জল্পনা উসকে `বৃহত্তর` দায়িত্বে সম্মতি রাহুলের

চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের কথার জবাব দিলেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের 'ভবিষ্যত্‍ প্রজন্মের নেতা' জানিয়ে দিলেন, দল এবং সরকারে 'আরও সক্রিয় ভূমিকা' পালন করতে তিনি প্রস্তুত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন রাহুলের এই মন্তব্যের পরই উত্তেজনার পারদ উঠেছে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে।

Updated By: Jul 19, 2012, 01:44 PM IST

চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের কথার জবাব দিলেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের 'ভবিষ্যত্‍ প্রজন্মের নেতা' জানিয়ে দিলেন, দল এবং সরকারে 'আরও সক্রিয় ভূমিকা' পালন করতে তিনি প্রস্তুত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন রাহুলের এই মন্তব্যের পরই উত্তেজনার পারদ উঠেছে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা।
বুধবার সংসদে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইউপিএ প্রার্থী হামিদ আনসারির মনোনয়ন পত্র পেশের পর মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, অদূর ভবিষ্যতে দল ও সরকারে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাহুলকেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কংগ্রেস সভানেত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, এ ক্ষেত্রে রাহুলের হয়ে তিনি বা অন্য কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। দশ জনপথবাসিনীর এই মন্তব্যকে ইউপিএ সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য রাহুলের উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির কৌশল বলেই মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল।
২০০৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের পরই সাধারণ নির্বাচনে আমেঠি থেকে দাঁড়িয়ে লোকসভায় যান রাহুল। ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য এবং যুব কংগ্রেস ও এনএসইউআই-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি'র সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন তিনি। তার পর বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে মুখ্য ভূমিকা নিলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে দল বা সরকারের কোনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি ১২ নম্বর তুঘলক লেনের ৪২ বছর বয়সী বাসিন্দা।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নেহরু-গান্ধী পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের রাজনীতিকের 'বৃহত্তর' দায়িত্বগ্রহণের সম্ভাবনায় স্বভাবতই প্রবল উত্‍সাহের সঞ্চার হয়েছে একের পর এক নির্বাচনী পরাজয়ে হতোদ্যম কংগ্রেস শিবিরে। প্রধানমন্ত্রীর কুরসিতে 'কংগ্রেসের যুবরাজ'-এর অভিষেক ঘটলে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে বলেই মনে করছে দলীয় নেতৃত্বের একটা বড় অংশ।
তবে ২৪ আকবর রোডের অতি উত্‍সাহী নেতা-কর্মীরা রাহুল গান্ধীকে ৭ রেসকোর্স রোডের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে দেখতে চাইলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে দলীয় সংগঠনের মতোই কেন্দ্রীয় সরকারেও কিছুদিন 'শিক্ষানবিশি পর্ব' লালন করা উচিত আমেঠির সাংসদের। উচিত, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতা অর্জন করা। ঠিক যেভাবে ষাটের দশকে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ক্যাবিনেটে তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী হয়ে সরকার পরিচালনার প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধী।

.