দুঃস্বপ্নের সেই রাত

Last Updated: Sunday, December 9, 2012 - 16:38

মৃত্যুপুরী আমরিতে এখনও ঝুলছে তালা। বছর ঘুরে গেলেও আগুনের লেলিহান শিখা এখনও তাড়া করে বেড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। কিন্তু এতকিছুর পরেও তাঁরা চান, ফের খুলুক আমরি। মৃত্যুপুরীতে ফিরুক প্রাণস্পন্দন।  
 
`জতুগৃহ আমরি`। `মৃতের সংখ্যা বাড়ছে`। `এখনও বন্দি রোগীরা`। `অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯৩ জন`। মাত্র একবছর আগের কথা। আমরি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছিল ৯৩ জনের। একজন বাদে সকলেই হাসপাতালে চিকিতসাধীন ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থাতেই বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সকলে।
 
আজ ৯ ডিসেম্বর। কেটে গেল দুঃস্বপ্নের একবছর। অগ্নিকাণ্ডের পরদিন থেকে বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকুরিয়া আমরির দুটি ইউনিটই। হাসপাতালের কর্মকর্তারা দীর্ঘ হাজতবাসের পর আপাতত জামিনে মুক্ত। কিন্তু চোখ বন্ধ করলে এখনও ভেসে আসে সেই  দিনের অসহনীয় ছবিটা। একের পর এক মৃত্যুমিছিল, স্বজন হারাদের হাহাকার। যাঁদের সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল পরেরদিন, তাঁদের স্বজনরা মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানের লাইনে।
 
কেমন আছে এখন আমরি? একটা ইউনিটে রাতের অন্ধকারে কাজ চললেও ভেতরে ঢোকা নিষিদ্ধ। নিষেধ ছিল সেদিনও। যেকারণে আগুন লাগার পরেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি স্থানীয় যুবকরা। ঢুকতে পারলে হয়তো বা বেঁচে যেত পারত কয়েকটা প্রাণ। তবুও শেষবেলায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কয়েকজনকে বাঁচাতে পেরেছিলেন স্থানীয় যুবকরা। সাহসিকতার পুরষ্কারের বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে তানিয়ে দলাদলির অভিযোগ একবছর পরেও মেটেনি। তবে এতকিছুর পরেও কিন্তু ফের আমরি খুলুক এমনটাই চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত্যুপুরী হয়ে উঠুক জীবনদানের ঠিকানা। 



First Published: Sunday, December 9, 2012 - 16:38


comments powered by Disqus