কেন্দ্রে মন্ত্রী হচ্ছেন প্রদীপ, রাজ্যে দলের দায়িত্বে অধীর!

কেন্দ্রে মন্ত্রী হচ্ছেন প্রদীপ, রাজ্যে দলের দায়িত্বে অধীর!

কেন্দ্রে মন্ত্রী হচ্ছেন প্রদীপ, রাজ্যে দলের দায়িত্বে অধীর!প্রদীপ ভট্টাচার্য না অধীর চৌধুরী ? মন্ত্রী হবেন কে ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দীপা দাশমুন্সিকে বাড়তি গুরুত্ব? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বে নতুন কেউ? তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে একাধিক ফর্মুলার চুলচেরা বিশ্লেষণে এখন ব্যস্ত দিল্লির কংগ্রেস নেতারা। মন্ত্রী কে? বরকত গনি খান চৌধুরী, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, প্রণব মুখোপাধ্যায় ছাড়া এ রাজ্য থেকে কংগ্রেসের কারও ভাগ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের শিকে ছেঁড়েনি।
তৃণমূল চলে যাওয়ার পর এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি নেই। প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হবে কাদের ? সাড়ে তিন বছর ধরে তৃণমূলের চাপ সহ্য করার পর এখন ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যে, বেশ কয়েকটি ফর্মূলা সামনে রেখে এগোতে চাইছে আইসিসি।
 
----------
প্রথম সম্ভাবনা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে প্রদীপ ভট্টাচার্যকে কেন্দ্রে পূর্ণমন্ত্রী করা হল, যা একপ্রকার চূড়ান্ত। রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হল দীপা দাশমুন্সি ও আবু হাসেম খান চৌধুরীকে। সেক্ষেত্রে, অধীর চৌধুরী হবেন নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। 

দ্বিতীয় সম্ভাবনা। প্রদীপ ভট্টাচার্য, অধীর চৌধুরী, দীপা দাশমুন্সি - তিনজনকেই কেন্দ্রে মন্ত্রী করা হল। সেক্ষেত্রে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পাবেন মানস ভুঁইঞা। 

তৃতীয় সম্ভাবনা। প্রদীপ ভট্টাচার্যই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বে রয়ে গেলেন। মন্ত্রী হলেন অধীর চৌধুরী, দীপা দাশমুন্সি, আবু হাসেম খান চৌধুরী।

এর পাশাপাশি, রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ যুব কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নুরকেও আনা হতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই মুহূর্তে একাধিক কৌশলের কথা মাথায় রয়েছে এআইসিসি-র।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দীপা দাশমুন্সি ও অধীর চৌধুরীকে ব্যবহার করতে চাইছেন শাকিল আহমেদরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চড়া সুরের রাজনীতির মোকাবিলায় দীপা দাশমুন্সিকে আরও বেশি করে মাঠে নামানোর কথা ভাবছেন তাঁরা।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্য কংগ্রেসে বড়সড় রদবদল করতে চাইছেন দিল্লির নেতারা। সেক্ষেত্রে, মানস ভুঁইঞাকে পরিষদীয় দলনেতা ও অধীর চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে বিধানসভার ভিতরে-বাইরে আন্দোলন তীব্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

দুহাজার চোদ্দোয় ফের জোট হবে কিনা তা আলাদা প্রশ্ন। তবে, কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একাংশের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চাপ বেড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ওপরেও। তাই, এই মুহূর্তে দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনের রাস্তায় যেতে চাইছেন তাঁরা। যদিও, প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে শেষপর্যন্ত কাকে কোন দায়িত্বে আনা হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই আন্দোলনের তীব্রতা।  

First Published: Tuesday, September 25, 2012, 16:43


comments powered by Disqus