ফিল্ম রিভিউ: ক্যায়া সুপার কুল হ্যায় হম

Update: August 1, 2012 21:58 IST

ফি-হপ্তা এত এত ফিল্ম রিলিজ! কোনটা দেখবেন, কেন দেখবেন, কী দেখবেন? বক্স অফিসে টিকিট কাটার আগে এক্সক্লুসিভ অ্যান্ড সুপারফাস্ট রিভিউ পড়ে নিজেই জেনেবুঝে নিন। হলি-বলি-টলি ছবির চুলচেরা বিচার করছেন ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি শর্মিলা মাইতি।

একূল-ওকূল দু`কূল গেল!

ছবি-ক্যায়া সুপার কুল হ্যায় হম
প্রযোজক-একতা কপূর
পরিচালক- সচিন ওয়ার্দি
অভিনয়ে- তুষার কপূর, রিতেশ দেশমুখ, নেহা শর্মা, সারা জেন দিয়াস, অনুপম খের
রেটিং- 3/10

ব্যবসায় লক্ষ্মী ঝাঁপি উপুড় করে দিলে অনেকেরই মাথা হেলে যায়। একটু আধটু খুচরো বিকিকিনির ইচ্ছে জাগে। `দ্য ডার্টি পিকচার` সুপারহিট হওয়ার পরে একতা কপূরের অমনি একটু মুড়ি মিক্সচার বানিয়ে বেচার ইচ্ছে জেগেছিল বোধহয়। ভাইয়ের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করে দিলেন কম খরচে। নো সুইজারল্যান্ড, লন্ডন, মলদিভ্স। নো বিগ স্টার। অনলি ভাই অ্যান্ড ভাই। তুষার কপূর অ্যান্ড রিতেশ দেশমুখ। সঙ্গে একজোড়া `পাগ` (পাগল না! ওই যে যে-কুকুরটা নেটওয়ার্কের মতো পিছু নেয়)। চন্দ্রাহত অনুপম খের। লোক-দেখানো লেসবি দুই বান্ধবী নেহা ও সারা। বিরিঞ্চিবাবা-টাইপ চাঙ্কি পান্ডে। এদের নিয়েই `ক্যায়া সুপারকুল হ্যায় হম`। শুটিং মুম্বই টু গোয়া। খরচের ব্যাপারে মোটেই হালকা ছাড়েননি একতাদিদি। তড়িঘড়ি শুটিং, চটজলদি মিউজিক লঞ্চ। কী-হল বুঝে উঠতে না উঠতেই প্লেক্সে-প্লেক্সে গোটা ছবিটাই রিলিজ। ফুল ইকনমি-ক্লাস!

অবশ্য `দ্য ডার্টি পিকচার`-এর পর এ-ছবির নাম অনায়াসে হতেই পারত `ডার্টি ডান্সিং`। `দিল গার্ডেন গার্ডেন` করে রিতেশ আর তুষারের সে কী আগডুম-বাগডুম নাচ। তার মধ্যেই দুই বান্ধবী কেনই বা পিটি-প্যারেড করেন আবার উধাও হয়ে যান? পৌরুষ প্রমাণ করতে কেনই বা তুষার সমুদ্রের ধারে চাড্ডি নামিয়ে পাছু দেখান? আর একটা ব্যাপার, যখন-তখন দেখতে পাবেন পাগে-পাগে `ইয়ে` চলছে...রিতেশ তাঁর পোষা পাগকে `ফ্যামিলি প্ল্যানিং`-এর জন্য ভাড়া দেন। পাগের কল্যাণেই তাঁর মুম্বই শহরে ইয়াবড় ফ্ল্যাট, চকমিলনো গাড়ি। পাগল আর কাকে বলে!

তেড়ে গরম পেরিয়ে সবে বৃষ্টিকাল এসেছে। এমনিতেই দমকা বাতাস আর মাঝেমধ্যে ইলশেগুঁড়ির আদরে আবহাওয়া `কুল-কুল`। তার মধ্যেই সুপারকুল হওয়ার আশা নিয়ে ছবি দেখতে ঢুকে, বলব কি, বেশ কুলকুল করে ঘেমে অস্থির হয়ে গেলাম! এসিতেই। কানঝালাপালা-করা গানের গুঁতোয়। ডাবল মিনিং ডায়লগের কাতুকুতুতেও হাসি পায় না! বিশ্বাস করুন, মোটে এক ঘন্টা হল ছবি দেখে বেরিয়েছি। সুপারকুল-এর গল্প ভুলে গেছি বিলকুল। অবশ্য মিথ্যে বলব না, ইন্টারভ্যালেও নারকেলি কুল না টোপাকুল, ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছিলাম না।

নিন্দুক বদনাম দেবেন না। ছবিতে গল্প থাকতেই হবে এমন কথা অক্ষয়কুমার বলেননি। গোদার-ত্রুফো-বেলা টারও বলেননি। আমি তো কোন ছার! বলার মধ্যে যেটা- সারা ছবি জুড়ে সংলাপ ও সিকোয়েন্সে বহু বিখ্যাত ছবির প্রতি মুচকি-হাসির-ট্রিবিউট। শোলে থেকে ডার্টি পিকচার হয়ে ভিকি ডোনর। এই রিতেশ-তুষারের মুখ দিয়েই বলিয়েছেন, "আনন্দ-এর রাজেশ খন্না, শোলে-র অমিতাভ ছিলেন এক্সট্রাঅর্ডিনারি ফিল্মের হিরো। আমরা হলাম গিয়ে অর্ডিনারি ফিল্মের হিরো। আমরা মারা যাই না। মারি।" এমন সততার জন্য বাহবা না দিয়ে পারা যায়!

তবু কী করা যাবে, সুপারকুল বানিয়ে একূল-ওকূল দুকূলই যেতে বসেছে একতার। ভরসাহারা হয়ে কূলে একা বসে তুষারও। এমন হল-পালানো ছবি ফিলহাল হয়নি। হাফটাইমেই যে সুড়সুড় করে উঠে পালাচ্ছে প্রেমিক-প্রেমিকার দল! তবে হ্যাঁ, একটা ব্যাপারে একশোয় একশো পাবেন একতা। আদিম, অকৃত্রিম ভ্রাতৃপ্রেম। আপন ভাইয়ের জীবনে-কিস্সু-হবে না বলে দূরে না ঠেলে, বার বার মুখ দেখানোর স্পেস তৈরি করেছেন। টাইম দিয়েছেন। সুপারকুল ধৈর্য! একতা-তুষার কাহিনি নিয়েই ইন্টারেস্টিং ছবি হতে পারে। ইয়ার্কি নয়। ইচ্ছুক কাহিনিকাররা ভেবে দেখতে পারেন।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।