কলকাতা জুড়েও গড়াপেটার জাল, ২৪ ঘণ্টা এক্সক্লুসিভ

Last Updated: Monday, May 20, 2013 - 10:17

স্পট ফিক্সিং। দু অক্ষরের এই শব্দের ধাক্কায় আপাতত টালমাটাল ক্রিকেট বিশ্ব। ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া গ্রাস করেছে আইপিএল-কেও। দুবাই- মুম্বইয়ের পাশাপাশি, জুয়ার ব্যবসায় নাম জড়িয়েছে  কলকাতারও। কীভাবে চলছে এই শহরের ক্রিকেট জুয়া? চব্বিশ ঘন্টার এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট।
কলকাতায় ক্রিকেট জুয়ার শুরু বছর পনেরো আগে শহরের এক অভিজাত ক্লাব থেকে গ্রেফতার করা হয় রাম অবতার নামে এক ব্যক্তিকে। খবরের শিরোনামে উঠে আসে হাওড়ার শ্রী অ্যাপার্টমেন্টের নাম। হদিস মেলে কয়েক কোটি টাকার জুয়া ব্যবসার। ওমপ্রকাশ ধানুকা নামে এক জুয়াড়ির ডায়েরির খোঁজ মেলে উঠে আসে পঞ্চাশজন বুকির নাম, যাঁদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক হ্যানসি ক্রোনিয়ের যোগাযোগ ছিল তদন্তে উঠে আসে বড়বাজারের বসন্ত গুজারি ও গোপাল তিওয়ারির নাম।
মাঝে কিছুদিনের জন্য ক্রিকেট জুয়ার রমরমা কিছুটা কম ছিল। ফের খবর হয় দু হাজার দশে। দু হাজার দশে রাজারহাটে ক্রিকেট জুয়ার আসরের হদিস মেলে, তদন্তে নামে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিস। ২০১১ সালে ফের হাওড়ায় বেটিং চক্রের সন্ধান মেলে, গ্রেফতার করা হয় ৪ জনকে।
ঠিক কীভাবে চলে কোটি কোটি টাকার ক্রিকেট জুয়া। তারজন্য বুকিদের মধ্যে চালু রয়েছে কয়েকটি কোড ওয়ার্ড। সেশন- ১০ ওভারে ম্যাচের ফলাফলের ওপর জুয়া
 লং ডি- তেরো থেকে কুড়ি ওভার পর্যন্ত টি টোয়েন্টি ম্যাচের ফলাফলের ওপর জুয়া। পন্টার- যিনি বাজি ধরছেন। ভাও - বাজির অঙ্ক
শব্দ কয়েকটি মগজস্থ করতে পারলেই কোটি কোটি টাকার জুয়ার ব্যবসার জন্য ক্ষেত্র তৈরি। পন্টার ভাও লাগানোর জন্য ফোন করবে বুকিকে। বুকি দেবে অপশন। রঙিন পোষাক, সাদা বলের আইপিএলে অপশনও অনেক বেশি জানাচ্ছে বুকিরাই। বড়বাজার থেকে রাজারহাট হাওড়া থেকে হুগলি রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে ক্রিকেট জুয়ার জাল। বল প্রতি চলছে কোটি কোটি টাকার জুয়া।
কোটি কোটি টাকা জুয়ার কারবারিদের আটকানোর জন্য নেই কোনও শক্তপোক্ত আইন। দুর্বল আইনের সুযোগ ফাঁক দিয়ে সহজেই গলে যাচ্ছে রাঘব বোয়ালরা। ফুলে ফেঁপে উঠছে ক্রিকেট জুয়ার কারবার। সেই নেটওয়ার্কে দুবাই, মুম্বই, দিল্লির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিচ্ছে কলকাতাও।



First Published: Monday, May 20, 2013 - 10:17


comments powered by Disqus