`বাস আতঙ্কে` জর্জরিত শহরবাসী

Update: October 12, 2012 11:18 IST

যত দিন যাচ্ছে ততই যেন কলকাতা শহরে বাসে চড়া রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাস্তা থেকে অর্ধেক বাস উধাও। নির্দিষ্ট রুটের বাস পেতে কখনও কখনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত। তারপরও যে বাস আসছে তা বাদুরঝোলা। ওঠার উপায় নেই। বাস মালিকদের স্পষ্ট বক্তব্য ভাড়া না বাড়ালে সব বাস রাস্তায় নামানো অসম্ভব। অন্যদিকে প্রতিদিনকার ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি বাসভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে এই দুর্বিসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিক সরকার।

গত দেড়বছরে ডিজেলের দাম বেড়েছে ১১ বার। কিন্তু বাড়েনি বাসভাড়া। বাস মালিকরা লাগাতার ধর্মঘট করেছেন। সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করেছেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। কারণ সরকার অনড় কিছুতেই বাসভাড়া বাড়াবে না তারা। তাই বাসভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিদিন চরম হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে হাজার হাজার নিত্যযাত্রীকে। বাসভাড়া নিয়ে কী অভিমত যাত্রীদের। কলকাতা এবং শহরতলি থেকে অর্ধেক বাস উধাও। আর সন্ধে নামার পর তো কথাই নেই।
এটাই গত একমাসে পথের বিভীষিকার রোজনামচা। সরকারি হিসেবে সতের হাজারের মতো বাস চলে শুধু কলকাতা শহরে। বর্তমানে সিন্ডিকেটের হিসেব বলছে কোনওদিনই আট হাজারের  বেশি বাস রাস্তায় নামছে না। কোনও বাসই ৪ ট্রিপ করতে রাজি হচ্ছে না। ফলে সন্ধেয় পর এই সংখ্যা এসে দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজারে।  কেন? বাস সিন্ডিকেটের দাবি এই ভাড়ায় বাস চালানো অসম্ভব।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।