মরগ্যানের বিদায়ী ম্যাচে ডার্বি জয় উপহার দিতে মরিয়া লাল-হলুদ শিবির

আজ ডার্বি ম্যাচ দিয়ে শেষ হচ্ছে ফুটবল মরসুম। তার সঙ্গে আজই ইস্টবেঙ্গলে শেষ হচ্ছে ট্রেভর জেমস মরগ্যান জমানা। ডার্বি ম্যাচই ইস্টবেঙ্গল কোচ হিসাবে মরগ্যানের শেষ ম্যাচ। শেষ ম্যাচে মোহনবাগানকে হারিয়ে ঘরোয়া লিগ জয়ের হ্যাটট্রিকের সুযোগ মরগ্যানের দলের সামনে। লিগ খেতাব থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে লাল-হলুদ শিবির।

Updated By: May 23, 2013, 10:56 AM IST

আজ ডার্বি ম্যাচ দিয়ে শেষ হচ্ছে ফুটবল মরসুম। তার সঙ্গে আজই ইস্টবেঙ্গলে শেষ হচ্ছে ট্রেভর জেমস মরগ্যান জমানা। ডার্বি ম্যাচই ইস্টবেঙ্গল কোচ হিসাবে মরগ্যানের শেষ ম্যাচ। শেষ ম্যাচে মোহনবাগানকে হারিয়ে ঘরোয়া লিগ জয়ের হ্যাটট্রিকের সুযোগ মরগ্যানের দলের সামনে। লিগ খেতাব থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে লাল-হলুদ শিবির।
ট্রফির খরা কাটাতে মোহনবাগানের ভরসা এখন O2 জুটি!! O ফর ওডাফা!O ফর ওজবে! মরসুমের শুরুর বাগান কর্তাদের এই চমক মরসুমের শেষ ম্যাচেও কি খেটে যাবে!ওডাফার O আর টোলগে ওজবের O মিলে তৈরি হওয়া O2  শেষ ডার্বি ম্যাচে অক্সিজেন জুগিয়ে মরসমের প্রথম ডার্বি জয়ের স্বাদ কি এনে দিতে পারবে?সমর্থকদের আকাশচুম্বী আশা--ক্লাবের এই O2ই দেবে ডর্বি জয়ের অক্সিজেন!আর তাঁদের মোটিভেট করার জন্য অনুশীলন দেখতে প্রায় শখানেক সমর্থক হাজির!সমর্থকদের মতই করিমের কাছে এই জুটিই যে অক্সিজেন তা বলার দরকার নেই!আর এই  O2-র উপর ভরসা করেই সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সওদাগর করিম।
এখন ঘরোয়া লিগ খেতাব জয়ের স্বপ্নে এই জুটি অক্সিজেন দিচ্ছে কোচ করিম বেঞ্চারিফাকে। আর এই জুটিকে নিয়ে নতুন করে বাগান শিবিরে আলোড়ন!
ঘরোয়া লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক থেকে এক পয়েন্ট দূরে থেকে ডার্বি ম্যাচ খেলতে নামছে ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবারের ডার্বি ম্যাচই মরগ্যানের বিদায়ী ম্যাচ।ইদানিংকালে কলকাতা ময়দানে কোচ হিসাবে তিনিই সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলেছেন। তা সত্বেও পেশাদার মরগ্যানের মধ্যে আবেগের ছিঁটেফোটাও নেই। তাঁর যাবতীয় চিন্তাভাবনা মোহনবাগানকে নিয়েই। দেড়ঘণ্টা অনুশীলনের শেষে মরগ্যান জানিয়ে গেলেন মরসুমের শেষ ম্যাচে ওডাফাদের টেক্কা দিতে তারা প্রস্তুত।
দলগঠনে করিমকে টেক্কা দিতে চাইছেন লাল-হলুদ কোচ। মরগ্যানের মাথায় ঘোরাফেরা করছে বেশ কয়েকটি ভাবনা।অফ ফর্মে থাকা কোনও ভারতীয় স্ট্রাইকারকে না খেলিয়ে চিড্ডি-পেন জুটিকে আক্রমনভাগে খেলিয়ে চমক দিতে পারেন ব্রিটিশ কোচ।সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত একজন মিডফিল্ডার হিসাবে দলে আসতে পারেন কেভিন লোবো বা সঞ্জু প্রধান।তানা হলে চিড্ডির সঙ্গী স্ট্রাইকার হিসাবে খেলতে পারেন বলজিত।
বিদায়ী ম্যাচে হেড স্যারকে জয় উপহার দিতে চান চিড্ডি-মেহতাব-রা।
চিরপ্রতিন্দন্দ্বী মোহনবাগানের কাছে পাঁচ গোলে হারের জ্বালা,আই লিগে কোনওক্রমে অবনমন বাঁচানো। এই পরিস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ট্রেভর জেমস মরগ্যান। পরের তিন বছরে লাল-হলুদে নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়েছেন ব্রিটিশ কোচ। শুধু ধারাবহিক সাফল্যই নয়,মরগ্যান জমানায় ইস্টবেঙ্গল সত্যিই একটা দল হয়ে হয়ে উঠেছিল।বৃহস্পতিবার মরগ্যানের কোচিংয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। বুধবার শেষ অনুশীলন সেরে ফেললেন ব্রিটিশ কোচ।অন্য পাঁচটা দিনের থেকে রুটিনে এতটুকু বদল নেই।সবার আগে ক্লাবে পৌঁছনো।ঘড়ি ধরে মেহতাবদের অনুশীলন। অনুশীলন শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেও মরগ্যান ভাঙলেন না তাঁর চুক্তি ভেঙে চলে যাওয়ার কথা।হাসি মুখে সমর্থকদের কাছে বিদায় সংবর্ধনা নিলেন। বিদায়ী ম্যাচের কথা উঠলেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন বৃহস্পতিবারের ডার্বি ম্যাচের কথা।মরগ্যান যতই পেশাদার হোন না কেন,মন খারাপ তাঁর ছাত্রদের। মেহতাব বলেই ফেললেন,তাঁর দেখা সেরা কোচ মরগ্যান। মোহনবাগানকে হারিয়ে প্রিয় স্যারের বিদায়বেলা স্মরণীয় করতে চান চিড্ডি।
তিন বছরে সাতটা ট্রফি জিতেছেন মরগ্যান। ডারেশন কাপ,শিল্ড,ঘরোয়া লিগ তাঁর ক্যাবিনেটে থাকলেও অপূর্ণ থেকে গেছে আই লিগ জয়ের স্বপ্ন।দুবার রানার্স হয়েও দেশের সেরা ট্রফি জেতা হয়নি তাঁর।ক্লাব থেকে বেরোনোর আগে ফেডারেশন কাপ ট্রফিটা একবার ছুঁয়ে দেখলেন।সুদৃশ্য ট্রফিটা দেখতে দেখতে একবারের জন্য হলেও চোখের কোণটা ছলছল করে উঠল সাহেব কোচের।মুহুর্তের মধ্যেই অবশ্য সামলে নিলেন।তারপর ড্রেস করেই বাড়ির দিকে পা বাড়ানো।গেট থেকে বেরোতেই মরগ্যানের পা ধরে থেকে যাওয়ার আকুতি শুনতে হল সাহেব কোচকে।কোনও প্রতিশ্রুতি না দিয়েই গাড়িতে উঠে রওনা দিলেন বাড়ির উদেশ্যে।

.