কমিশনকে যথাযথ পর্যবেক্ষক তালিকা দিতে ব্যর্থ সরকার

পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে কমিশন প্রত্যেক ব্লকে একজন করে পর্যবেক্ষক রাখতে চেয়েছিল। আর সেকারণেই ৪০০ জন পর্যবেক্ষকের নামের তালিকা চেয়ে এক মাস আগে রাজ্যকে চিঠি দেয় কমিশন। এক মাসে ৪০০ জনের তালিকা তো রাজ্য তৈরি করতে পারেইনি, উল্টে বেশ কয়েকবার এমন তালিকা পাঠানো হয় যা অসম্পূর্ণ বা ভুলে ভরা। 

Updated: May 12, 2013, 10:36 AM IST

পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে কমিশন প্রত্যেক ব্লকে একজন করে পর্যবেক্ষক রাখতে চেয়েছিল। আর সেকারণেই ৪০০ জন পর্যবেক্ষকের নামের তালিকা চেয়ে এক মাস আগে রাজ্যকে চিঠি দেয় কমিশন। এক মাসে ৪০০ জনের তালিকা তো রাজ্য তৈরি করতে পারেইনি, উল্টে বেশ কয়েকবার এমন তালিকা পাঠানো হয় যা অসম্পূর্ণ বা ভুলে ভরা। 
পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার প্রশ্নে প্রথম থেকেই কমিশন ও রাজ্যের মধ্যে সংঘাত চলছিল। পর্যবেক্ষক নিয়ে সংঘাতের সূত্রপাতও একমাস আগেই। ওই সময় কমিশন রাজ্যকে জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতি ব্লকে একজন করে পর্যবেক্ষক চাই। রাজ্যে এই মুহূর্তে ৩৪১টি ব্লক। প্রতি ব্লকে একজন পর্যবেক্ষক দেওয়া হবে। এছাড়াও ভোটগণনার সময় বাড়তি পর্যবেক্ষক রাখা হবে। কিছু পর্যবেক্ষককে রিজার্ভে রাখা হবে। ফলে মোট চারশো পর্যবেক্ষকের নাম পাঠাতে বলে কমিশন। কিন্তু পর্যবেক্ষকের তালিকা পাঠানোর প্রশ্নে প্রথম থেকেই চরম ব্যর্থতা দেখায় সরকার।
প্রথম তালিকায় যেসব অফিসারের নাম পাঠানো হয় তাতে তাঁদের অফিসের ঠিকানা কিংবা পদ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা ছিল না। দ্বিতীয় তালিকায় তেইশ জন মহকুমা শাসকের নাম পাঠানো হয়। কমিশন ওই ২৩টি নাম নিয়ে আপত্তি তোলে। বলা হয়, পঞ্চায়েত নির্বাচনে মহকুমা শাসকরা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। তাঁরা কিভাবে পর্যবেক্ষক হবেন?
এছাড়াও পর্যবেক্ষকের তালিকায় ডব্লুবিসিএস অফিসারের পাশাপাশি আইএএস অফিসারদেরও নাম যুক্ত করতে বলে কমিশন। এরপর সাঁইত্রিশ জন প্রোমোটি আইএএস অফিসারদের নাম পাঠানো হয়।
শেষমেষ ২৮২ জনের নামের তালিকা পাঠালেও বাকি একশো আঠারো জনের নাম এখনও পর্যন্ত পাঠাতে পারেনি সরকার। কমিশনের সচিব শনিবার জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ সত্বেও এদিনও তালিকা পাঠায়নি রাজ্য।
শুক্রবারই পঞ্চায়েতমন্ত্রী দাবি করেছেন, একদিনের মধ্যে এই তালিকা দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও একমাস আগেই এই চারশো জন পর্যবেক্ষকের নাম চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, একমাস সময় পেয়েও এই তালিকা কেন দেওয়া গেল না? এতদিন তাহলে কী করছিল সরকার?