জেনে নিন ভয়ানক জিকা ভাইরাস সম্পর্কে ১০টি তথ্য

জিকা ভাইরাস অনেকটা ডেঙ্গির মতো হলেও, গর্ভস্থ শিশুর ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক ক্ষতিকর।

Sudip Dey | Updated: Oct 10, 2018, 01:05 PM IST
জেনে নিন ভয়ানক জিকা ভাইরাস সম্পর্কে ১০টি তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: ফের উদ্বেগ, আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠল জিকা ভাইরাস। ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একের পর এক ঘটনার খবর আসছে রাজস্থানের জয়পুর থেকে। ভারতে প্রবেশের আগে জিকা ৮৬টি দেশে হানা দিয়ে এসেছে। ভারতে প্রথম জিকা প্রবেশ করে ২০১৭ সালে। তখন আমদাবাদ থেকে জিকা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার খবর আসে। সেই বছর তামিলনাড়ুতেও জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মেলে।

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জনাথন বেল জানান, জিকা ভাইরাসকে প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে আফ্রিকার উগান্ডা-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রথম দিকে জিকা ভাইরাসকে মারাত্মক কোনও রোগ বলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ট্রুডি ল্যাং জিকা ভাইরাসটি নিয়ে গবেষণা করছেন। ট্রপিক্যাল ডিজিজ নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, “জিকা ভাইরাসে যে ধরণের সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে সেগুলি নিয়ে কেউ খুব একটা গবেষণা করেনি। এই ভাইরাস প্রতিরোধের জন্যে টীকা আবিষ্কারের কথাও কেউ ভাবেনি। কিন্তু এখন এই ভাইরাসে যত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মাইক্রোকেফালি সমস্যা নিয়ে এতো বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে যে, প্রশ্নাতীত ভাবেই এ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।”

১. জিকা ভাইরাস কী?

জিকা ভাইরাস অনেকটা ডেঙ্গির মতো হলেও, গর্ভস্থ শিশুর ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক ক্ষতিকর। ডেঙ্গির মতোই জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর আসে। গায়ে র‌্যাশ বের হয়। কনজাঙ্কটিভাইটিস হয়। পেশী ও গ্রন্থিতে ব্যথা শুরু হয় ও মাথাব্যথা হতে থাকে।

২. কী ভাবে ভাইরাসটি ছড়ায়?

এডিস মশার মাধ্যমে দ্রুত এ ভাইরাসটি ছড়ায়। জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে, এমন কোনও রোগীকে এডিস মশা কামড়ানোর মধ্য দিয়ে এর স্থানান্তর হয়। পরে ওই মশাটি অন্য ব্যক্তিদের কামড়ালে তা ছড়াতে থাকে। এই ভাবেই একজন আক্রান্তের থেকে আরেক জনের শরীরে ভাইরাসটি ছড়াতে থাকে।

৩. ভাইরাসটি শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি করে কী ভাবে?

গর্ভবতী মহিলারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করে এবং শিশু বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই জিকা ভাইরাস বিশ্বের তাবড় চিকিত্সক ও গবেষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটির মূল কারণ মাইক্রোসেফালি নামে একটি নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার ও ভাইরাসটির মধ্যে যোগসূত্র। এর কারণে সদ্যজাত শিশুদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিক আকারের চেয়ে ছোট হয়। এ ছাড়া এর কারণে শিশুদের মধ্যে বিকাশজনিত সমস্যা দেখা দেয় এবং কখনও কখনও শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।

৪. বিশ্বের কোন কোন দেশে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি বিপজ্জনক? ভারতে এ রোগটি আক্রমণের সম্ভাবনা কতখানি?

বিশ্বের প্রায় দুই ডজন দেশে এ ভাইরাসটির আশঙ্কা রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ক্যারিবিয়ান, মধ্র আমেরিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান দেশ উল্লেখযোগ্য। এল সালভাদোর, কলম্বিয়া, হন্ডুরাস, ইকুয়েডরের মত দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি ২০১৮ সাল পর্যন্ত মহিলাদের সন্তানধারণের পরিকল্পনা বাতিল করতে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। তারা জানিয়েছে জিকা ভাইরাস দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে হু। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একের পর এক ঘটনার খবর আসছে রাজস্থানের জয়পুর থেকে। ভারতে প্রথম জিকা প্রবেশ করে ২০১৭ সালে। তখন আমদাবাদ থেকে জিকা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার খবর আসে। সেই বছর তামিলনাড়ুতেও জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মেলে।

৫. কী ভাবে বুঝবেন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা?

সংক্রামিত ব্যক্তিদের শরীরে ভাইরাসটির সামান্য উপসর্গ দেখা যায়। যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, র‌্যাশ এবং চোখ গোলাপি রং ধারণ করা ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে শতকরা ৮০ শতাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে, তাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে। এ সব কারণে ভাইরাসটি নির্ণয় করা কঠিন আর এ সুযোগে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে আপনার রোগটি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭. গর্ভাবস্থার কোন পর্যায়ে জিকা ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক?

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে যদি জিকা ভাইরাস আক্রমণ করে তাহলে তা বেশি বিপজ্জনক। এ সময় ভাইরাসটি গর্ভস্থ শিশুর দেহে সংক্রমিত হয় এবং শিশুর বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়।

৮. জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে শিশুরও পরীক্ষা করতে হবে কি?

জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে শিশুরও পরীক্ষা করতে হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে মায়ের কোনও ভাবে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তা হলেই শুধু শিশুর পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

৯. জিকা ভাইরাসের কোনো চিকিৎসা আছে কি?

না। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে এ রোগটি সাধারণ মানুষের তেমন ক্ষতি করে না। কয়েক দিন বিশ্রাম করলেই তা সেরে যায়। শুধু গর্ভবতী মহিলারা আক্রান্ত হলেই গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

১০. জিকা ভাইরাসের কি কোনও টীকা রয়েছে?

না। এখনও জিকা ভাইরাসের কোনও টীকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে টীকা তৈরির চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. You can find out more by clicking this link

Close