সপ্তক বন্ধনে মানালি

সপ্তক বন্ধনে মৌরি

সপ্তক বন্ধনে মৌরিসাতপাকে বাঁধা পড়লেন মৌরি। তিন বছরের দামাল প্রেমের অবসান। মানালি নতুন জীবন শুরু করলেন সপ্তকের সঙ্গে। সকাল থেকেই রুবির টেগোর পার্কের হীরা গার্ডেনে জোর তোড়জোর। মৌরির বিয়ে বলে কথা। তা কি আর এমনি এমনি হয়? রীতিনীতির গায়ে হলুদ সেরে সন্ধে হতেই সানাইয়ের সুরে মুখরিত চারপাশ। নভেম্বরের হালকা হিমেল সন্ধেতে চাঁদও উঠেছিল, ফুলও ফুটেছিল। হাতি ঘোড়া নাই বা নাচল, মৌরি রানির বিয়েটা কিন্তু হয়েই গেল।

বউ কথা কওয়ের মানালিতো সেই কবে থেকেই সব বাঙালি পরিবারের ঘরের মেয়ে। লাল বেনারসি, সোনার গয়না, চন্দনে তাই আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই সাবেকি টুকটুকে বাঙালি সাজেই ছাদনাতলায় গেলেন তিনি। অন্যদিকে সনাতন ধুতি আর টোপরে বর সপ্তকও ততক্ষণে এক্কেবারে রেডি। তবে মুখে সর্বক্ষণ সঙ্গী সলাজ হাসি। কিছুটা নার্ভাসও ছিলেন কি? সেই তুলনায় মৌরি কিন্তু অনেক বেশি চটপটে। সপ্রতিভ। কিন্তু বধু বেসে মানালিকে ছাদনাতলায় দেখেই সপ্তকের সলাজ হাসি বদলে গেল আত্মবিশ্বাসের হাসিতে। হোক না বহু দিনের চেনা পুরনো প্রেমিকা, বধু বেসে তো দেখা এই প্রথম। তাই সপ্তকের হাসিতে খুশির প্রকাশও লুকিয়ে থাকল না। তারপর? তারপর আর কী? সাতপাকে ঘোরা হল, শুভদৃষ্টি হল, হল মালাবদল, সিঁদুর দান। আগুনকে সাক্ষী করে চার হাত এক হল। সাবেকিয়ানার নিয়মনীতির সঙ্গেই রইল আন্তরিকতার খুনসুটি।
সপ্তক বন্ধনে মৌরি
বর কনের কারওই অকারণ বাহুল্য পছন্দ নয়। তাই বিয়ের দিনে নামী দামি ডিজাইনার পোষাকের বদলে দু`জনেই বেছে নিয়েছিলেন সনাতনী বাঙালি সাজ। আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুবান্ধব বেষ্টিত ঘরোয়া পরিবেশে বর কনের অতি ঘনিষ্ঠ টলিটপাড়ার কিছু চেনা মুখও ছিল। এসেছিলেন অনসূয়া মজুমদার, মানালির অনস্ক্রিন মা সুভদ্রা। ছিলেন রাজদীপ, কাঞ্চনা, রনি, দিশার মতো কেউ কেউ। তবে ইন্ডস্ট্রির সব বিগিদের নিয়ে পার্টি হবে আগামী ৭ তারিখ। ল্যান্ডমার্ক হোটেলে। ওইদিন গোটা টলিউড আসবে নতুন দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে।

কী ছিল মৌরির বিয়ের মেনুতে? আর পাঁচটা বাঙালি বিয়েবাড়ির মতই মৌরির বিয়ের মেনুও বাহুল্যহীন। কিন্তু পরিচ্ছন্ন আর অবশ্যই সুস্বাদু। লাচ্চা পরোটা, ডাল মাখানি, পোনা মাছের কালিয়া, মাটন কষা, দই, মিষ্টি সবকিছুই ছিল মেনুতে। সপ্তক বন্ধনে মৌরি
নিয়মনীতির বিয়ের পর বৌভাতও হচ্ছে একই ভাবে। শোভাবাজার রাজবাড়িতে বসবে বৌভাতের অনুষ্ঠান। বিয়েতে লাল বেনারসি পরলেও বৌভাতে এটকু অন্যরকম সাজই পছন্দ মানালির। ওই দিনের জন্য বেছে নিয়েছেন গোলাপি জরদৌসি। কেমন লাগছে আজ? লাজুক মুখে মানালি জানালেন, "এরকম অভিজ্ঞতা আগে শুটিংয়ে হয়েছে। এখন আনন্দের থেকে বেশি মন খারাপ হচ্ছে। বাপি, মা, দাদু বাড়ির সবাইকে ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যেতে হবে"। একই রকম কথা বললেন মানালির মাও। "আনন্দ হচ্ছে খুবই। কিন্তু খুব খারাপ লাগছে। একটা মাত্র মেয়ে। সে বিয়ে হয়ে চলে যাচ্ছে, খুব খারাপ লাগছে"। মনখারাপের মাঝেই শোনা গেল জামাইয়ের প্রশংসাও।

একজন ছিলেন রিয়্যালিটি শো-এর প্রতিযোগী। অন্যজন বিচারক। ওয়াদা রাহা পেয়ার সে পেয়ার কা....সপ্তকের কণ্ঠে এই গান শুনেই মন দিয়ে ফেলেছিলেন সেলিব্রিটি জাজ মানালি। সেখান থেকেই শুরু প্রেম। সেইসময় শুধু মৌরিকে (মানালি) দেখার জন্যই প্রতিদিন `বউ কথা কও` দেখতেন সপ্তক। ৩ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর বিয়ে। তবে মানালির কথায়, "তিন বছরের প্রেমটা তিন বছর মনেই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এই শুরু হল, এই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে"।

বিয়ের আসরে মৌরিকে দেখুন ১ ডিসেম্বর Showbiz-এ, দুপুর ২:৩০-এ, ২৪ ঘণ্টায়।




First Published: Friday, November 30, 2012, 23:16


comments powered by Disqus