জমি জটে বিশবাঁও জলে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো

জমি জটে বিশবাঁও জলে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো

জমি জটে বিশবাঁও জলে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোজোকা-বিবাদিবাগের পর এবার জমিজটের গেরোয় চূড়ান্ত অনিশ্চিত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। প্রথমটির ক্ষেত্রে এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রেল। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে গোপনে মামলা প্রত্যাহার করে প্রকল্পে নিজেদের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। নেট ফল-কলকাতাকে গতিময় করে তোলার সম্ভাবনা ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে আসছে।

কলকাতাকে গতিময় করে তোলার পথে বড়সড় বাধা তৈরি করল খোদ রাজ্য সরকার। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি মামলা গত ১৯শে ডিসেম্বর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আপাতত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ স্তব্ধ। পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কাজ হয়েছে দুশো কোটি টাকার। প্রকল্পের রূপকার কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক, রাজ্যের পরিবহণ দফতর দায়িত্বে রয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। ঝণ দিচ্ছে জাপানি সংস্থা জাইকা। এ কাজের নোডাল বডি হিসেবে গঠিত হয়েছে কোলকাতা মেট্রো রেল করপোরেশন লিমিটেড বা কেএমআরসিএল।

জটিলতার সূত্রপাত মেট্রোপথ নিয়ে। নিউটাউন থেকে সেক্টর ফাইভ ঘুরে বাইপাস ধরে শিয়ালদা হয়ে এই মেট্রোর আসার কথা ছিল বর্তমান মেট্রো রেলের সেন্ট্রাল স্টেশনে। সেখান থেকে মহাকরণ হয়ে স্ট্র্যান্ড রোড দিয়ে মেট্রোর ঢোকার কথা ছিল হুগলি নদির তলায়। বেরোনোর কথা ওপারের হাওড়া স্টেশনে।

সেইমত সেন্ট্রাল স্টেশনের ওপরে বড় ক্রসওভার স্টেশন করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করে রাজ্যের পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের পরিবহণ দফতর। তাতে আপত্তি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন জমি ও দোকান মালিকেরা। ২০১২ র ৬ই সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য জমি মালিকদের পক্ষে রায় দেন। জানান, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অবৈধ। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চে আপিল করে রাজ্য সরকার। তারা জানায়, কলকাতাকে গতিময় করে তুলতে প্রকল্প অত্যন্ত জরুরি। এই অবস্থায় উপযুক্ত পুনর্বাসন দিতে তারা রাজি। কিন্তু সেন্ট্রাল এলাকায় জমি না পেলে প্রকল্পের কাজই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে গত উনিশে ডিসেম্বর মামলা প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য। কেন হঠাত মামলা প্রত্যাহার? উঠে আসছে বিভিন্ন তথ্য...

১) মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রী হবার পর দাবি তোলেন রেলই এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাধ সাধে রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার। ক্ষমতায় পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দিনেশ ত্রিবেদী ও মুকুল রায়ের মাধ্যমে মমতা ব্যানার্জি প্রকল্প রেলের হাতে দেবার চেষ্টা চালান।

২) তৃণমূল ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর প্রকল্প রেলের হাতে আসবে না রাজ্যের হাতেই থাকবে, তা নিয়ে চাপানউতোর অব্যাহত।

৩) অধীর চৌধুরী রেল প্রতিমন্ত্রী। এই অবস্থায় জমি জটে যদি ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো না হয়, তাহলে রাজনৈতিক ভাবে কংগ্রেসকে চাপে ফেলতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস।

৪) যদি রেল প্রকল্প অধিগ্রহণ করে এবং কোনওভাবে জমি জট কাটানো সম্ভব হয় তাহলেও প্রকল্পের কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন মমতা ব্যানার্জি।

৫) জমি জটের পাশাপাশি রাজনৈতিক টানাপোড়েনও প্রকল্পে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।

রাজ্য সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে সেন্ট্রালে জমি না পাওয়া গেলে, তাদের হাতে একটি বিকল্প প্রস্তাবিত রুট রয়েছে। তা হল কলেজ স্ট্রিট-বৌবাজার-হিন্দ সিনেমা-ধর্মতলা ট্রাম ডিপো-লালদিঘী-মহাকরণ। কিন্তু বেঁকে বসেছে রেল। তাদের দাবি, ঘুরপথে মেট্রোর পরিধি বাড়বে কমপক্ষে ২ কিলোমিটার। খরচ বাড়বে কমপক্ষে ১০০০ কোটি টাকা। যা দেওয়া সম্ভব নয় রেলের পক্ষেও। সবমিলিয়ে কার্যত অনিশ্চিত পূর্ব-পশ্চিমের মেট্রো মেলবন্ধন।


First Published: Saturday, January 05, 2013, 12:08


comments powered by Disqus