শ্লীলতাহানি কাণ্ডে মূল অভিযুক্তই ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের পদে

Last Updated: Thursday, December 19, 2013 - 16:46

ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় মূল অভিযুক্তই ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের পদে! রবীন্দ্রভারতীতে ছাত্রী নিগ্রহে অভিযুক্ত বিশ্বজিত দে-কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ সামলানোর দায়িত্ব দিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।

গত ২৯শে জুলাই। পরীক্ষা শেষে মেসে ফেরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন রবীন্দ্রভারতীর বাংলা স্নাতকোত্তরের ওই ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপি নেতা বিশ্বজিত দে ওরফে বাপ্পা এবং তাঁর সঙ্গীরা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঘরে তাঁকে আটকে রেখে চলে মারধর। সিঁথি থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রী। কয়েকজন অভিযুক্তকে পুলিস গ্রেফতার করলেও ধরা পড়েননি বাপ্পা। নিগৃহীতা ছাত্রী যান মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশনেও।

অগস্টে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর পুলিস বাপ্পাকে গ্রেফতার করে। এখন জামিনে মুক্ত বাপ্পা। সেই বাপ্পাকেই এ বার রবীন্দ্রভারতীর ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের পদে বসালেন টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডা। এবার রবীন্দ্রভারতীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছাত্র সংসদের দখল নিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। বিজয় মিছিলের পর সাধারণ সম্পাদক হিসাবে বাপ্পার নাম ঘোষণা করেন শঙ্কুদেব পণ্ডা। শুধু ছাত্রীর শ্লীলতাহানিই নয়, ক্যাম্পাসে দাদাগিরি, অসামাজিক কাজকর্মের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে বিশ্বজিত দে ওরফে বাপ্পার বিরুদ্ধে।

টিএমসিপি-র একাংশও তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। তবুও, দায়িত্ব পেলেন সেই বাপ্পাই। ২৯ শে জুলাইয়ের ঘটনার পর আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি নিগৃহীতা ছাত্রীর। প্রশ্ন উঠছে, যাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনিই এবার ছাত্র সংসদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে কতটা নিরাপদ বোধ করবেন ওই ছাত্রী? দলের ছাত্র সংগঠনকে প্রকাশ্যেই স্বচ্ছ, সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শঙ্কুদেব পণ্ডাদের কানে কি পৌঁছচ্ছে সে বার্তা?



First Published: Thursday, December 19, 2013 - 16:46


comments powered by Disqus