মন-খারাপ-করা জিপ্পির মন-ভাল-করা ছবি

Last Updated: Saturday, May 11, 2013 - 23:19

শর্মিলা মাইতি
ছবির নাম- জিপ্পি
রেটিং- ***
ছোটদের নিয়ে ছবির কনসেপ্ট প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বদলে যায়। কারণ ছোটরা বড্ড তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়, আর তাদের জায়গা দখল করে নেয় যারা, তাদের মনগুলোও একই রকম থাকে না। ঘন ঘন বদলায়। বয়ঃসন্ধিক্ষণে পৌঁছনো এক সদ্যকিশোরীর জীবনের নানা টানাপোড়েন নিয়ে একটা রঙিন গল্প বললেন সোনম নায়ার। এর আগে তিনি অয়ন মুখার্জির সঙ্গে সহ-পরিচালনা করেছেন `ওয়েক আপ সিড` ছবিতে।
প্রযোজকের ভূমিকায় করণ জোহর। এর আগেও একঝাঁক সদ্যকিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ছবি বানিয়ে বেশ সাফল্যই পেয়েছেন। শোনা যায়, সোনম এই ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে যাওয়ার প্রথম দিনেই প্রযোজক হিসেবে `ওকে` করে দিয়েছিলেন। সেটা যে নেহাত খেয়ালবশে করেননি, তা বোঝা যাবে ছবি দেখলেই।
নতুন পরিচালক। প্রথম ছবি। নিজেরই জীবন থেকে খুঁড়ে আনা কাহিনি। সযত্নলালিত একটি স্মৃতির অ্যালবামকে মেলে ধরলেন মাত্র ৯৭ মিনিটের পরিসরে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অন্যখানে, পোস্টারের একঝাঁক কিশোরকিশোরীর সব্বাই নতুন কিংবা প্রায়-নতুন মুখ। মায়ের চরিত্রে দিব্যা দত্ত ছাড়া পরিচিত মুখ প্রায় নেই। এমন এক তারকা-বর্জিত ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখা সত্যিই সাহসের ব্যাপার। সাহসিনী সোনম সেটা বেশ ভালভাবেই উতরে দিয়েছেন।

গুরপ্রীত কাউর ওরফে জিপ্পি একটি স্কুলপড়ুয়া চোদ্দ বছর বয়সি মেয়ে। মা-বাবা ডিভোর্সি। নিজের মতো করে জীবনের ঝড়ঝাপটা সামলায়। স্কুলে বান্ধবীদের তাচ্ছিল্য, হেড-গার্ল হওয়ার প্রতিযোগিতা, সবই নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে পার হয়। বেশ একটা কঠিন চরিত্রে অভিনয় করেছে শিশুশিল্পী রমা ভিজ। চেহারা আর অভিনয়ে খাপে খাপ মিলে যায় চরিত্র।
মায়ের সঙ্গে কথোপকথনের দৃশ্যগুলোয় তার অভিনয়দক্ষতাও মিস করবার মতো নয়। ভাল লাগবে ভাইবোনের মধ্যে সম্পর্কের দৃশ্যগুলোও। এটা পরিচালকের কৃতিত্ব না রমার প্রাণবন্ততা জানা নেই। মোটের ওপর দারুণ কেমিস্ট্রিটা পর্দায় প্রতিফলিত হয়েছে পুরোদমে। ভাল লাগে বাকি শিশুশিল্পীদের অভিনয়ও। তাহা শাহ বেশ চোখে পড়বে এই ছবিতেও। স্কুলের হেডগার্ল হিসেবে সামিরা চৌহানও প্রমিসিং। যাঁদের জানা নেই বলে রাখি, এই ছোট্ট সুন্দরী আইপিএলের বিতর্কিত ব্যক্তি ললিত মোদির ভাইঝি। নাম জয়তী মোদি।
অন্যান্য ছবির থেকে একটু আলাদা সুর করেছেন সঙ্গীত পরিচালক বিশাল শেখর। মেলোডির ব্যবহার বেশি। ছোটদের ছবির সুরসৃষ্টির ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত সাবধানী হওয়া দরকার সেটা বোধহয় বুঝেই নিয়েছিলেন তাঁরা। তবে শেষ দিকে পরিচালক আরও একটু এক্সপেরিমেন্টাল হতে পারতেন। প্রত্যাশামাফিক শেষ করার মধ্যে একটু সেফ সাই়ডে থাকার প্রবণতা থাকে। প্রথম ছবির ক্ষেত্রে সেটাই দেখা গেল সোনম নায়ারের ক্ষেত্রে।

সারা ছবিতে ফুরফুরে হাওয়ার মতো বয়ে যায় সারল্য। ফ্যান্টাসির অতিরঞ্জন নেই। অনর্থক মশলাদার করবার তাগিদও নেই। এই সহজ সুন্দরভাবে গল্প বলার টেকনিকটা এ ছবির সবচেয়ে বড় ইউএসপি। মন-ভাল-করা-ছবির তালিকায় অধুনা বলিউডে প্রথম সারিতেই থাকার দাবি রাখে।



First Published: Sunday, May 12, 2013 - 22:21


comments powered by Disqus