আপনার চিকিৎসা খরচ কমাতে এবার এসে গেল মোবাইল অ্যাপস, কম দামের একই রাসয়ানিক কম্পোজিশনের ওষুধের সন্ধান এখন হাজির আঙুলের ডগায়

Last Updated: Thursday, February 6, 2014 - 19:00

শত আইন সত্ত্বেও ডাক্তাররা যখন ওষুধের জেনেরিক নাম প্রেসক্রিপশনে না লিখে দামি কোম্পানির ওষুধের ব্র্যান্ড নামই লেখেন তখন আপনাকে বাধ্য হয়েই সেই ওষুধ কিনতে হয়। কারণ একটাই, আপনি জানেনই না অনেক কম দামে একই কম্পোজিশনের একই গুণগত মানের ওষুধ তৈরি করে একাধিক কোম্পানি। কিন্তু এবার মুশকিল আসান আপনার আঙুলের ডগায়। একই কম্পোজিশনের বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন দামের ওষুধের খোঁজ দিতে আপনার অ্যানড্রয়েড ফোনের জন্য আছে একাধিক অ্যাপস।

আপনাকে শুধু ওষুধের ব্র্যান্ড নাম টাইপ করতে হবে অ্যাপস গুলিতে। এই অ্যাপস গুলি নিজে থেকে ওই একই রাসয়ানিক কম্পোজিশনের বিভিন্ন দামের ওষুধের সন্ধান দেবে আপনাকে।

সুজাতা কৃষ্ণান (নাম পরিবর্তিত) মৃগী রোগে আক্রান্ত। ডাক্তার তাঁকে এমন একটি ওষুধের ব্রান্ড নেম প্রেসক্রাইব করেছিলেন যার ১৪টির দাম ৭৬৮.৫৬ টাকা। ৩৯ বছরের সুজাতা মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে জানতে পারেন একই কম্পোজিশনে অন্য একটি কোম্পানি ৫৯ টাকায় ১০ টি ক্যাপসুল বিক্রি করে।

হেলথকার্ট প্লাস, মাই দাওয়াই, গেট মেড-এর মত বহু অ্যাপস এখন টেকস্যাভি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের নিত্যসঙ্গী।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিসাধারণ ভিটামিন বা মাল্টি ভিটামিন, ব্যাথা নিরাময়ক, অ্যালার্জি প্রতিরোধকারী এবং অ্যান্টিবায়োটিকসের বিভিন্ন কোম্পানির ব্র্যান্ড নেম প্রেসক্রিপশনে লিখে থাকেন যে কোম্পানিগুলি থেকে বিবিধ সুবিধা তাঁরা ভোগ করেন। প্রকৃতপক্ষে এইসব কোম্পানিগুলি থেকে প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে বিভিন্ন ঘুষ তাঁরা পান।

বাস্তবে একই রাসয়ানিক কম্পোজিশনের ওষুধের দামের তফাৎ কোম্পানি ভেদে আকাশ পাতাল হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় গ্ল্যাক্সো কোম্পানির একটি অ্যান্টিবায়োটিক অগমেনটিনের প্রতিটির দাম ২৩.৫ টাকা। অ্যামোক্সিসিলিন ও ক্লাভুলানিক অ্যাসিড দ্বারা নির্মিত ওই একই ওষুধ পিফাইজার কোম্পানিও তৈরি করে ওয়ারক্ল্যাভ ডুও নামে। যার প্রতিটির দাম ৮টাকা ২৫ পয়সা।

এই কারণেই আইন অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তাররা ওষুধের ব্র্যান্ড নামের পরিবর্তে জেনেরিক নাম প্রেসক্রাইব করতে আইন অনুযায়ী বাধ্য। তবে যাঁরা বেসরকারি প্র্যাকটিস করেন তাঁদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও আইন না থাকায় বাজারে বেশি মূল্যের ওষুধের রমরমা।

এই নতুন অ্যাপসগুলি খুব সহজেই গ্রাহকদের সমস্যার সমাধান করছে। রোগীরাও বেঁচে যাচ্ছেন অকারণ অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে।



First Published: Thursday, February 6, 2014 - 19:00


comments powered by Disqus