সুদীপ্তদের ১৪ দিনের পুলিস হেফাজত

সুদীপ্তদের ১৪ দিনের পুলিস হেফাজত

সুদীপ্তদের ১৪ দিনের পুলিস হেফাজতচিটফান্ড কাণ্ডে ধৃত সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায় ও অরবিন্দ সিং চৌহানের জামিনের আবেদন খারিজ করল আদালত। তাঁদের সকলকেই ১৪ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বিধাননগর এসিজেএম আদালত। তারা চ্যানেলের করা মামলার ভিত্তিতে আজ জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত। বিচারকরা সুদীপ্তর আইনজীবীর কোনও আবেদনই মানতে চাননি বিচারক। সাত দিনের মধ্যে সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে নথি আদালতের সামনে আনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রায় ঘোষণার পর সুদীপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখার্জিকে রাখা হয় নিউটাউন থানায়। সেখানে তাঁদের টানা কয়েক ঘণ্টা জেরা করেন বিধাননগরের পুলিস কমিশনার রাজীব কুমার।

অরবিন্দ সিং চৌহানকে রাখা হয়েছে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায়। এদিকে আজই চিটফাণ্ড কাণ্ডে ধৃত সারদা গোষ্ঠীর অন্যতম অধিকর্তা মনোজ নাগেলকে ফের আদালতে পেশ করা হবে। 

সারদা গ্রুপের কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ দায়র হয়েছে। পাঁচটির মধ্যে তিনটি দায়ের হয় ১৬ এপ্রিল ও দু'টি ২২ তারিখে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় দায়ের হয় বলে জানা গিয়েছে। এরমধ্যে একটি মামলায় আজ কোর্টে তোলা হল সুদীপ্ত সেনকে। তারা চ্যানেলের করা মামলায় পেশ। তাঁর বিরুদ্ধে ৪২০, ৪০৬, ৫০৬, ১২০বি, ৩৪ নম্বর ধারায় মামলা দায়র করা হয়।

কোন কোন ধারায় কী কী অপরাধ রয়েছে:
৪২০- প্রতারণা, ৪০৬- বিশ্বাসভঙ্গ, ৫০৬- অপরাধ মূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ১২০বি- ষড়যন্ত্র, ৩৪- সংগঠিত অপরাধ। আজ আদালতে আনা হয় সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায় ও অরবিন্দ সিং চৌহানকে। উত্তর বিধাননগর থানা থেকে তিন জনকে আলাদা আলাদা ভাবে বিধাননগর মহকুমা আদালতে আনা হয়। আজ থানা ও আদালত চত্তরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সুদীপ্ত সেনকে বাইরে আনতেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সারদার এজেন্ট ও আমানতকারীরা। তাঁদের এড়িয়ে ধৃতদের আদালতে পেশ করতে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিসকে। বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসের সমর্থকরাও।

সারদা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনকে আজ নিরাপত্তার খাতিরে নিউটাউন থানা থেকে বিধাননগর উত্তর থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। আজ সকাল ৬টায় সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায় ও অরবিন্দ সিং চৌহানকে বিধাননগর উত্তর থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা হয়।

সারদা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনকে বুধবার নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। আনা হয়েছে তাঁর দুই সঙ্গী দেবযানী মুখোপাধ্যায় ও অরবিন্দ সিং চৌহানকে। কলকাতা বিমানবন্দরের কোন গেট থেকে সারদা কর্তাকে নিয়ে যাওয়া হবে সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল। চারদিনের ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হল কলকাতায়।

মঙ্গলবার কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে পুলিসের জালে ধরা পড়েন সুদীপ্ত সেন ও তাঁর দুই সঙ্গী। প্রাথমিক ভাবে পরিচয় না জানালেও পরে কলকাতায় বিধান নগরের কমিশনার রাজীব কুমার ধৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। সকালেই সুদীপ্ত সেন সন্দেহে একটি হোটেল থেকে এঁদের গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নম্বর প্লেট সহ একটি স্করপিও গাড়িও আটক করা হয়েছে। সকালেই বিধান নগর পুলিসের একটি দল সোনমার্গে গিয়ে তাঁদের সনাক্ত করে। বিধান নগর পুলিসের আরও দুটি টিম কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আগামিকাল তাঁদের কাশ্মীরের আদালতে তোলা হবে। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে অথবা সরাসরি বিমান পেলে একেবারে কলকাতাতেই নিয়ে আসা হবে।

প্রাথমিক ভাবে গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের নম্বর প্লেট দেখে সন্দেহ হয় জম্মু কাশ্মীর পুলিসের। তারপর এ রাজ্য থেকে পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে তাঁদের আটক করে পুলিস। সারদা চিট ফান্ডের কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ১৬ এপ্রিল থেকেই গা ঢাকা দেন সুদীপ্ত সেন এবং সারদা চিট ফান্ডের একাধিক কর্তারা। সূত্রে খবর, ধৃত অরবিন্দ সিং চৌহান সারদা গ্রুপের অন্যতম ডাইরেক্টর। দেবযানী দেবী বহু দিন ধরেই সুদীপ্ত বাবুর ছায়াসঙ্গী। সারদা গ্রুপের প্রতারণার যাবতীয় তথ্য, হিসেব নিকেশ নখদর্পনে ছিল তাঁর। পুলিসের তথ্য অনুযায়ী চিটফান্ড কেলেঙ্কারির বিপদ আঁচ করে মার্চের শেষেই গা ঢাকা দিয়ে দেন দেবযানী।











First Published: Friday, April 26, 2013, 08:58


comments powered by Disqus