বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ, মমতার মন্ত্রিসভা থেকে পাল্টা পদত্যাগ কংগ্রসের

Update: September 22, 2012 14:12 IST

অবশেষে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কংগ্রেসের ছ'জন মন্ত্রী। বিকেল পাঁচটা নাগাদ মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন আবু হেনা, আবু নাসের খান চৌধুরী, সুনীল তিরকে, প্রমথনাথ রায় এবং সাবিনা ইয়াসমিন। মহাকরণ থেকে বেরিয়ে এসে মানস ভুঁইঞা জানান, গত এক বছরে কংগ্রেসের মন্ত্রীরা ভাল কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে কংগ্রেসের মন্ত্রীদের যোগাযোগ করার বার্তাও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমর্থন প্রত্যাহার এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে বার্তা নিয়ে এরপর কংগ্রেসের বিদায়ী মন্ত্রীরা যান রাজ্যপালের কাছে।

ষোলো মাসের সম্পর্কের আপাতত ইতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দিলেন কংগ্রেসের ছয় মন্ত্রী। মহাকরণ থেকে এরপর রাজভবন। সরকারের ওপর থেকেও সমর্থন প্রত্যাহারের চিঠি প্রদীপ ভট্টাচার্য তুলে দেন রাজ্যপালের হাতে।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত কংগ্রেস ছিল রাজ্যে সরকারি দল। সন্ধে ছটার পর কংগ্রেসের গায়ে ফের বিরোধী দলের তকমা। কেন ভেস্তে গেল জোট? ষোলো মাসের মধ্যেই কেন ভেঙে গেল গাঁটবন্ধন? সূত্রপাতটা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পদত্যাগ করে। আর তারই জেরে এআইসিসির নির্দেশে পদত্যাগ করতে হল কংগ্রেসের ছয় মন্ত্রীকে। দুই শিবিরের বিচ্ছেদের পর, শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক লাভ লোকসানের অঙ্ক কষা। তৃণমূল শিবির মনে করছে কংগ্রেসকে বাদ দিলে তাদের কোনও ক্ষতি হবে না। অন্যদিকে, কংগ্রেসের বিশ্বাস একলা চললে সাংগঠনির শক্তি তাদের আরও বাড়বে। সব মিলে একটা নতুন সমীকরণের মুখে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।