ভুবনেশ্বরে কৌস্তভের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

Update: February 7, 2013 11:58 IST

ভুবনেশ্বরে দুই ছাত্রের মৃত্যু ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ওড়িশা পুলিস প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, ট্রেনের ধাক্কায় দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, একই সঙ্গে কীভাবে হোস্টেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় দুই ছাত্র? সেইসঙ্গেই ট্রেনের ধাক্কায় কীভাবে একসঙ্গে দুজনের মৃত্যু হল প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। রাতে ভুবনেশ্ব থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে কৌস্তভের দেহ।

ওড়িশায় পড়তে গিয়ে হস্টেল থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল কলকাতার ছাত্র কৌস্তভ দাশগুপ্ত। গতকাল সন্ধ্যায় নিখোঁজ সেই ছাত্রের দেহ উদ্ধার হয় ভুবনেশ্বর স্টেশন লাগোয়া রেল লাইনের ধারে। পাশেই পড়েছিল তাঁর এক সহপাঠীর দেহও। মৃত ছাত্রকে নিয়মিত র‌্যাগিং করা হত বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতে ভুবনেশ্বর থেকে দেহ নিয়ে আসা হয়েছে কলকাতায়। ভুবনেশ্বরের ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্টের প্রথম বর্ষের ছাত্র কৌস্তুভ দাশগুপ্ত। কলেজের হস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করত বেহালা বামাচরণ রায় রোডের বাসিন্দা কৌস্তুভ। মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ মোবাইলে শেষবার মায়ের সঙ্গে কথা হয় কৌস্তুভের। মাকে কৌস্তুভ জানায় বন্ধুর সঙ্গে হস্টেলের বাইরে যাচ্ছে সে। রাতে হস্টেলে ফিরে মাকে ফোন করার কথা ছিল তাঁর। রাত এগারোটা নাগাদ বাবার মোবাইলে ফোন করে হস্টেল সুপার জানান কৌস্তুভ নিখোঁজ। খোঁজ মিলছে না কৌস্তুভের সহপাঠী অভিরূপ পণ্ডারও।

গোটা রাত উতকন্ঠায় কাটিয়ে, বুধবার ভোরে বিমান ধরে ভুবনেশ্বর রওনা হন কৌস্তুভের বাবা কমল দাশগুপ্ত। হস্টেলে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন ভুবনেশ্বর স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে রেল লাইনের ধারে মিলেছে দুই যুবকের দেহ। হাসপাতালে গিয়ে একমাত্র ছেলের মৃতদেহ দেহ সনাক্ত করেন কমলবাবু। পরিবারের অভিযোগ, কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের নিয়মিত র‌্যাগিং-এর শিকার কৌস্তুভ। মাদক দ্রব্য আনানো, হস্টেল সাফাই, রান্না করা, ঠাণ্ডায় অর্ধ নগ্ন অবস্থায় ছাদে দাড় করিয়ে রাখা সহ বিভিন্ন ভাবে কৌস্তুভকে র‌্যাগিং করা হত বলে অভিযোগ উঠেছে।


Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।