মিশরে শুরু দ্বিতীয় দফার প্রেসিডন্ট নির্বাচন

মে মাসে প্রথম দফার ভোটে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাননি কোনও প্রার্থীই। এই পরিস্থিতিতে শনিবার নয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হল মিশরে। ভোটগ্রহণ চলবে রোববার পর্যন্ত।

Updated By: Jun 16, 2012, 04:45 PM IST

মে মাসে প্রথম দফার ভোটে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাননি কোনও প্রার্থীই। এই পরিস্থিতিতে শনিবার নয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হল মিশরে। ভোটগ্রহণ চলবে রোববার পর্যন্ত।
মে মাসের নির্বাচনে যুযুধান ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে কেউ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ার দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে মিশরে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এই মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মহম্মদ মুরসি এবং হোসনি মুবারক জমানার শেষ প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিকের মধ্যে। কারণ, বুধবার হওয়া নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এই দুই প্রার্থী। গত বছর তহরির স্কোয়্যার বিপ্লবে একনায়ক হোসনি মুবারকের পতনের পর কায়েরোর কুরসিতে কায়েম সামরিক সুপ্রিম কাউন্সিলের তরফে ইতিমধ্যেই আগামী ১ জুলাই ক্ষমতা হস্তান্তরের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
তবে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট সংসদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় ঘোষণার পর এখন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য আর্মড ফোর্সেস (এসসিএএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তারা বলেছে, সংসদ ভবনে আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের অধিকারী মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি আদালতের এ রায় এবং ধারাবাহিক ঘটনাকে `পূর্ণ সেনা অভুত্থান` বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, হোসনি মোবারকের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মিশর আবার সংঘাতের দিকে যাবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুবারকের পতনের পর মিশরে ক্ষমতার রাশ ছিল সেনা কর্তৃপক্ষের হাতে। দেশে গণতন্ত্র আনার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। কিন্তু, সে কাজে দেরি হওয়ায় শুরু হয় গণবিক্ষোভ। মুবারক জমানায় বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র তাহরির স্কোয়্যার ফের ভরে উঠতে থাকে পরিবর্তনকামী জনতার ভিড়ে। বহু বাধা বিঘ্ন কাটিয়ে অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গণতন্ত্রের প্রথম ধাপের স্বাদ পায় মিশরের আম-জনতা। জাতীয় আইনসভার দুই কক্ষের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয় মুবারক জমানার প্রধান বিরোধী শক্তি মুসলিম ব্রাদারহুড। দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও নিশ্চিতভাবেই পাল্লা ভারী দলের নেতা মুরসির। নির্বাচনী প্রচারে মুরসি স্বভাবতই নিজেকে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। অন্যদিকে শফিক ভোটারদের স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

.