লোনাভলার মাদাম তুসো

Update: August 23, 2012 17:48 IST

লন্ডনে গেলেই অবশ্যই যেতে হবে মাদাম তুসো ওয়াক্স মিউজিয়াম। বছরের পর বছর ধরে লন্ডনে শহরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে মাদাম তুসো। প্রত্যেক বছর শয়ে শয়ে ভারতীয় পর্যটক ভিড় জমান ঐতিহ্যশালী এই মিউজিয়ামে। এঁরা কেউ কি জানেন সকলের অগোচরে এই ভারতে মাটিতেই গড়ে উঠেছে আর একটি মাদাম তুসো?

মুম্বই থেকে লোনাভলার দিকে গেলে রাস্তায় বিলবোর্ডে সুনীল কান্ডালোড়ের `ওয়াক্স` মিউজিয়ামের বিজ্ঞাপনটি চোখে পড়ে। ২০১০-এর ৩১শে মার্চ ১৩ টি মোমের মূর্তি নিয়ে মিউজিয়ামটির উদ্বোধন করেছিলেন কেরল নিবাসী বছর আটত্রিশের সুনীল। এখন সেখানে মূর্তি সংখ্যা ৩৫। শেষ মূর্তিটি স্থাপিত হয়েছে গত ২৬ জুলাই। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মোমের মূর্তি `উদ্‍ঘাটন` করেছেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন গড়কড়ি।
মহাত্মা গান্ধী, পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু, রাজীব গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, আন্না হাজারের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক মনীষীদেরও মোমের মূর্তি ঠাঁই পেয়েছে এখানে। যাঁদের মধ্যে রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী শ্রী রবি শঙ্কর, সাই বাবা, সত্য সাই বাবা সহ আরও অনেকে। উল্লেখযোগ্য ভারতীয় ব্যক্তিত্বরে পাশাপাশি অ্যাডলফ হিটলার, বেনজির ভুট্টো এবং সাদ্দাম হুসেনের মতো প্রভাবশালী ভারতীয় বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মূর্তিও জায়গা করে নিয়েছে সুনীলের মিউজিয়ামে। তবে লোনাভলার এই ওয়াক্স মিউজিয়ামের বিশেষ আকর্ষণ ছত্রপতি শিবাজীর মূর্তি।

দক্ষতা ও নৈপুন্যের সঙ্গে গড়া মূর্তিগুলির সঙ্গে আসল মানুষদের অমিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কাঁচ ও বিশেষ ধরণের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়েচে মূর্তিগুলির চোখ। ভুরু, চোখের পাতা, চুল সবই মানুষের চুল দিয়ে বানানো। এমনকী মূর্তিগুলির পোশাক থেকে জুতো সবই সুনীল সংগ্রহ করেছেন বিশেষ মানুষগুলির পারসোনাল ওয়ার্ডরোব থেকে। কিন্তু লোনাভলাকেই কেন বাছলেন সুনীল? মুম্বই ও পুনের মতো দুটি বড় শহরের মধ্যবর্তী অবস্থানই লোনাভলাকে বাছার কারণ বলে জানিয়েছেন সুনীল। তবে খুব তাড়াতাড়িই মিউজিয়ামটি মুম্বইতে স্থানান্তরিত করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। সেলিব্রিটিদের মূর্তি তৈরির জন্য তাঁদের সহযোগিতাই সবথেকে প্রয়োজনীয় জিনিস। ভবিষ্যতে, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সলমন খান, আমির খানের মতো বলিউড তারকা, শরদ পাওয়ার, নরেন্দ্র মোদীর মতো রাজনৈতিক আইকন ও সচিন তেন্ডুলকর, সাইনা নেহয়াল, এম এস ধোনির মতো খেলোয়াড়দের মোমের মূর্তি বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে সুনীলের।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।