চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন আরও দু`জন

Last Updated: Monday, May 6, 2013 - 18:19

চিটফান্ড কেলেঙ্কারির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে এখন শুধু সব খোয়ানোর যন্ত্রণা। সর্বস্বান্ত মানুষের সেই যন্ত্রণাই জন্ম দিয়েছে অপরিসীম ক্ষোভের। সেই ক্ষোভের আঁচে  ঝলসাচ্ছেন বিভিন্ন চিটফান্ডের অসংখ্য ছোটো এবং মাঝারি গোছের এজেন্টরা। লজ্জা, আতঙ্ক আর চূড়ান্ত হতাশা থেকে এজেন্টরা বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। আজও অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু  হয়েছে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে চিটফান্ডের সঙ্গে  জড়িত দু`জনের।
উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের নাটাগড়ের বাসিন্দা  বিধান রায় অর্থলগ্নি সংস্থা অ্যানেক্সের এজেন্ট। আমানতকারীদের থেকে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। গত কয়েকদিন  টাকা ফেরতের দাবিতে ওই এজেন্টের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন আমানতকারীরা। বিক্ষোভ হয় রবিবার রাতেও। এরপর সোমবার সকালে বাড়িতেই ওই এজেন্টের বাবা জগদীশ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, মানসিক উদ্বেগ এবং আতঙ্কে আত্মহত্যর পথ বেছে নিয়েছেন জগদীশবাবু। 
 
হুগলির চুঁচুড়ায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এক চিটফান্ড সংস্থার মালিকের। সোমবার ভোরে  হ্যালো ইন্ডিয়া চিটফান্ড সংস্থার মালিক জয়ন্ত সরকারের মৃতদেহ উদ্ধার হয় তাঁর বাড়ির ছাদ থেকে। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ, রবিবার রাতে বিপ্লব বিশ্বাস, আবদুর রশিদ, অভিজিত্‍ সাহা নামে তিন ব্যক্তি দেখা করেন জয়ন্তবাবুর সঙ্গে। জয়ন্তবাবুর মৃত্যুর জন্য ওই তিনজনকেই দায়ী করেছেন তিনি। জয়ন্তবাবুর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনের  বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিস।  
 
চিটফান্ড কাণ্ডে প্রতারিত হয়ে এপর্যন্ত রাজ্যের বিভান্ন জেলায় আত্মঘাতী হয়েছেন তিন জন আমানতকারী এবং দু জন এজেন্ট। আমানতাকীরদের টাকা মেটাতে না পেরে দেনার দায়ে আত্মঘাতী হয়েছেন  চিটফান্ড সংস্থার এক কর্নধার। সব মিলিয়ে সারদাকাণ্ড এবং চিটাফান্ড কেলেঙ্কারিতে সর্বস্ব খোয়ানোর জেরে রাজ্যে এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে আট জনের। যদিও সর্বস্ব হারানো আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন কিনা সেবিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি রাজ্য সরকার।



First Published: Monday, May 6, 2013 - 18:41


comments powered by Disqus