সর্ষের মধ্যেই ভূত, পুরসভাতে মশার আঁতুর ঘর

সর্ষের মধ্যেই ভূত, পুরসভাতে মশার আঁতুর ঘর

সর্ষের মধ্যেই ভূত, পুরসভাতে মশার আঁতুর ঘরকলকাতার পুরসভার মূল বিল্ডিং-এই বাসা বাঁধছে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গির মশা। মশার লার্ভা জন্মানোর পরিবেশ তৈরি করে রাখার অপরাধে খোদ পুরভবনের কেয়ারটেকারকেই নোটিস ধরিয়েছেন মেয়র ইন কাউন্সিল অতীন ঘোষ। শহরে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের দায়িত্ব যাদের, তাদের ঘরেই মশার আঁতুড়ঘর প্রমাণে বেজায় অস্বস্তিতে পুরকর্তারা।

গতবছর শহরে ডেঙ্গি যে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছিল, এবছর বর্ষার শুরুতেই মহাকরণে তড়িঘড়ি পুর আধিকারিকদের ডেকে পাঠিয়ে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে বৈঠক করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। পুরসভাও গতবারের থেকে ঠেকে শিখে এবার শিক্ষা নিয়ে বর্ষার শুরু থেকেই ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে উঠে পড়ে লেগেছিল।

প্রতি শুক্রবার ওয়ার্ডভিত্তিক মিটিং থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলছিল সচেতনতামূলক প্রচার। গোটা শহরজুড়ে যখন ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার আঁতুড়ঘর ধ্বংসের তোড়জোড় চলছে, তখনই এল পত্রাঘাত। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র ইন কাউন্সিল নোটিশ পাঠালেন পুরসভারই কেয়ারটেকারকে। অভিযোগ, পুরভবনেরই যত্রতত্র বিভিন্ন পাত্রে রয়েছে জমা জল, আর সেই জলেই বংশবৃদ্ধি করছে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী মশা।

দুমাস আগেই পুর কমিশনারকে এবিষয়ে জানিয়েছিল পুরসভারই স্বাস্থ্য দফতর। এমনই দাবি আধিকারিকদের। কিন্তু তাতে টনক নড়েনি। কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। ফলে, খানিকটা বাধ্য হয়েই, পুরসভারই এক দফতর, কেয়ারটেকারকে নোটিস পাঠিয়েছেন। এই নোটিসের অর্থ, এরপর পুর আইনের ৪৯৬ এর ২ ধারায় কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর। নোটিশে বলা হয়েছে, ৫ নম্বর এস এন ব্যানার্জি রোডের পুরসভার মূল ভবনের ওভারহেড রিজার্ভয়ার ট্যাঙ্ক, ফুলের টব, ড্রেন, বেসমেন্ট, ফোয়ারা, ভাঙা পাত্র, এমনকি কনফারেন্স রুম, এবং সর্বোপরি মেয়রের ঘরে রাখা ফুলের টবেও পাওয়া গেছে জীবাণুবাহী মশার লার্ভা। গোটা ঘটনায় যারপরনাই অস্বস্তিতে পড়েছেন পুরকর্তারা।

First Published: Sunday, August 04, 2013, 11:19


comments powered by Disqus