এখনও আতঙ্ক কাটেনি গল্ফ গার্ডেনে নিগৃহীতা মহিলার

Update: August 21, 2012 18:05 IST

ঘটনার চারদিন পরেও আতঙ্ক কাটেনি। গল্ফ গার্ডেন গণধর্ষণকাণ্ডে  মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা বাকিরা। আজই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন  নিগৃহীতা মহিলা। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।

তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ভাবতে পারছেন না নিগৃহীতা মহিলার স্বামী। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিরাপত্তার অভাববোধ করায় প্রশাসনের সাহায্য চাওয়ার কথাও ভাবছেন নিগৃহীতার স্বামী। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে যাদবপুর থানার পুলিস। 

এদিকে মঙ্গলবার ক্যামেরার সামনে মুখ খোলেন গল্ফ গার্ডেন গণধর্ষণকাণ্ডে নিগৃহীতা মহিলা। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধেয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছেলের ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় তিন জন যুবক তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। জোর করে এলাকার একটি ঘরে ঢুকিয়ে স্থানীয় এক যুবক তাঁকে ধর্ষণ করে বলে জানিয়েছেন মহিলা।

শুক্রবার ভর সন্ধেতে টালিগঞ্জের আনোয়ার শাহ রোড এলাকায় ওই মহিলাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দার জানিয়েছেন সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে বেড়িয়েছিলেন ওই মহিলা। তখনই তাঁকে তুলে নিয়ে যায় জনা ছয় দুষ্কৃতী। একটি ফাঁকা গুমটি ঘরে নিয়ে গিয়ে মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ। রাত আটটা নাগাদ ওই গুমটি ঘর থেকেই মহিলাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল থেকেই মূল অভিযুক্ত শরিফ আলিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে ক্ষিপ্ত জনতা। তাকে স্থানীয় একটি ক্লাবে আটকে রেখে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ খবর দেওয়া হয় যাদবপুর থানায়। পরে রাত নটা নাগাদ ঘটনাস্থলে এসে শরিফ আলি ওরফে চিনুকে আটক করে পুলিস।


প্রথমে শারীরিক পরীক্ষার জন্য এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আক্রান্ত মহিলাকে। তবে জখম গুরুতর হওয়ায় রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ চিত্তররঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ধর্ষিতাকে। শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি চিকিত্সাও চলছে ওই মহিলার। পুলিসসূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে মূল অভিযুক্ত শরিফ আলির বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনই এলাকায় নির্মাণ কাজের ঠিকা শ্রমিক বলেও জানতে পেরেছে পুলিস। নির্মীয়মাণ বহুতলটির প্রোমোটারের সঙ্গেও একাধিক সময় ঠিকার কাজ করেছে বলেও খবর। স্থানীয় মানুষ আরও অভিযোগ করেন যে ওই গুমটি ঘরটি ওই বহুতলের প্রোমোটারের অফিস হলেও প্রত্যেক সন্ধেয় অভিযুক্তরা ওখানে মদ ও জুয়ার আসর বসত।

যেভাবে ভর সন্ধ্যায় খাস কলকাতার বুকে মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটল, তাতে মহিলাদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি আরও একবার সামনে চলে এল। সেই গল্ফ গার্ডেন গণধর্ষণের ঘটনার জেরে প্রকাশ্যে চলে এসেছে এই এলাকায় স্থানীয় যুবকদের দৌরাত্ব্যের কথাও। এলাকার মহিলাদের অভিযোগ, প্রায়শই তাদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় স্থানীয় যুবকরাই নানা অশ্লীল আচরণ করে বলে অভিযোগ। এমনকী ছোট ছোট স্কুলছাত্রীদেরও প্রায়শই উত্ত্যক্ত করা হয় বলেও অভিযোগ।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।