পঞ্চাশ পেরিয়ে কি গর্ভধারণ সম্ভব? জেনে নিন...

পঞ্চাশ বছর বয়সে গর্ভধারণে কতটা ঝুঁকি রয়েছে? আসুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী বলছে আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞান।

Updated By: Aug 5, 2018, 11:37 AM IST
পঞ্চাশ পেরিয়ে কি গর্ভধারণ সম্ভব? জেনে নিন...

নিজস্ব প্রতিবেদন: ৩০ বছর বয়সের আগেই মহিলাদের গর্ভধারণে উৎসাহিত করেন অনেকে। কারণ, প্রচলিত মতে, ৩০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সন্তানধারণের ক্ষেত্রে মহিলাদের বেশ কিছু শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। বিবিসি-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বেশি বয়সে মহিলাদের গর্ভধারণে বিষয়ে কী বলছে আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞান।

মেনোপজের পর গর্ভধারণ: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে ৪০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের সন্তান ধারণের প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের সহায়তায় আইভিএফ (IVF) বা টেস্টটিউব বেবি-র প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ৪০ বছর বয়সের পরে তো বটেই, ৫০ বছর বয়স পেরিয়েও মহিলারা গর্ভধারণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

Mother

৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির পর মহিলাদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু বয়স কম থাকতেই যদি মহিলারা নিজেদের ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখেন, তবে ৪০ বা ৫০ বছরের পর সে হিমায়িত ডিম্বানুকে নিষিক্ত করে তাঁরা পরবর্তীকালে আবার গর্ভধারণ করতে পারেন। আবার অন্য মহিলার ডিম্বাণু ব্যবহার করেও তাঁরা আবার গর্ভধারণ করতে পারেন।

আরও পড়ুন: এই লক্ষণগুলি দেখে ঘরে বসেই জেনে নিন আপনি প্রেগন্যান্ট কিনা!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেয়ার ফার্টিলিটি গ্রুপ আইভিএফ ক্লিনিকের ড: জ্যানিন এলসন জানান, বেশি বয়সে সন্তান ধারণ সম্ভব হলেও এতে বেশ কিছু ঝুঁকি সত্যিই থাকে। তাঁদের মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস, প্রি-এক্লাম্পশিয়া উচ্চ কোলেস্টেরল এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে। তবে তাঁদের সাধারণত (ব্রেস্টফিডিং) করাতে কোনও সমস্যা হয় না।

আরও পড়ুন: চিনে নিন জরায়ু ক্যানসারের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ

বেশি বয়সে মা হবার আরেকটি বড় সমস্যা হল, পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থনের অভাব। যদি কোনও মহিলা বেশি বয়সে সন্তানধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে তাঁকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সন্তানের ভবিষ্যত্, শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি, প্রসবকালে মৃত্যু, গর্ভস্থ সন্তানের শারীরিক জটিলতা ইত্যাদি নানা বিষয় উঠে আছে আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশিদের আলোচনায়। চিকিত্সকদের মতে, এই ধরনের আলোচনায় মহিলারা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং সন্তান ধারণের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন। তাই বর্তমান আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের সহায়তায় এবং পারিবারিক সমর্থনে ৪০ বা ৫০ বছরের পরও সন্তান ধারণ সম্ভব।

.