোহিত শেঠি মানেই নতুন কিছু আর স্মার্ট হাসি। তাতে তো বক্সঅফিস এমনিতেই মাত হয়। কিন্তু দিওয়ালিতো বলিউডকে উজাড় করে দিতে জানে। সেই ফায়দা তুলে দিওয়ালির সেরা দশ মেগাহিট কাউন্টডাউনে জায়গা করে নিয়েছে গোলমাল ফিরে এল...গোলমাল রিটার্নস।

৮. দিল তো পাগল হ্যায়- মুক্তি: ৩১ অক্টোবর ১৯৯৭। বক্সঅফিস আয়: ৫৮ কোটি।
ত্রিকোণ প্রেমের গল্প নিয়ে তো সিনেমা অনেক হয়েছে। কিন্তু সেই গল্পের সঙ্গে যদি শাহরুখ, স্বল্প পোষাকের সুন্দরী দুই নায়িকা, মনভোলানো গান আর যশ চোপড়া হাতের ছোঁয়া থাকে তাহলে তো কথাই নেই। আর হ্যাঁ। সেটা যদি দিওয়ালি রিলিজ হয় তা যে চিরকালীন হিটের তালিকায় জায়গা করে নেবে সেটাই স্বাভাবিক। যতোই হোক, দিল তো পাগল হ্যায়।
৭. বাজিগর- মুক্তি: ১২ নভেম্বর ১৯৯৩। বক্সঅফিস আয়: ১৪ কোটি।
হারকে ভি জিতনে ওয়ালো কো বাজিগর কহতা হ্যায়...যে ছবির ডায়লগ এতোটা সরাসরি মনে আঘাত করে তার বক্সঅফিস অ্যাপিলটাও তো অন্যরকম হবেই। ভিলেন শাহরুখ মেগাহিটের রসায়ন পেয়েছিল এই সিনেমা থেকেই।

৬. মহব্বতেঁ- মুক্তি: ২৭ অক্টোবর ২০০০। বাজেট: ১৮.১ কোটি। বক্সঅফিস আয়: ৭৪.১১ কোটি।

আদিত্য চোপড়ার `পাতা ছোড়া` প্রেমের কাহিনি বক্সঅফিসে ঝড় তুলেছিল। কেউ বলে বড় বেশি ন্যাকা ন্যাকা , কারও বা বক্তব্য জোর করে ভালবাসার বিক্রি। ব্যাপার যাই হোক মহব্বতেঁ দেখিয়েছিল দিওয়ালি, শাহরুখ আর চোপড়া ক্যাম্প একসঙ্গে থাকলে পাথরেও ফুল ফোটানো সম্ভব।

৫. বীরজারা- মুক্তি: ১২ নভেম্বর ২০০৪। বাজেট: ২৫ কোটি। বক্সঅফিস আয়: ৯৪.২২ কোটি।
সীমান্ত পেরোনো প্রেমের একটা আলাদা আবেদন আছে। পাকিস্তানের মেয়ে আর ভারতের ছেলে এমন দুজনের প্রেমের কাহিনি যে বাজারে বিকোয় তা বরাবর প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু দিওয়ালির বাজার সেই প্রেমের কাহিনিকে মেগাহিটে উত্তীর্ণ করে তার বড় প্রমাণ বীর জারা। খেয়াল করেছেন কি এখানেও ব্যাপার সেই এক? দিওয়ালির আমেজ, শাহরুখ যশ চোপড়া।

৪. কুছ কুছ হোতা হ্যায়- মুক্তি: ১৬ অক্টোবর ১৯৯৮। বাজেট: ৮.৩৩ কোটি। বক্সঅফিস আয়: ১০৩.৩৮ কোটি।

সেদিনের করণ জোহর আর আজকের কে জো এই দুটোর মাঝে যে আকাশপাতাল ব্যবধান আছে তার মাঝে আছে কুছ কুছ হোতা হ্যায়। মাঝারি মানের গল্প, ভাল অভিনয়, দুরন্ত গানের ককটেলে তৈরি হওয়া এই সিনেমা বাণিজ্যিক বলিউড ছবির মাইলস্টোন। আজ থেকে ১৪ বছর আগে দিওয়ালির দিনেই মুক্তি পেয়েছিল এই ছবি। তবে এই একটা ছবি যা নিয়ে বলিউড বিশেষজ্ঞদের ধারণা দেওয়ালি এফেক্ট ছাড়াও হয়তো এই ছবি দারুণ ব্যবসা করত। তবে কিনা দিওয়ালি রিলিজ বলে কথা। তাই...

৩. ডন- মুক্তি: ২৪ অক্টোবর ২০০৬। বাজেট: ৩৫ কোটি। বক্সঅফিস আয়: ১০৫ কোটি।

অমিতাভের ডনকে কে কি শাহরুখ খান ছাপাতে পারবেন? এমন একটা প্রশ্ন ছিলই এই ছবিকে ঘিরে। নিন্দুকরা যাই বলুন। ২০০৬ দিওয়ালি কিন্তু শাহরুখকে আবার দুহাত ঢেলে দিল। নতুন বোতলে পুরনো মদ ঢেলে (এটা আমাদের বক্তব্য, এমন কথাই তখন বলা হয়েছিল।) শাহরুখের ডন বক্সঅফিসে ঝড় তুলল।

২. রাজা হিন্দুস্তানি- মুক্তি: ১৫ নভেম্বর ১৯৯৬। বক্সঅফিস আয়: ৮৫ কোটি।
শাহরুখকে দিওয়ালিতে ভগবান ভর করে। বক্স অফিসের হিসাব বলছে বলিউডে রিলিজ হওয়া শেষ পনেরো বছরে যত হিট ছবি রিলিজ করেছে তার বেশীরভাগটাই কিং খানের। ১৯৯৬ দেওয়ালিতে অবশ্য বাজিমাত করেন আমির খান। ধর্মেশ দর্শনের ছবি রাজা হিন্দুস্থানিতে ছবি হিট করার নতুন সংজ্ঞা লেখেন আমির। ১৯৬৫ তে মুক্তিপ্রাপ্ত জব জব ফুল খিলে থেকে নকল করে তৈরি হওয়া এই সিনেমা দিওয়ালিতে রেকর্ড টাকার ব্যবসা করে।
১. দিলওয়ালে দুলহনিয়ে লে জায়েঙ্গে- মুক্তি: ২০ অক্টোবর ১৯৯৫। বাজেট: ৪ কোটি। বক্সঅফিস আয়: ১২২ কোটি।
বলিউডের সর্বকালীন হিট ছবির তালিকায় দীর্ঘ কয়েক বছর ছিল এই ছবি। চোপড়া ক্যাম্পের এই ছবির মাধ্যেম শাহরুখ বলিউডে শক্ত মাটি পেয়েছিলেন। এই ছবিই বলিউডকে শিখিয়েছিল দিওয়ালি মে মাল হ্যায়, ফরক সির্ফ ইতনা হ্যায় কে উসে পকড়ানা কি টেকনিক জাননা জরুরি হ্যায়।