তিন বছর রফির সঙ্গে গাইতে অস্বীকার করেছিলেন লতা

Update: January 25, 2013 12:27 IST

রয়্যালটি ইস্যু নিয়ে মহম্মদ রফির সঙ্গে বচসার জেরে তিন বছর তাঁর সঙ্গে গাইতে অস্বীকার করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। `মহম্মদ রফি: মাই আব্বা-এ মেময়র` বইতে রফির জীবন সম্পর্কে বহু অজানা কথার মধ্যে এই বিষয়টিও তুলে এনেছেন তাঁর পুত্রবধূ ইয়াসমিন খালিদ রফি।

ইয়াসমিন লিখেছেন, "১৯৬০ দশকের শুরুর দিকে একটা সময় এসেছিল যখন তাঁদের গাওয়া গানের রয়্যালটি নিয়ে রফির সঙ্গে লতার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। লতা রফির সঙ্গে ডুয়েট গাইতে অস্বীকার করেন। প্রায় তিন বছর তখন লতা ও রফি একসঙ্গে কোনও গান গাননি। লতা তখন মহেন্দ্র কপুরের সঙ্গে গাইতেন। রফির সঙ্গে গাইতেন সুমন কল্যানপুর। লতা চেয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকটি গানে রয়্যালটি দেওয়া হোক। বিষয়টি নিয়ে ছবির প্রযোজকদের কাছেও দরবার করেছিলেন লতা। উনি আশা করেছিলেন রফি ওনার পাশে থাকবেন, যেটা উচিতও ছিল। কিন্তু রফি ওনার পাশে থাকেননি। ওনার বক্তব্য ছিল প্রযোজকরা যখন শিল্পীদের দাবী মতো পারিশ্রমিক দিচ্ছেনই তখন আর রয়্যালটি শেয়ার দেওয়ার প্রয়োজন নেই"।

শেষপর্যন্ত সুরকার জয়কিষেণের হস্তক্ষেপে ব্যাপারটার সমাধান হয়। এই ঘটনার পর তাঁদের একসঙ্গে রেকর্ড করা প্রথম গান ছিল `পলকোঁ কি ছাঁও মে`। দীর্ঘ ৩৫ বছরের কেরিয়ারে এস ডি বর্মন, শঙ্কর-জয়কিষেণ, লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলাল, ও পি নাইয়ার প্রায় সব বড় বড় সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গেই কাজ করেছেন রফি। সঙ্গীত পরিচালক নওসাদ আলি তাঁকে ভারতের আধুনিক তানসেন আখ্যা দিয়েছিলেন।

Post Your Comment

Total Comments:1

Dujaner programme i ami dekhechi,dujanei anek bara shilpi,tabe Lata ba Asha taka paysar byapare bora bor i ektu khut khute

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।