মহেশতলার বস্তিতে আগুন, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পুর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

Last Updated: Saturday, March 16, 2013 - 09:24

আবার সেই সাজানো ঘটনা তত্ত্ব। আবার মুখ্যমন্ত্রী। মহেশতলার ষোলোবিঘা
বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ছোট বলে ব্যাখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ হেন মন্তব্যের পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। অগ্নিকাণ্ডের
ঘটনায় তার দল জড়িয়ে পড়ায় কি মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা
করছেন মমতা!
৭০০ ঝুপড়ি পুড়ে যাওয়ার পর, ঘটনাস্থলে না গিয়েই কীভাবে এই ব্যাখ্যা দিলেন তিনি? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে৷ সমালোচনায় সরব বিরোধীরা৷ ঘটনা ঘটলেই চটজলদি নিদান দেন তিনি৷ রাজ্য রাজনীতির নয়া ট্র্যাডিশন৷ তালিকায় নবতম সংযোজন মহেশতলার ঝুপড়িতে অগ্নিকাণ্ড৷ যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, ঘটনাস্থল চোখে না দেখেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, এটা ছোট আগুন৷
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফের অস্বস্তিতে শাসক দল। মহেশতলার ষোলোবিঘা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িয়ে গেল মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান ও স্থানীয় তৃণমূলের পুরমাতা দীপিকা দত্তর নাম। তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিস। এফআরআইয়ে নাম না করে ষড়যন্ত্রের মূল অভিযুক্ত বলা হয়েছে মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাসকে। মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাস সম্পর্কে কলকাতা পুরসভার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের শ্বশুর। এই এফআরআইয়ের সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে স্থানীয় পুরমাতা দীপিকা দত্তের বিরুদ্ধে। এই দু'জনসহ মোট এফআইআর-এ নাম থাকা মোট ১১জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিস।  
আজ ভোররাতে হঠাত্ই আগুন লেগে যায় মহেশতলা থানার অন্তর্গত এই বসতি এলাকায়। আগুনের কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হঠাত্ই আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তাঁরা। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বস্তিউচ্ছেদ করে জমিদখলের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। তার জেরেই বস্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।  এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে প্রোমোটিং চক্র আছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
এর আগে এই বস্তিতে আগুন লেগেছিল ২০১২-র ২০ নভেম্বর। মৃত্যু হয়েছিল এক শিশুর। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ফের আগুনে পুড়ে গেল ষোলো বিঘা বস্তি। ঘিঞ্জি এলাকায় মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আশপাশে প্রচুর দাহ্য বস্তু থাকায় দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গোটা বস্তি। দমকলের ১৮টি ইঞ্জিন কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে এখনও কোনও হাতহতের খবর নেই। তবে ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই গৃহহীন বস্তিবাসী প্রায় ৭০০ পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বস্তি উচ্ছেদ করে জমিদখলের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। তার জেরেই বস্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিস।



First Published: Saturday, March 16, 2013 - 21:42


comments powered by Disqus