ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে মুনাফা লাভের ভাঁওতাবাজি

পরিসংখ্যান বলছে, ফেয়ার প্রাইস বা ন্যায্যমূল্যের এই ওষুধের দোকানে যে দামে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে খোলা বাজারে নির্দিষ্ট ওষুধগুলির দাম অনেকটাই কম। ওষুধের বাজার সম্পর্কে তেমনভাবে ওয়াকিবহাল না থাকায় সাধারণ মানুষ অনেকক্ষেত্রেই ঠকছেন। কীভাবে ঠকছেন তাঁরা? খোলা বাজারে কোন কোন ওষুধের দাম ফেয়ার প্রাইস শপের থেকে কম? ন্যায্যমূল্যের নামে কীভাবে চলছে মুনাফা লাভের ভাঁওতাবাজি? চব্বিশঘণ্টার এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট।

Updated: Mar 20, 2013, 09:48 AM IST

ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান। রাজ্যের ১১টি সরকারি হাসপাতালে চালু হয়ে গেছে। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে, সদম্ভে এই প্রকল্পের যাবতীয় কৃতিত্ব দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।
বাস্তব ছবি অন্য কথা বলছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ফেয়ার প্রাইস বা ন্যায্যমূল্যের এই ওষুধের দোকানে যে দামে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে খোলা বাজারে নির্দিষ্ট ওষুধগুলির দাম অনেকটাই কম। ওষুধের বাজার সম্পর্কে তেমনভাবে ওয়াকিবহাল না থাকায় সাধারণ মানুষ অনেকক্ষেত্রেই ঠকছেন। কীভাবে ঠকছেন তাঁরা? খোলা বাজারে কোন কোন ওষুধের দাম ফেয়ার প্রাইস শপের থেকে কম? ন্যায্যমূল্যের নামে কীভাবে চলছে মুনাফা লাভের ভাঁওতাবাজি? চব্বিশঘণ্টার এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট।
বলা হচ্ছে সরকার নিয়ন্ত্রিত পিপিপি মডেলের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান। বাস্তবে এই প্রকল্পে ওষুধের দামের ওপর রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই জানাচ্ছেন ওষুধ বিক্রেতা ও হোলসেলাররা।
ফেয়ার প্রাইস বা ন্যায্য দাম কোনটা? স্বাস্থ্যদফতর প্রকাশিত তালিকাই বলছে এগারোটি সরকারি হাসপাতালে চালু হওয়া ফেয়ার প্রাইস শপে ছাড়ের পরিমাণ একেকরকম। অথচ ওষুধের এমআরপি নির্দিষ্ট। তাহলে একেকটি হাসপাতালের ফেয়ারপ্রাইস শপে একেকরকম দামে একই ওষুধ কিনছেন ক্রেতারা। যেমন..
এসএসকেএম হাসপাতালে ছাড়ের পরিমাণ ৬৭.২৫ শতাংশ।
মেডিক্যাল কলেজে ছাড়ের পরিমাণ ৬৬.২৫ শতাংশ।
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ৫৬.৬০ শতাংশ।
এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ৫৪.০০ শতাংশ।
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে ৫১.০০ শতাংশ।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ৫১.০০ শতাংশ।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ৫১.০০ শতাংশ।
বারাসত জেলা হাসপাতালে ৬২.০০ শতাংশ।
হাওড়া জেলা হাসপাতালে ৫৭.৩৬ শতাংশ।
নদীয়া জেলা হাসপাতালে ৬০.৫০ শতাংশ।
শিলিগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ৫১.০০ শতাংশ।
কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে পিছিয়ে পড়া বা অনুন্নত জেলা এবং গ্রামাঞ্চলে, যেখানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি, সেখানে মানুষকে শহরাঞ্চলের তুলনায় বেশি দাম দিয়ে একই ওষুধ কিনতে হচ্ছে ফেয়ার প্রাইস শপ থেকে।
সমস্যার আরও একটা বড় দিক, দৈনন্দিন ব্যবহৃত বা ক্রনিক মেডিসিনের বেশিরভাগই এই ফেয়ার প্রাইস শপে নেই। শুধু এসএসকেএম হাসপাতালেই প্রতিদিন এ নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ তুলছেন রোগীর আত্মীয়রা। যেমন ব্লাডসুগারের অপরিহার্য ওষুধ ইনস্যুলিন, সাধারণ জ্বরের ওষুধ প্যারাসিটামল। এছাড়াও নেই অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অ্যামলোডিপিন, নিফেডিপিন, গ্লিমপেরাইড বা ট্রামাডলের মত সাধারণভাবে উপলব্ধ প্রয়োজনীয় ওষুধ। তাতে লাভের তেমন একটা সুযোগ নেই বলেই কি?
নির্দিষ্ট একটি বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা। তারসঙ্গে গাঁটছড়া রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের। ইচ্ছামত দামের মোড়ক। তারপর সেই দামে ছাড় দিয়ে, বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্নরকম দাম। ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ক্রমশঃ তিক্ত হচ্ছে।