তিন মূর্তির আবির্ভাব, শাশ্বতর কিস্তিমাত

তিন ইয়ারি কথার পর, তিন বন্ধুর কাণ্ডকারখানা নিয়ে বাংলায় তেমন কমেডি হয়েছে কি? স্মৃতি হাতড়ে তো তেমন কিছু মিলল না। ডামাডোল কিন্তু সেই ফাঁকা জায়গাটায় বেশ জাঁকিয়েই বসার সাহস রাখে। সাহেব ভট্টাচার্য, সমদর্শী দত্ত ও রাজদীপ গুপ্ত তিনজনই নবীন তারকা। এ ছবিতে তাঁদের কেমিস্ট্রি আর কমিক টাইমিং অসাধারণ। কেউ কারওর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেননি। সবাই মিলে যেন উপভোগ করতে করতে অভিনয় করেছেন যাতে ছবিটাই উপভোগ্য হয়।

Updated By: Feb 27, 2013, 03:36 PM IST

শর্মিলা মাইতি
ছবির নাম: ডামাডোল
রেটিং: ***
তিন ইয়ারি কথার পর, তিন বন্ধুর কাণ্ডকারখানা নিয়ে বাংলায় তেমন কমেডি হয়েছে কি? স্মৃতি হাতড়ে তো তেমন কিছু মিলল না। ডামাডোল কিন্তু সেই ফাঁকা জায়গাটায় বেশ জাঁকিয়েই বসার সাহস রাখে। সাহেব ভট্টাচার্য, সমদর্শী দত্ত ও রাজদীপ গুপ্ত তিনজনই নবীন তারকা। এ ছবিতে তাঁদের কেমিস্ট্রি আর কমিক টাইমিং অসাধারণ। কেউ কারওর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেননি। সবাই মিলে যেন উপভোগ করতে করতে অভিনয় করেছেন যাতে ছবিটাই উপভোগ্য হয়। তিন ইয়ারি কথার মতোই স্ল্যাং-এর ছড়াছড়ি। এমন ভাষাই ব্যবহার করা হয়েছে যে ভাষায় কলেজের ছেলেছোকরারা কথা বলেন। তিন বন্ধুই আলাদা আলাদা স্বপ্ন দেখে, প্রেমে পড়ে, বিয়রের বোতল নিয়ে আড্ডা মারে। চিত্রনাট্যের প্রোটাগনিস্ট হল গিয়ে প্রেম। সে-ই কলকাঠি নাড়ে। এক বন্ধুর মানস-প্রেমিকাকে উড়িয়ে নিয়ে আর এক বন্ধুর বক্ষলগ্না করে দেয়। জানাজানি হতেই চিত্তির। উদ্ধারকর্তার ভূমিকা নেয় আর এক বন্ধু। সিনেমার কাহিনির মতো তার স্ক্রিপ্ট ফলো করে চলতে থাকে ডামাডোল।
মোদ্দা কথা, ছবিতে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন বহুমুখী প্রতিষ্ঠিত নায়ক থাকলে তো আর কোনও চিন্তাই নেই। আবার ভিলেন-ঘেঁষা কমিক চরিত্রে চাবুকের মতো সপাট অভিনয় করেছেন শাশ্বত। তিনিই মধ্যমণি। ছবিতে প্রোডিউসর মাফিয়া। টাকা না রিটার্ন পেলে গুন্ডা দিয়ে পেটান না। নির্মমভাবে আক্কেল দাঁত তুলে নেন। যত বেশি লস, তত বেশি দাঁত! বুঝুন ব্যাপারটা।

প্রথম দিকটা বেশ স্লো হলেও, শাশ্বত-র এন্ট্রিই গতিশীল করেছে ছবিটাকে। তিন নায়ক আর প্রিয়ঙ্কার স্বচ্ছন্দ অভিনয় যোগ্য সঙ্গত করেছে। ভাল অভিনয় করেছেন নবাগত গুঞ্জন এবং অনিন্দিতা। সব মিলিয়ে, অভিনয়ের দক্ষতায় ডামাডোল মন ছুঁয়ে যাবে দর্শকের। অনায়াসে এই টিমকে নিয়ে ডামাডোল পার্ট টু ভাবা যেতে পারে। আরও ভাল হতে পারত, কেন হল না সে জন্য একটু চোখ রাখা যাক ক্যামেরার পেছনে।
একটা সত্যি বলি। এমন ভাগ্য সচরাচর কোনও পরিচালকের হয় না। এক ঝাঁক ভাল আর্টিস্ট পেয়ে গিয়েছেন। এ বছর এই প্রথম একটা ছবি পেলাম রিভিউ করবার জন্য, যেখানে ক্যামেরার সামনের লোকগুলো অসাধারণ, ক্যামেরার পেছনের লোকেরা সবে হাত পাকানো শুরু করেছে। চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, ক্যামেরাম্যান আর সম্পাদকের যদি একটা অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়, তবে নির্দ্বিধায় সবার শেষে থাকবেন সম্পাদক। প্রথম থেকেই বেশ কিছু দৃশ্য অবলীলায় বাদ দিলে ছবিটা কোন পর্যায়ে যেত যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা সহজেই অনুমান করতে পারবেন। সম্পাদকের ঘাড়ের কাছেই নিঃশ্বাস ফেলবেন ক্যামেরাম্যান। এখনও তাঁর হাত কাঁপছে। অবিলম্বে কোনও জাঁদরেল ডিওপির তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে বেশ কিছুদিন। তার পরেই পরিচালক। স্ট্রং অভিনেতা-অভিনেত্রী না পেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতেন কে জানে। রাশ টানায় বড়ই শিথিল। একশয় তেত্রিশ পাবেন চিত্রনাট্যকার। মাঝেমাঝেই অতিরিক্ত অনাবশ্যক স্ল্যাং ব্যবহারের জন্য। নচেত্‍ গল্পটি ভালই ফেঁদেছেন।
যাই হোক, আমে দুধে মিশে গেল। এন্ড প্রোডাক্টটা বেশ রসালোই হল। ক্যামেরার পেছনের লোকগুলো না মিসটেক না করলে, একই সঙ্গে রিলিজ করা কাই পো চে-র যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারত এ ছবি। সে সুযোগ আর পাওয়া গেল না।

.