প্রবল গরমে শহরে মৃত্যু দু জনের

Last Updated: Wednesday, April 23, 2014 - 15:02

প্রবল গরমে শহরে মৃত্যু হল দু জনের। গতকাল রাতে কে সি রোড এলাকায় এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্‍সকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি তারপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

অন্যদিকে, গতকাল রাত সাড়ে ন টা নাগাদ নর্দার্ন অ্যাভিনিউ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্‍সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল কলকাতার সরর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ পৌঁছয় চল্লিশের কোঠায়।

পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অস্বস্তিসূচকও, স্বাভাবিকের চেয়ে দশ ডিগ্রি বেশি। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ এবং রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহ চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আগামি চব্বিশ ঘণ্টায় বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।

টানা পাঁচদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ডিগ্রি বেশি, এমন পরিস্থিতেকেই তাপপ্রবাহ বলা যায়। জানাচ্ছে ওয়ার্ল্ড মেটেরিওলজিক্যাল অর্গানাইজেশন।

তবে একই সঙ্গে সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এর কোনও ধরাবাঁধা ফর্মূলা নেই। নির্দিষ্ট অঞ্চলের কোনও মরশুমের স্বাভাবিক তাপমাত্রার নিরিখেই বিচার করতে হবে তাপপ্রবাহ চলছে কিনা। কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে গত কয়েকদিনের পরিস্থিত ঠিক তেমনই।

৫দিনে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
১৮ এপ্রিল ৩৮.৭ ডিগ্রি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৫ ডিগ্রি বেশি
১৯ এপ্রিল ৩৭.৫ ডিগ্রি স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৩ ডিগ্রি বেশি
২০ এপ্রিল ৩৮.১ ডিগ্রি স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৯ ডিগ্রি বেশি
২১ এপ্রিল ৩৯.১ ডিগ্রি স্বাবাভিকের চেয়ে ৩.৯ ডিগ্রি বেশি
২২ এপ্রিল ৪০ ডিগ্রি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি বেশি

একটানা প্রবল গরমের জেরে বাতাসে কমছে জলীয় বাষ্পের পরিমান । বাড়ছে শুকনো গরম হাওয়ার দাপটও। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্প না থাকার কারণে তৈরি হচ্ছে না কালবৈশাখীর পরিস্থিতি। এছাড়া কাশ্মীর উপত্যাকায় বেশ কয়েকটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে তীব্র গরমের হাত থেকে ক্ষনিকের রেহাই পেতে মানুষজন ক্রমেই ভিড় জমাচ্ছেন শহরের ওয়াটার পার্কগুলিতে।



First Published: Wednesday, April 23, 2014 - 14:57


comments powered by Disqus