এভরিবডি ক্যান ডান্স!

Update: February 21, 2013 17:07 IST

শর্মিলা মাইতি

ছবির নাম- এনিবডি ক্যান ডান্স
রেটিং- ****

আমাদের দেশের ছবিতে নাচ নাকি একেবারে অপরিহার্য অঙ্গ। কারণ হিসেবে অনেকেই অনেক কথা বলেন। কিন্তু সবচেয়ে যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যাটি হল, কৃষ্ণলীলার স্মৃতি। রাধার সঙ্গে নাচেন কৃষ্ণ, সঙ্গে গোপিনীগণ। শেষোক্তদের প্রয়োজন হয় শুধুই সাইড-ডান্সার হিসেবে। এঁরা কোরাসে কথা বলেন, কিংবা একেবারেই নীরব থেকে নেচে চলেন। এই কনসেপ্ট অথবা ট্র্যাডিশনটা সমানে চলছে গত শতক ধরে। মধুবালা, সায়রাবানু, হেমামালিনী থেকে নব্বই দশকের নায়িকা পর্যন্ত। গোটা সিনেমা দেখে বিদেশি দর্শক এ যাবত্‍ প্রশ্ন করে এসেছেন, আচ্ছা ওঁদের কী হল, যাঁরা পেছনে নাচছিলেন? কোথায় গেলেন তাঁরা?...

এখান থেকে চিন্তা করতে শুরু করলে এনিবডি ক্যান ডান্স ভারতীয় ছবির জগতে প্রথম সফল প্রচেষ্টা যা ওই প্রশ্নটির সঠিক উত্তর দিতে পেরেছে। নায়ক-নায়িকাকেন্দ্রিক ছবির গড্ডালিকাপ্রবাহে প্রথম হাতুড়ির ঘা। ওয়র্ল্ড সিনেমার নিরিখে প্রথম ডান্স মুভি। ইতিমধ্যেই অনেক ছবি দেখেছি বিদেশি ভাষার, নাচই যেখানে অভিনয় এবং অভিব্যক্তি। এই জন্যেই বলিউডের ইতিহাসে একটা নাম ইতিমধ্যেই লেখা হয়ে গেল... প্রভু দেবা।
এতদিন যাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নায়ক-নায়িকারা ক্যামেরার সামনে নাচতেন দর্শকের হাততালি পাওয়ার জন্য, তাঁরাই এবার একজোট হয়ে ক্যামেরার সামনে। গণেশ আচারিয়া, প্রভু দেবা ও পরে সরোজ খান, সিজার। সঙ্গে একঝাঁক তরুণ, যারা নাচকেই জীবনের মূলমন্ত্র করেছে। কোরিয়োগ্রাফির ভাষায় যে একটা গোটা ছবিকে তুলে ধরা সম্ভব, দর্শককেও সিটের মধ্যে সেঁটে রাখা সম্ভব, আঙুল দিয়ে দেখালেন তাঁরা। চূড়ান্ত সফল হয়েও যাঁরা পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে পারেন না। প্রতিষ্ঠিত কোরিয়োগ্রাফারকেও ডান্স সিকোয়েন্সে আনকোরা নায়ক বা নায়িকা যাতে স্টেপ ভুল না করেন, মোটামুটি পারফেকশন নিয়ে নাচতে পারেন, সেইজন্যেই অবিশ্রাম নাচতে হয় ক্যামেরাম্যানের পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। কোরিওগ্রাফারের জীবনের টানাপোড়েন, নাচের ছন্দে দুঃখ, দুর্দশা দারিদ্র্য উপেক্ষা করে মাথা তুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তবুও এর মধ্যেই রয়েছে নানা স্তরবিভাগ। ধনীর সন্তানেরা ডান্স ক্লাসে অত্যাধুনিক নাচের স্টেপস শিখতে পারে প্রচুর পয়সা খরচ করে। গরীবের কাছে সেটা নেহাতই বিলাসিতা। তবু তারাও কি স্বপ্নের অভিমুখে এগিয়ে যাবে না? এই প্রশ্ন সমাধান করতেই আবির্ভাব উদারমনস্ক ডান্স টিচারের। তিলতিল করে গড়ে তোলা ডান্স
অ্যাকাডেমিতেই পলিটিক্সের শিকার হওয়ার পর তিনি হঠাত্‍ই বুঝতে পারেন তাঁর সামনে বিরাট দায়িত্ব। মুম্বইয়ের ধরাভির প্রতিভাবান নাচিয়েদের স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব নিলেন তিনি। টেলিভিশনের ডান্স শো-তে এন্ট্রি নেওয়ার মতো যোগ্যতায় পৌঁছতে হবে তাদের।

গল্পটা প্রেডিক্টেবল। একগোছা বহুমূল্য পাথর যদি হয় সব কটি ডান্স সিকোয়েন্স, তবে একটু সহজসরল সুতোর মতোই গলে চলে গেছে স্টোরিলাইন। অহেতুক মারপ্যাঁচ ছাড়াই। সুগন্ধি বিরিয়ানির সঙ্গে একবাটি নিরামিষ রায়তাই তো খাপ খায়, তাই না? প্রভু দেবার অভিনয়ের মান নিয়েও সংশয় অবশ্যম্ভাবী। ভুরু কুঁচকোনো যায় ময়ূর পুরীর চিত্রনাট্য দেখেও। আরও মনোযোগী বাছাইপর্ব প্রয়োজন ছিল মিউজিক ডিরেকশনের ক্ষেত্রে। কিন্তু সব প্রশ্নগুলো ধুইয়ে দেয় অপূর্ব নৃত্যের জলপ্রপাত। গণপতি উত্সবের ভাসানপর্বের নাচই হোক, অথবা ডান্স ফ্লোরে ব্যালে, হিপহপ, সালসা- হলের প্রতিটি কোণই নৃত্যে রত হয় কোন যাদুমন্ত্রবলে। এমন প্রিসিশন, পারফেকশন আর এনার্জি বলিউডের তাবড় নায়ক নায়িকার কাছ থেকে পাওয়া অসম্ভব। প্রায় গুপির গানের মতোই পলকহীন হয় দর্শক। নাচের ছন্দ এসে মেশে দর্শকের রক্তপ্রবাহে। আরও বেশি করে অনুভূত হয় থ্রিডি হওয়ার জন্যেই। বিশেষ করে শেষ পর্বে স্টেজে গণপতি নৃত্য। যাঁরা দেখবেন, তাঁরাই অনুভব করবেন, চেয়ার থেকে আপনাকে প্রায় ম্যাজিক কার্পেটে উড়িয়ে নিয়ে চলেছে।

বলিউডের প্রথম ডান্স মুভি হৃদয়ে লেখা থাকবে অনেকদিন। যতদিন না এর থেকে ভাল কিছু হয়। তবে হ্যাঁ। গণেশ আচারিয়া এবার পাকাপাকিভাবে অভিনয়ে নামতে পারেন। বলিউডে এই চেহারার অভিনেতা এখন মোস্ট ওয়ান্টেড।

Post Your Comment

Total Comments:1

This is Remo`s Film but you forget to mention his contribution...........

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।