মানবাধিকারে নারাজ শাসক, স্বীকার কবীরের

Last Updated: Tuesday, December 11, 2012 - 10:07

মানবাধিকার কমিশন শাসকদলের বিরুদ্ধে কোনও সুপারিশ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শাসকদল সেই সুপারিশ মানতে চায় না। গতকাল এ কথা স্বীকার করে নিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গতকাল কলকাতায় এসেছিলেন প্রধান বিচারপতি। তবে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে বর্তমান শাসক দলের সংঘাত যে কোন জায়গায় পৌঁছেছে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে যায় এদিনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলেও আসেননি মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী, হাজির ছিলেন না রাজ্য সরকারের তরফে কোনও প্রতিনিধিও।
সংগ্রামপুর বিষমদকাণ্ডে এক্সসাইজ কমিশনারের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছিল মানবাধিকার কমিশন। সেই সুপারিশ মানেনি রাজ্য সরকার। অম্বিকেশ মহাপাত্রের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও জরিমানা দেওয়ার সুপারিশ করে কমিশন। তাও মানেনি রাজ্য সরকার। অন্য একটি ঘটনার ক্ষেত্রে সরকার জানিয়ে দেয়, তাঁদের পক্ষে কমিশনের সুপারিশ মানা সম্ভব নয়। মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ অনেক ক্ষেত্রেই মানতে চাইছে না রাজ্য সরকার বা শাসকদল। সোমবার কার্যত একথাই স্বীকার করে নিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবীর। তাঁর মতে, সরকার কোনও পরামর্শ না মানলে আদালতের কাছে আবেদন করা উচিত। প্রধানবিচারপতির মতে যে কোনও রাজ্যেই মানবাধিকার কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে  পারস্পরিক বোঝাপরার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় থাকা দরকার।
এদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো সত্বেও উপস্থিত ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী। ফলে মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের কোনও প্রতিনিধিরও অনুপস্থিতি নিয়ে ছিল জোর জল্পনা। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৫১জন বন্দিকে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মুক্তি দেওয়া হবে।
বন্দিমুক্তির সঙ্গে যুক্ত গণসংগঠন গুলি অবশ্য রাজ্য সরকারের দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে এপর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক বন্দিকেই পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়নি। প্রত্যেককেই জামিনে মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সুশীল রায়ের কোনও মামলা এরাজ্যের আদালতে নেই। ফলে তাঁর মুক্তির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কিছু করার নেই বলে দাবি গণসংগঠন গুলির। 



First Published: Tuesday, December 11, 2012 - 10:07


comments powered by Disqus