কবে কী হল, কেন হল?

Last Updated: Tuesday, December 4, 2012 - 16:09

শর্মিলা মাইতি
তবে তাই হোক
১/২*
বাংলা ছবিতে স্বর্ণযুগ-টু এর দু বছর পেরিয়ে গিয়েছে। আর্ট ছবিকে অফবিট বলার কায়দাও সর্বজনবিদিত। তবে জোরগলায় এমনটা-আগে-হয়নি মোড়কে পরিবেশন, ছবি রিলিজের আগেই অঢেল প্রশংসা, ফোটোশুটের তুবড়ি, পোস্টারে নায়িকার পিঠখোলা ইশারা সব মিলিয়ে একেবারে উত্তুঙ্গ হাইপের পর সিনেমাহলে ঢুকে যদি দেখি আদ্যন্ত কাঁচা ছবি, তাহলে কেমন লাগে বলুন তো! এমতাবস্থায়, এছবির রিভিউ লিখতে বসে বক্স অফিসে বাড়ানো কিছু হাতকে অ্যালার্ট করি. পোস্টার দেখে প্রতারিত হবেন না।
এক শিল্পী (সমদর্শী) সাদা ক্যানভাসের চেয়ে জীবন্ত নারীর ত্বকে আঁকিবুকি পছন্দ করেন। নায়িকা তিলোত্তমাকে (স্বস্তিকা) ক্যানভাস করার ইচ্ছেপ্রকাশ করেও প্রত্যাখ্যাত হন। সাইকিয়াট্রিস্টের (জয়) কাছে ট্রিটমেন্ট করাতে গেলে সাইকিয়াট্রিস্ট তাঁকে তাঁর দেশের বাড়ি অর্থাত্ রাজবাড়িতে নিয়ে যান। মুখোমুখি নায়িকা। সে এখন রাজবাড়ির রানিমা। পুরনো প্রেম জাগিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা, ইত্যাদি। শেষে ওই রাজবাড়িরই অভিশপ্ত ছাদ থেকে কায়দা করে ফেলে দেন নায়িকা।

এমনিতে রিভিউ লিখতে গেলে গল্প বলার পক্ষপাতী নয় আমি। কিন্তু প্রোমোশনের সময়ে ছবিটা অনেক শৈল্পিক দাবী রেখেছিল। তাই সামান্য কয়েক লাইনে গল্পটা বললাম পাঠকের অবগতির জন্য। বাস্তবে, শিল্পকে শিকেয় তোলা হয়েছে। ছবির শুরুও কাঁচা যাত্রাপালা স্টাইলে, শেষটাও তার ব্যতিক্রম নয়। মাঝখান দিয়ে নিজের খেয়ালে গল্পটা বয়ে গিয়েছে।

