দোষ স্বীকার শ্রীসন্থের, পুলিসের নজরে আরও দুই ক্রিকেটার

Last Updated: Friday, May 17, 2013 - 10:21

দিল্লি পুলিসের মতে, রাহুল দ্রাবিড় বা রাজস্থান রয়ালসের মালিক রাজ কুন্দ্রা ও শীল্পা শেঠিকে জেরা করার কোনও মানেই নেই। দলের তিন জন ক্রিকেটার ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সত্ত্বেও, এই ঘটনায় এঁদের জরিত থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে পুলিস। বিকেলের দিকে রাজস্থান রয়েল চ্যালেঞ্জার ক্যাপ্টেন রাহুল দ্রাবিড়কে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিস। সূত্র মারফৎ জানা যায়, তদন্তে রাহুল ও দলের অন্যরা সাহায্য করতে পারেন। পুলিসের নজরে রয়েছে আরও ক্রিকেটার। বেশকিছু ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানিয়েছে মুম্বই পুলিস।  যুগ্ম কমিশনর হিমাংশু রায় জানিয়েছে, "কালবা দেবী এলাকা থেকে বেশকিছু বুকিকে আটক করা হয়েছে। দুবাই ও পাকিস্তানে তাঁদের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে পুলিস। একটি দলের শুধুমাত্র তিনজন ক্রিকেটারের জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।" অর্থাৎ পুলিস মনে করছে, আইপিএল ছয়ের বৃহত্তম ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ডে আরও খেলোয়াড় জড়িত রয়েছেন।
স্পটফিক্সিংয়ের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন এস শ্রীসন্থ। পুলিস সূত্রে খবর আজ জেরায় নিজের অপরাধ কবুল করেছেন এই ভারতীয় পেসার। তিনি জানিয়েছেন জিজু জনার্ধন নামের এক বুকি তাঁকে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। এর আগে অবশ্য পুলিসি জেরায় ভেঙে পড়েন আর এক অভিযুক্ত অঙ্কিত চৌহান। তিনিও তাঁর দোষ কবুল করেছেন বলে খবর।
আইপিএলে চাঞ্চল্যকর স্পটফিক্সিংয়ে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের যোগাযোগের সম্ভাবনা তীব্র হয়ে উঠল। সূত্রে খবর এই গোটা স্পট ফিক্সিং সাগার মূল মস্তিষ্ক হিসাবে চিহ্নিত সুনীল রামচন্দানি ওরফে সুনীল দুবাই দাউদের অত্যন্ত ঘনিষ্ট। বুকি মহলে অবশ্য এই ব্যক্তি জুপিটার নামেই খ্যাত। চন্দ্রেশ নামক আর এক বুকি টেলিফোনে এই সুনীলকে জুপিটার নামেই সম্বোধন করেছে। অন্যদিকে, বুকিরা টাকার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীসন্থ ও অন্য দুই অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে মহিলা সঙ্গের যোগানও দিয়েছিল বলে তথ্যে উঠে এসেছে।
আইপিএলে স্পট ফিক্সিং বিতর্কে জড়িয়েছে রাজস্থান রয়্যালসের প্রাক্তন ক্রিকেটআর অমিত সিংয়েরও নাম। পুলিস সূত্রে খবর অমিত বুকিদের হয়ে প্লেয়ার দের সঙ্গে যোগাযোগ ক্রতেন গ্রেফতার করা হয়েছে অমিত সিংকে। এরসঙ্গেই পুলিসের স্ক্যানারের তলায় এখন রাজস্থানের ১৫টি ম্যাচ।
বুকিদের সঙ্গে ধৃত ক্রিকেটারদের কথোপকথনের যে টেপ পুলিসের কাছে রয়েছে তার থেকে স্পষ্ট বুকিরা ওই তিনজনের মহিলা এসকর্ট সার্ভিসেরও ব্যবস্থা করেছিল।
মানান ও চাঁদ নামক দুই বুকি অন্ত্যতপক্ষে তিনবার শ্রীসন্থ ও অজিত চান্ডালিয়ার জন্য মহিলা সঙ্গের ব্যবস্থা করেছিল।
সূত্রে খবর, মুম্বইয়ের যে হোটেল থেকে শ্রীসন্থকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানে শ্রীসন্থের সঙ্গে একই কামরায় তখন এক মহিলাও ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিল্লি পুলিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে পদ্ধতিতে এই গোটা ঘটনায় টাকার খেলা চলেছে তা ডি কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগের স্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী।
বিতর্কিত পেসার শ্রীসন্থ সহ রাজস্থান রয়্যালসের দুই বোলারেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি ওভারে রান দেওয়ার জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলেছিল বুকিরা। প্লেয়ারদের ফোন ট্যাপ করে এই তথ্যই পুলিসের হাতে এসেছে।

গতকাল দিল্লি পুলিসের বিশেষ সেল আইপিএল স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে এই তিন ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করে। বিসিসিআই এই তিনজনকেই সাসপেন্ড করেছে।
 দিল্লি পুলিস কমিশনার নীরজ কুমার গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন স্পেশাল সেল ক্রিকেটার ও বুকিদের মধ্যে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোন ট্যাপ করে তারপর ১৪ জন বুকি ও তিন ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করেছে। তবে গতকাল সকাল থেকে আরও ক্রিকেটারদের এই ঘটনায় জড়িত থাকার যে সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে নীরজ কুমার জানিয়েছেন দেশী বা বিদেশী আর কোনও ক্রিকেটারই এই ঘটনায় জড়িত নয়।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ৪২০ (প্রতারণা) ও ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় মামালা করা হয়েছে।



First Published: Friday, May 17, 2013 - 20:34


comments powered by Disqus