`মাদার ইন্ডিয়া`-কে `না` বিদ্যার

শ্রদ্ধা আর ভালবাসা প্রকাশের উপায় আর পদ্ধতিটা বড় আপেক্ষিক। বলিউডেও ব্যাপরটা ঠিক একইরকম। এই যেমন রামগোপাল ভর্মা আর বিদ্যা বালান। দুজনেই রিমেক যুগের বাসিন্দা (এই কবছর বলিউডে যেভাবে পুরনো সিনেমাকে নতুন করে বানানোর রেওয়াজ চলছে তাতে এখন রিমেক যুগই বলা যায়)। দুজনেই একটা সিনেমাকে নিজেদের পছন্দের একেবারে চরম সীমায় নিয়ে গেছেন।

Updated By: Apr 9, 2013, 02:23 PM IST

শ্রদ্ধা আর ভালবাসা প্রকাশের উপায় আর পদ্ধতিটা বড় আপেক্ষিক। বলিউডেও ব্যাপরটা ঠিক একইরকম। এই যেমন রামগোপাল ভর্মা আর বিদ্যা বালান। দুজনেই রিমেক যুগের বাসিন্দা (এই কবছর বলিউডে যেভাবে পুরনো সিনেমাকে নতুন করে বানানোর রেওয়াজ চলছে তাতে এখন রিমেক যুগই বলা যায়)। দুজনেই একটা সিনেমাকে নিজেদের পছন্দের একেবারে চরম সীমায় নিয়ে গেছেন।
রামগোপাল ভর্মার যেমন `শোলে`, বিদ্যা বালানের তেমনি `মাদার ইন্ডিয়া`। বলিউডের চর্চিত পরিচালক রামু নিজেই বলেছেন, রমেশ সিপ্পির শোলে সিনেমাটা প্রতিদিন অন্তত দশবার করে দেখতেন। বিদ্যা বালান আবার মেহমুদ খানের `মাদার ইন্ডিয়া` খান পাঁচশো বার দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এবার দেখুন দুজনের ভালবাসা আর শ্রদ্ধা জানানোর প্রকারভেদটা।
রামগোপাল ভর্মা তাঁর অতি পছন্দের `শোলে`কে শ্রদ্ধা জানিয়ে বানিয়ে ফেললেন সেই ছবির রিমেক `আগ`। সেই ছবি নিয়ে গোটা দেশে রামু যতই সমালোচিত হন, একটা জিনিস তিনি বারবার বলেছেন, আমি `আগ` বানিয়েছি শোলেকে শ্রদ্ধা জানাবো বলে।
বিদ্যা আবার রামুর চেয়ে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা। বলিউডে ডার্টি পিকচারের নতুন কহানি লেখা এই নায়িকা জানিয়েছেন, তিনি মাদার ইন্ডিয়াকে এতটাই ভালবাসেন যদি কেউ ঐতিহাসিক এই ছবিটি নতুন করে নির্মানের সাহস করেও তাহলে তাতে অভিনয়ের সাহস করবেন না। অথচ মজার কথা বলিউডে বিদ্যার প্রথম ছবিটাই ছিল রিমেক। ২০০৫ সালে প্রদীপ সরকার পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবিটার নাম ছিল `পরিণীতা`

ইতিমধ্যে বিদ্যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের শতবর্ষপুর্তি উপলক্ষে সিনেব্লিটজ পত্রিকার জন্য ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবির পোস্টারে নার্গিসের ভঙ্গিতে এবং ‘সাহেব বিবি গোলাম’ ছবিতে মিনা কুমারির ভঙ্গিতে ফটোসেসন করেছেন।
‘পরিণীতা’ ছবির রিমেকের মাধ্যমে বলিউডে পা রাখা বিদ্যা নিজের জাত চিনিয়েছেন ‘ডার্টি পিকচার’, ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’, ‘কাহানি’ এর মতো ছবির মাধ্যমে। তবে সুযোগ পেলেও কখনও ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবিতে নার্গিসের চরিত্রে কখনও অভিনয়ের সাহস করবেন না তিনি। তার চেয়ে বরং ম্যাগাজিনের পাতাতেই নিজেকে মাদার ইন্ডিয়া হিসেবে দেখতে পছন্দ করবেন তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যা বলেন, ‘আমি মনে করি না কেউ ‘মাদার ইন্ডিয়া’ নতুন করে রিমেক করার মতো দুঃসাহস করবে। তবে যদি সত্যিই সেটা কেউ করে তবে আমি তাকে সেল্যুট জানাবো। কিন্তু এর অংশ হব না। সত্যি এটা আমার পক্ষে করা অসম্ভব।’
প্রসঙ্গত, ১৯৫৭ সালে মেহবুব খানের ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবিটি নার্গিস দত্তের ন্যায়নিষ্ঠ মায়ের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত। ছবিতে তার ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুনীল দত্ত। পরবর্তীতে নার্গিস সেই সুনীল দত্তকেই বিয়ে করেছিলেন। অবিস্মরণীয় এই সিনেমাটি অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়। আজও এই সিনেমাটিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বকালিন সেরাদের তালিকায় প্রথম দিকে রাখা হয়।

.