দুই শরিকের দ্বন্দ্ব বাড়ালো পুরভোট

Last Updated: Tuesday, June 5, 2012 - 22:08

শাসক পক্ষের দুই শরিক কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে জোট হয়নি এই পুরভোটে। ফলে দু`তরফের কাছেই এই পুরভোট ছিল শক্তি পরীক্ষার। ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল নেতা মুকুল রায় দাবি করেন, রাজ্যে একলা লড়ার ক্ষমতা রয়েছে তৃণমূলের। আর কোনও রাজনৈতিক দলকে তৃণমূলের দরকার নেই। এরপরই পাল্টা তোপ দেগেছেন কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরাও। দীপা দাশমুন্সি, প্রদীপ ভট্টাচার্যদের বক্তব্য, ইউপিএ ছেড়ে এসে একলা চলুক তৃণমূল। এই বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ঘিরে ইউপিএ জোটের দুই শরিকের বিবাদ ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। 
এফডিআই, লোকপাল বিল থেকে শুরু করে পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি, একাধিক ইস্যুতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের বিরোধ মাথাচাড়া দিচ্ছিল। কিন্তু সেই সংঘাত ছিল জাতীয় স্তরে। এবার পুরভোটের ফল প্রকাশের পর সেই বিরোধ রাজ্যস্তরেও বড় আকারে সামনে এল। পুরভোটে জোট হয়নি। ফলে রাজ্যের শাসক পক্ষের দুই শরিকের কাছেই এটা ছিল শক্তি পরীক্ষার ভোট। পুরভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, শুধু বিরোধী বাম নয়, শরিক কংগ্রেসকেও পিছনে ফেলে দুর্গাপুর, পাঁশকুড়া, নলহাটি ও ধূপগুড়ি পুরসভায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে মুকুল রায় জানিয়ে দেন, রাজ্যে একা লড়ার যে ক্ষমতা রয়েছে তৃণমূলের, এই ফলাফলই তার প্রমাণ। নাম না করে শরিক কংগ্রেসের উদ্দেশে তাঁর হুমকি, ভবিষ্যতেও একলা চলার ক্ষমতা রাখে তৃণমূল।
 
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই মন্তব্যের পর পাল্টা তোপ দেগেছেন রায়গঞ্জের কংগ্রেস সাংসদ দীপা দাশমুন্সি। এদিন মুকুল রায় তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, রাজ্যে সরকার চালাতে কংগ্রেসকে প্রয়োজন নেই তৃণমূলের। প্রিয়রঞ্জন জায়ার পাল্টা জবাব, কেন্দ্রেও সরকার চালাতে কংগ্রেসের তৃণমূলকে প্রয়োজন আছে কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্যও তৃণমূলকে পাল্টা বিঁধে বলেছেন, তৃণমূল চাইলে রাজ্যে একলা লড়তে প্রস্তুত কংগ্রেসও। পুরভোট মেটার সঙ্গে সঙ্গেই কংগ্রেস ও তৃণমূলের এই তীব্র চাপানউতোর কী রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে অন্য সমীকরণের ইঙ্গিত? রাজনৈতিক মহলে সেই জল্পনা কিন্তু ইতিমধ্যেই মাথাচাড়া দিয়েছে।



First Published: Tuesday, June 5, 2012 - 22:08


comments powered by Disqus