এই গল্পে একজন নায়িকা সর্বত্র বিরাজমান। দেখলাম যাঁর শরীর নিয়ে কোনও না নেই। গোটা ছবিতে কারণে অকারণে তার দৃষ্টান্ত রেখেছেন। মনপ্রাণ খুলে বুক-পিঠ `এক্সপোজ` করার সুযোগ করে নিয়েছেন। ফল? দেখা গেল তাঁর অবিশ্বাস্য পৃথুল শরীর। পর্বতপ্রায় পিঠে পুরু ভাঁজের কমতি নেই, কিন্তু অভিনয়টা সেইরকমই খাঁজভাঁজহীন। ফ্ল্যাট। ফুটুর ফুটুর করে আধখোলা ঠোঁটে কথা বলেন। গলায় কোনও ক্রেসেন্ডো ডিমিউনেন্ডো নেই। দুর্ভাগ্যক্রমে এ ছবির পরিচালকের নাম অনীক দত্ত নয়। সাধ্য নেই এমন নায়িকাকে খুঁড়ে অভিনয় বের করেন। সবচেয়ে বড় কথা, এমন একটা গল্পে স্কিন-শো-এর থেকেও বেশি ডিম্যান্ড করে অল্পবয়সি, মায়া-মাখানো আর্টিস্টিক কোনও মুখ ও চোখ-টানার মতো স্ক্রিন প্রেজেন্স। যে নায়িকাকে স্ক্রিনে আমরা দেখলাম, তার বয়স চল্লিশও হতে পারে, কিংবা পঞ্চাশ। এমন ঝুরঝুরে স্কিন আর কুঁচকোনো মুখ, হালফিল কোনও নায়িকার দেখিনি। আর একটু কঠিন ভাষায় বললে, নায়িকা হিসেবে যে স্বস্তিকা কোনও স্কোরই করতে পারবেন না, সেটার প্রধান কারণ কাস্টিং ডিরেক্টর আর প্রধান ভিলেন সংলাপ। প্রায় কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই একটা গভীর বিষয় নিয়ে চর্চা করা হয়েছে, কিন্তু গল্প কোনওখানেই দানা বাঁধেনি। কীভাবে চার-পায়ে দাঁড়াবে সে-ভাবনাটা নিজেরা না-ভেবে নায়িকার শরীরসম্ভারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। কী দুর্দশা! ছবিতে দেখি বেচারা নায়িকার পনের-কুড়ি মিনিট বাদেবাদেই মাথা ধরে। টিপটিপ করে। সারা ছবিতে কত বার যে ওষুধ খাওয়া নিয়ে সংলাপ আছে, গুনে শেষ করা ডিফিকাল্ট।

আর একটা ভাববার বিষয়। এত পত্রপত্রিকায় পড়ি, নায়িকাদের নাকি আর অন-স্ক্রিন চুমু খেতে আপত্তি নেই। ঘনঘন ব্যাপারটা আজকাল ঘটছেও। কিন্তু আজকাল শয্যাদৃশ্যে প্রেম, আরও স্মার্ট ভাষায় বললে ফোরপ্লে ব্যাপারটা উঠেই যাচ্ছে। এ ছবিতে বিশেষ করে, সবই যেন অধৈর্য কামড়াকামড়ি। চুমুও সৌন্দর্যহীন। সশব্দ। এক কথায়, শয্যাদৃশ্যগুলোয় আর যাই হোক, `তবে তাই হোক` বলে ছাড় দেওয়া যাচ্ছে না। বেশ সম্মুখসমরে নামা দুই বিজাতীয় সৈন্য মনে হচ্ছে। সমদর্শী আর জয় দুজনের কেউই কম যান না।
হাজার হোক, ছবির নাম তবে তাই হোক। কবে কী হবে এই আশা নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ধৈর্য ধরে বসেছিলাম। যবে যাই হোক, গল্পের তন্ত্রীতে তেমন কোনও টংকার দেখলাম না। নায়িকার নার্সিসিজম ছাড়া বিশেষ কিছুই বলার নেই। অবিশ্বাস্য সঙ্গীতচয়ন। কোনওটা মার্কামারা তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞাপনী ছবির মতো। কোনওটায় সুর ডানা মেললেও বেখাপ্পা পিকচারাইজেশনের কবলে পড়ে দফারফা হয়েছে। তবু এ ছবিতে মনে রাখার মতো মুখ একমাত্র সমদর্শীই। অবিলম্বে সঠিক ছবিতে কাস্টিং করা উচিত তাঁকে, যদি সময় থাকতে থাকতে তাঁর প্রতিভাকে সদ্ব্যবহার করতে হয়। তালগোলপাকানো গল্পে উদ্ভট রোলে অভিনয় না করাই শ্রেয়। পরিচালক শেষমেশ শিল্পীকেই পপাত চ করে হাতফাত ঝেড়ে নিশ্চিন্ত হয়েছেন পরিচালক। তবে তাই হোক। আর হতভাগ্য দর্শক? ভাবতে বসবেই, এ কী হল, কবে হল, কী যে হল...



First Published: Tuesday, December 4, 2012 - 16:09


comments powered by Disqus