এন্টারটেনমেন্টে ফুল মার্কস

Update: January 30, 2013 21:19 IST

শর্মিলা মাইতি

ছবির নাম : দিওয়ানা
রেটিং: ***



শোনা যাচ্ছিল, এ ছবির শুটিং-এর শেষ দিকগুলো নাকি জিত জলদি শুটিং শেষ করে বাড়ি ফিরতেই ব্যস্ত হয়ে উঠতেন। রাতে একরত্তি মেয়ে নবন্যা একটুখানি উঁ করে উঠলেই ন্যাপি বদলাতে ব্যস্ত হয়ে যেতেন। কাজেই এ ছবির সাকসেস বা ফেলিয়োর, পুরোটাই ডেডিকেটেড টু বেবি ডল! বাবা হিসেবে জিতের প্রথম রিলিজ দিওয়ানা। দেখে মনে হল, কন্যাভাগ্য মন্দ নয়!

ছবিতে জিত ছোট শহরের বড় বিজনেসম্যান বাবার ছেলে। শ্রাবন্তীর বাবা মাফিয়া ডন! এতেই তো প্লট অর্ধেক তৈরি। দর্শক জানেন প্রথমে কেমন প্রেমের কথাকলি আর শেষের আগে ঢিসুমঢিসুম। তামিল ছবি দীপাবলির রিমেক। মূল তামিল ছবিটি দেখার সুযোগ হয়নি, কাজেই সাদৃশ্য খুঁজে খুঁজে পরিচালককে হাস্যাস্পদ করে তোলার দায় নিচ্ছি না। সত্যি বলতে গেলে, গল্প এমনই তরতরিয়ে এগোয় যে অত ভাবনাচিন্তার অবকাশও নেই। সামনের আর পেছনের, কিংবা ব্যালকনিতে বসা দর্শককেও বেশ মনের আনন্দে পপকর্ন চিবোতে দেখলাম যে!
এমনিতেই দক্ষিণী ছবির রিমেকের চাহিদাই টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা করে রেখেছে বলে অনেকেই বিদ্রূপ করেন। আসলে আসল ব্যাপারটাই দর্শকের চোখ এড়িয়ে যায়। কিম্বা, ইচ্ছাকৃতভাবেই বিশেষ আলোচনা করা হয় না। বাংলা ছবির সিনেমাটোগ্রাফিই বদলে দিয়েছে চিন্তাভাবনা। অনেক বেশি স্মার্ট, অনেক বেশি সচেতন। গত চার-পাঁচ বছর যে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা চলছিল, তারই একটা সফল ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কমার্শিয়াল ছবিতে। গল্পের সীমিত পরিসরেই এক্সপেরিমেন্টেশনের প্যান্ডোরা-বক্স খুলে যাচ্ছে। খুব সাধারণ সিকোয়েন্সগুলোতেও বাজিমাত করছেন ক্যামেরাম্যান। এ ছবিতে পাবেন তার অসংখ্য নমুনা।

দিওয়ানা ছবিকে একটাই ছকে ফেলা সম্ভব। টোটাল এন্টারটেনমেন্ট। গল্পও রয়েছে সেফ সাইডে। ক্লাইম্যাক্সও। ছবির মূখ্য আকর্ষণ জিত-শ্রাবন্তী জুটি। দুজনেই আলাদা আলাদাভাবে সফল। গত বছর দুজনের কেরিয়ারগ্রাফেও হিট ছবির তালিকা একাধিক। তা ছাড়া, জিত-শ্রাবন্তী জুটিকে দর্শক চেনে সেই `চ্যাম্পিয়ন` থেকে। শ্রাবন্তী তখন নেহাতই টিনএজার। মিষ্টি মুখশ্রী এখনও ধরে রেখেছেন এই নায়িকা।
সময় যতই এগিয়েছে, এই জুটির কেমিস্ট্রি আরও জমছে। পরিপক্ক হচ্ছে ইঙ্গিতের আদানপ্রদান। ঝগড়া হোক বা প্রেম, এই জুটির আলাপ বেশ উপভোগ করছেন দর্শক। মুহুর্মুহু হাততালি জিতের প্রত্যেক অ্যাপিয়ারেন্সে। জিম ওয়র্কআউট আর যোগাসনের যত্নে লালিত ও চর্চিত চেহারা। এক কথায় চমত্কার। ভাষার জড়তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন। খাপে খাপ, প্রচুর চাপ। এক সেন্টেন্স-এ কথা শেখ ধর তক্তা মার পেরেক! আমার সংলাপ নয়, ছবিতে বলেছেন জিত। প্রচুর সিটি-হাততালি আর উল্লাস দিয়ে বরণ করেছেন দর্শক।

ছবির প্রথম দিকে গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে স্মৃতি হারাচ্ছে নায়িকা। শেষে স্মৃতি ফিরে পেয়ে নায়ককে আর চিনতে পারছে না। বড়সড় `সদমা` এফেক্ট! যাই হোক, শ্রাবন্তীকে এই মুহূর্তে বলা চলে, টলিউডের ডেফিনেশনে আইডিয়াল দুষ্টুমিষ্টি নায়িকা। অভিনয়ের সুযোগ কম থাকা সত্ত্বেও যেটুকু শ্রাবন্তীকে পাওয়া গেল তাতে এটা নিশ্চিত, আগামী দশ বছরে আরও অনেক কিছু পাওয়ার আছে এঁর কাছ থেকে। নায়িকাসুলভ অভিনয় আর নাচগান ছাড়াও ইনি অসম্ভব ভাল মিমিক্রি করতে পারেন। আশা করা যায়, কোনও পরিচালক এই সযত্নে লুকনো প্রতিভাকে ব্যবহার করবেন অচিরেই। ছবির গান এখনই হিট। শানের গলায় নেশা নেশা মন ছুঁয়ে যায়। সব মিলিয়ে, একবার দেখেই আসা যায় উইকএন্ডে। সময়টা ভালই কেটে যাবে।

Post Your Comment

Total Comments:1

v goooooooooood

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।