ফরাসি মার্জার সরণীতে গত শতাব্দীর আভিজাত্য

Update: July 5, 2012 10:06 IST

রকমারি লেস এবং রেশমের ওপর চোখধাঁধানো চওড়া এমব্রয়ডারি। আর তার সঙ্গে ছিল রঙের সঙ্গে সাজুয্য রেখে সঠিক কাপড়ের চালাক ব্যবহার। লেবানিজ ডিজাউনার এলি সাবের ফল উইনটার কালেকশনের এটাই ছিল সারমর্ম। হালফ্যাশন নয়, বরং অতীত শতাব্দীর জমকালো মেজাজটাই ধরা পড়েছে ফ্রান্সের এই ফ্যাশন শোতে।

এ যেন কোনও এক সুলতানের বিলাসবহুল অন্দরমহল। এদিকে, ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে হরেক কিসিমের দুর্মূল্য কাপড়চোপড়। কোথাও লেস, কোথাও আবার রেশম। তার ওপরেই ব্যস্ত হাতে চলছে শেষমূহুর্তের সেলাইফোঁড়াই।  জমকালো সব পোশাকে কোনও এক বিগত শতাব্দীর হাতছানি।  ফরাসি দুনিয়ার ফ্যাশনে এই ভাবেই নিজের ফল উইনটার কলেকশনকে তুলে ধরলেন প্রখ্যাত ডিজাইনার এলি সাব।

হলিউডি অনুষ্ঠানের রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য সুন্দরী তারকাদের একচেটিয়া পছন্দ এলি সাব। তবে এবার কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নয় ,বরং ফেলে আসা এর্ডওয়ার্ডিয়ান ফ্যাশনই উঠে এলো এলির কলেকশনে। প্রতিটি গাউন জুড়েই রয়েছে চওড়া এমব্রয়ডারি। তাতে আবার সোনালি সুতোরই আধিপত্য। হাই নেকলাইনের পাশাপাশি ফ্লেয়ারড স্লিভ কিন্তু কব্জিতে বেশ আঁটো। এ যেন প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য ফ্যাশনের যুগলবন্দী। রঙের ক্ষেত্রেও সূক্ষ্ম সমতা বজায় রেখেছেন এলি। কালো বা গাঢ় নীলের শীতলতার পাশাপাশি কালেকশনে জায়গা করে নিয়েছে হালকা নীল থেকে সবুজের উষ্ণতাও। রকমারি লেসের ছোঁয়ায় একদিকে যেমন ফুরফুরে মেজাজে মার্জার সরণীতে হেঁটে যাচ্ছেন তন্বী মডেলরা অন্যদিকে ভারী এমব্রয়ডারি এনে দিয়েছে গাম্ভীর্যও। তবে শোতে বিশেষভাবে নজর কাড়লো ব্রোকেডের জমকালো ওয়েডিং গাউনই।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।