রাজেশ খান্নার বং কানেকশন

Update: July 19, 2012 23:36 IST

বাংলা ছবিতে রাজেশ খান্না কাজ না করলেও, বাংলার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল গভীর। ইতিহাসবিদ এস এম এম আহুজার বক্তব্য "তিনি নিজে কোন বাংলা ছবিতে কাজ না করলেও, তিনি প্রচুর বাঙালি চিত্র পরিচালকের ছবিতে কাজ করেছেন। যার প্রায় প্রত্যেকটাই সফল"।

হৃষীকেশ মুখার্জির ছবি `আনন্দ` ছিল তাঁর জীবনের সফলতম ছবি। আর এই ছবির সংলাপ মন কেড়েছিল দর্শকদের। এই ছবিতে অমিতাভ বচ্চনকে বাঙালি ডাক্তার ভাস্কর ব্যানার্জির ভূমিকায় দেখা যায়। অমিতাভ বচ্চনের উদ্দেশ্যে তাঁর "বাবু মশাই" সম্বোধন এতটাই জনপ্রিয় হয় যে সারা দেশে বাঙ্গালিদের সমার্থক শব্দ হিসেবে উচ্চারিত হতো। জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত পরিচালক ঋতুপর্ন ঘোষের দাবী, ধুতি পাঞ্জাবিতে রাজেশ খান্না নিজেকে বাঙালি হিসেবে বাঙ্গালির ঐতিহ্য তুলে ধরেন সারা দেশের সামনে। ১৯৬৯ সালের `আরাধনা` ছিল প্রথম ছবি যা বাঙালি ঐতিহ্যকে বহন করে পর্দায় আসে এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই ছবির পরিচালক ছিলেন শক্তি শামন্ত। রাজেশ খান্নার বিপরীতে অভিনয় করেছিলান বিখ্যাত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। ছবির গান `রুপ তেরা মস্তানা` গায়ক ছিলেন আরেকজন বাঙালি কিশোর কুমার। ব্যক্তিগত জীবনেও কিশোরকুমার, আরডি বর্মনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল গভীর। ৩ জনের এই ম্যাজিক্যাল জুটি একসঙ্গে কাজ করেছেন প্রায় ৩০টি ছবিতে।

শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে কাজ করেছেন `সফর,` `আরাধনা` বা `অমর প্রেম`-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতে। কলকাতায় `অমর প্রেম` ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁর ভক্তদের ভিড়ে প্রায় হাওড়া ব্রিজে শুটিংই করতে পারেননি পরিচালক। শেষপর্যন্ত তাঁর জন্য নকল হাওড়া ব্রিজ তৈরি করতে বাধ্য হন প্রযোজক। রাজেশ খান্না অভিনীত `অনুরোধ` ও `খামোশি` ছিল বিখ্যাত বাংলা ছবি `দেয়া নেয়া` ও `দীপ জ্বেলে যাই`-এর রিমেক। তপন সিনহার ক্লাসিক `গল্পো হলেও সত্যি` থেকে তৈরি হয়েছিল `বাবুর্চি`(১৯৬৬)। বলিউড অভিনেতা হিসেবে জীবনে সবথেকে বেশি বিএফজেএ(বেঙ্গল ফিল্মস জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ডস) পুরস্কারও তাঁরই ঝুলিতে।








Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।