নিক্কোপার্ক পরিদর্শন করলেন গোয়েন্দারা

Update: August 22, 2012 15:46 IST

ওয়াটার রাইড দুর্ঘটনার জেরে আজ নিক্কোপার্ক পরিদর্শন করলেন তদন্তকারী অফিসাররা। উপস্থিত ছিলেন বিধান নগরের পুলিস কমিশরেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। দুর্ঘটনার জেরে আপাতত বন্ধ নিক্কো পার্ক। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ এই দুর্ঘটনার পরই তদন্ত শুরু করেন বিধাননগর কমিশরেটের গোয়েন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন বিধাননগর সিটি পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান। পার্কের নিরাপত্তায় গলদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে বিধাননগর কমিশরেটের আধিকারিকরা। পুলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে গ্রেফতার করা হবে পার্কের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক ও কর্মীদের।

গতকাল দুপুরে পার্কের ওয়েট অ্যাণ্ড ওয়াইল্ড রাইডের একাংশ ভেঙে পড়ায় আহত হন ১৭ জন। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলের ছাত্রছাত্রী। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দুর্ঘটনা বলে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন আহতদের আত্মীয়রা। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ দাবি, নিরাপত্তারক্ষীকে অগ্রাহ্য করে একসঙ্গে অনেকজন রাইডে উঠে পড়াতেই ঘটেছে বিপত্তি। মঙ্গলবারই রাইডের ভেঙে পড়া অংশটি পরীক্ষার জন্য পার্কের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষের তরফে রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, নিরাপত্তারক্ষীদের বারণ না শুনে ওয়াটার স্লাইডে দুজনের পরিবর্তে ২৫ জন উঠে পড়াতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষের তরফে অবশ্য মেনে নেওয়া হয়েছে যে মঙ্গলবার নিক্কোপার্কে নিরাপত্তা যথেষ্ট ছিল না।

বুধবার নিক্কোপার্কের পাশাপাশি আকোয়াটিকাতেও পরিদর্শনে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেখানেও বিভিন্ন রাইডের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখেন তাঁরা।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।